তারুণ্যের প্রত্যাশার ভোট উৎসব আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল। ১০ বছরে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসব মুখর হয়নি। এর মধ্যে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে বিএনপি, জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতে করে নেয়। এতে করে সংক্ষুব্ধ হয় ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিরা। এক তরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে সারাদেশে ক্ষোভ তৈরি হয়। এই দীর্ঘ সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা হামলা ও মামলার শিকার হন। অনেকে গুম হয়েছেন। কাউকে কাউকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তরুণ প্রজন্ম আন্দোলন করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়। এরপর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ৩০ বছর পর এবার আওয়ামী লীগ ছাড়া এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই নির্বাচনে অভিজ্ঞ বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে অনভিজ্ঞ জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের লড়াই হচ্ছে। কোথাও কোথাও নতুন প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। ইতিমধ্যে কুমিল্লার ১১ টি সংসদীয় আসনে নবীন প্রার্থীরা নির্বাচনকে উৎসব মুখর করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ব্যালটে ভোট হবে। চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। কুমিল্লার ১১ টি আসনে ৮৩ জন প্রার্থী আছে। এর মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদের কামরুন্নাহার সাথী ও কুমিল্লা-৫ আসনে জেএসডির শিরিন সুলতানা। কুমিল্লা-৪ ( দেবীদ্বার) আসনে এনসিপির মো. আবুল হাসনাত, কুমিল্লা- ৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীকের আতিকুল আলম শাওনের দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর থাকবে।

তবে বিএনপি বলছে , জামায়াতের গুপ্ত ভোটার নিয়ে আমরা শংকায় আছি। জামায়াত বলছে, তরুণ প্রজন্ম এবার জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণা করে আমাদের ভোট দেবে।

জানতে চাইলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, কুমিল্লার পুরো জেলায় ৫৫ প্লাটুন ( প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) সেনাবাহিনী, বিজিবি ৩৯ প্লাটুন ( প্রতি প্লাটুনে ১৬ জন ), র‌্যাব ২৪ প্লাটুন ( প্রতি প্লাটুনে ৭ জন করে) ও ১৯ হাজার ৩৮৩ জন আনসার থাকবেন। রয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৯ জন পুলিশ। কুমিল্লায় এক সময়ে সরকারি করতেন এখন সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে আছেন এমন ব্যক্তিরাও বিভিন্ন আসনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। ৬৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ১৩ টি নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ৩০ বছর পর আওয়ামী লীগ এবার আবার নির্বাচনে নেই ( দলকে নিষিদ্ধ করার কারণে)। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে আজ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে বেশির ভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এদিকে গতকাল বুধবার বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত মাইক্রোবাসে চারটি নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে , বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বাড়ি এসেছেন। তাঁরা ভোটকেন্দ্র ও হাট বাজারে ঝটলা পাকাচ্ছেন। সবখানেই উৎসবের আমেজ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, নির্বাচন উৎসব মুখর হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কেউ হাঙ্গামা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত