গাজীউল হক সোহাগ

১৯৬৫ থেকে ২০২৫। ছয় দশকের নিবন্ধিত ১ হাজার ৫৯৩ জন নবীন প্রবীন শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় মুখর কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) খেলার মাঠ। আজ রোববার সারাদিনমান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের (রবীন্দ্রনাথ ও সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসকে একত্রে নিউ হোস্টেল বলা হয়) বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, আড্ডা, নাচে-গানে মুখর করে তোলে। এতে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পুরানো সেই দিনের কথা তুলে তাঁরা স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেন।
সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। এরপর বার্ড আঙিনায় শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রাটি বার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খেলার মাঠে এসে শেষ হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ব্যাচভিত্তিক প্লেকার্ড নিয়ে মঞ্চে গিয়ে ছবি তোলেন।
পরে বক্তব্য রাখেন ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের ১৪ নম্বর কক্ষের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ১৯৬৬ সালের শিক্ষার্থী বাসদের কমরেড খালেকুজ্জামান, ১৯৭৭ সালের শিক্ষার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া, ৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাসার ভূঁঞা, কলেজের ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আলম, এসোসিয়েশনের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এস এম খোরশেদ আলম মজুমদার ও সদস্য সচিব ডা. মো. আতাউর রহমান জসীম।
নিউ হোস্টেল এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ হোস্টেল প্রথম গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন’।

এইচএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নিউ হোস্টেল আমাদের প্রাণ। আমাদের অস্তিত্ব। এখানে এসে ভালো লেগেছে।
১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহ নুর আলম বলেন, এ অনুষ্ঠানে এসে ভালো লাগছে। অনেকদিন পর সবার সঙ্গে দেখা হলো।
১৯৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এম হায়াতুন নবী, চিকিৎসক মো. আবদুস সালাম, বার্ডের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দিচ্ছি, হোস্টেল জীবনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে হেসেছি।
১৯৯৪ ব্যাচের নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, মোস্তফা কামাল শাহীন, আলী হোসেন বলেন, নিউ হোস্টেল আমাদের এক আবেগের নাম।
১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী অশোকেশ চাকমা বলেন, হোস্টেলে সেইরকম আড্ডা দিয়েছি।
বিকেলে শিল্পী কনকচাঁপা, কাজী ইকরাম মোস্তাফিজ পপলু সংগীত পরিবেশন করেন। রাতে র্যাফেল ড্রয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ চর্থা মৌজার টমছমব্রিজ এলাকায় নিউ হোস্টেলের অবস্থান। এখানে দুইটি হোস্টেল আছে। একটি রবীন্দ্রনাথ, অন্যটি সোহরাওয়ার্দী। দুইটিকে একত্রে নিউ হোস্টেল বলা হয়। হোস্টেলের ভেতরে আছে পুকুর। পুকুরের পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে সোহরাওয়ার্দী ও উত্তরপাড়ে রবীন্দ্রনাথ। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ পাড়ে বহুতল পাকা ভবন হয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন পাকা ভবনে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা থাকেন। অন্য ভবন গুলো পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ। নিউ হোস্টেল ভিক্টোরিয়া কলেজের গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম থাকার জায়গা। এক সময় এখানে শত শত শিক্ষার্থী থাকতো। এখন কমে এসেছে। থাকার মতো পরিবেশ নেই। এই হোস্টেলের জায়গার দিকে ক্ষমতাসীনদের চোখ। আওয়ামী লীগ আমলে রবীন্দ্রনাথ হোস্টেলের বিশাল জায়গা নিয়ে নেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখন নিউ হোস্টেলের পশ্চিম পাশের বিশাল জায়গায় ইউটার্ন করতে চায় সিটি করপোরেশন। এতে করে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে হয় প্রথম পুনর্মিলনী।

১৯৬৫ থেকে ২০২৫। ছয় দশকের নিবন্ধিত ১ হাজার ৫৯৩ জন নবীন প্রবীন শিক্ষার্থীর মিলনমেলায় মুখর কুমিল্লার কোটবাড়িতে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) খেলার মাঠ। আজ রোববার সারাদিনমান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের (রবীন্দ্রনাথ ও সোহরাওয়ার্দী ছাত্রাবাসকে একত্রে নিউ হোস্টেল বলা হয়) বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, আড্ডা, নাচে-গানে মুখর করে তোলে। এতে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পুরানো সেই দিনের কথা তুলে তাঁরা স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেন।
সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। এরপর বার্ড আঙিনায় শোভাযাত্রা হয়। শোভাযাত্রাটি বার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খেলার মাঠে এসে শেষ হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ব্যাচভিত্তিক প্লেকার্ড নিয়ে মঞ্চে গিয়ে ছবি তোলেন।
পরে বক্তব্য রাখেন ১৯৬৫ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের ১৪ নম্বর কক্ষের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থী সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ১৯৬৬ সালের শিক্ষার্থী বাসদের কমরেড খালেকুজ্জামান, ১৯৭৭ সালের শিক্ষার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া, ৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাসার ভূঁঞা, কলেজের ১৯৮৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মো. শাহ আলম, এসোসিয়েশনের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এস এম খোরশেদ আলম মজুমদার ও সদস্য সচিব ডা. মো. আতাউর রহমান জসীম।
নিউ হোস্টেল এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিউ হোস্টেল প্রথম গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন’।

এইচএসসি ১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নিউ হোস্টেল আমাদের প্রাণ। আমাদের অস্তিত্ব। এখানে এসে ভালো লেগেছে।
১৯৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহ নুর আলম বলেন, এ অনুষ্ঠানে এসে ভালো লাগছে। অনেকদিন পর সবার সঙ্গে দেখা হলো।
১৯৯৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ এম হায়াতুন নবী, চিকিৎসক মো. আবদুস সালাম, বার্ডের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বলেন, সবাই মিলে একসাথে আড্ডা দিচ্ছি, হোস্টেল জীবনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে হেসেছি।
১৯৯৪ ব্যাচের নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, মোস্তফা কামাল শাহীন, আলী হোসেন বলেন, নিউ হোস্টেল আমাদের এক আবেগের নাম।
১৯৯৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী অশোকেশ চাকমা বলেন, হোস্টেলে সেইরকম আড্ডা দিয়েছি।
বিকেলে শিল্পী কনকচাঁপা, কাজী ইকরাম মোস্তাফিজ পপলু সংগীত পরিবেশন করেন। রাতে র্যাফেল ড্রয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ১৮৯৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। কুমিল্লা শহরের দক্ষিণ চর্থা মৌজার টমছমব্রিজ এলাকায় নিউ হোস্টেলের অবস্থান। এখানে দুইটি হোস্টেল আছে। একটি রবীন্দ্রনাথ, অন্যটি সোহরাওয়ার্দী। দুইটিকে একত্রে নিউ হোস্টেল বলা হয়। হোস্টেলের ভেতরে আছে পুকুর। পুকুরের পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে সোহরাওয়ার্দী ও উত্তরপাড়ে রবীন্দ্রনাথ। নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ পাড়ে বহুতল পাকা ভবন হয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন পাকা ভবনে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা থাকেন। অন্য ভবন গুলো পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ। নিউ হোস্টেল ভিক্টোরিয়া কলেজের গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অন্যতম থাকার জায়গা। এক সময় এখানে শত শত শিক্ষার্থী থাকতো। এখন কমে এসেছে। থাকার মতো পরিবেশ নেই। এই হোস্টেলের জায়গার দিকে ক্ষমতাসীনদের চোখ। আওয়ামী লীগ আমলে রবীন্দ্রনাথ হোস্টেলের বিশাল জায়গা নিয়ে নেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখন নিউ হোস্টেলের পশ্চিম পাশের বিশাল জায়গায় ইউটার্ন করতে চায় সিটি করপোরেশন। এতে করে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে হয় প্রথম পুনর্মিলনী।