বিশ্ব বাবা দিবস : স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় বাবা

সাজিদুর রহমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
Thumbnail image

‘বাবা’ মাত্র দুটি অক্ষরের একটি শব্দ, কিন্তু এর গভীরতা অসীম, ঠিক বিশাল আকাশের মতো। সন্তানের জীবনে বাবা কেবল একজন অভিভাবকই নন; তিনি একাধারে পথপ্রদর্শক, সাহসের অন্তহীন উৎস, পরম নির্ভরতার প্রতীক এবং জীবনের প্রথম ‘সুপারহিরো’। বিশ্ব বাবা দিবস মূলত সেই মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ, যিনি নিজের স্বপ্নগুলোকে নীরবে বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করেন।

একজন বাবা হলেন পুরো পরিবারের মজবুত ভিত্তি। সংসারের গুরুভার কাঁধে নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত লড়ে যান, যেন পরিবারের সদস্যরা একটি নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ জীবন পায়। সন্তানের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি নিজের ক্লান্তি, কষ্ট কিংবা অপূর্ণতাকে পরম যত্নে আড়াল করে রাখেন।

মায়ের ভালোবাসা যেমন সহজেই প্রকাশ পায়, বাবার ভালোবাসা ঠিক ততটাই নীরব ও নিভৃত। তিনি হয়তো মুখে বারবার ‘ভালোবাসি’ বলেন না, কিন্তু সন্তানের প্রতিটি প্রয়োজন, প্রতিটি স্বপ্ন এবং প্রতিটি সংকটে তাঁর ছায়ার মতো উপস্থিতিই সেই ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাবাকে নিয়ে তাঁদের নিজস্ব অনুভ‚তি, অব্যক্ত ভালোবাসা ও স্মৃতির ঝাঁপি মেলে ধরেছেন।

বাবা, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

‘বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের স্বপ্নকে আড়াল করে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে আজীবন সংগ্রাম করেন। আমার বাবাও ঠিক তেমনই। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা না ভেবে সবসময় আমাদের ভালো রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর ত্যাগ, পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ঋণ কখনো শোধ করার নয়। বাবা দিবসে শুধু বলতে চাই, আব্বু আপনি আমার গর্ব, আমার শক্তি এবং আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু দান করুন।’

মো. আশিক আলম

আইসিটি বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ: ২০২৩-২৪

বাবা, সংসারের নির্ভরতার ছায়া

‘বাবা সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় পুরো পরিবার নিরাপত্তা ও আশ্রয় খুঁজে পায়। জীবনের নানা প্রতিক‚লতা ও সংগ্রামের মধ্যেও তিনি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যান। নিজের কষ্ট, অপূর্ণতা ও ত্যাগকে আড়াল করে সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতেই যেন তাঁর সব চেষ্টা। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পরিবারের ভরসা হয়ে থাকেন। তাই বাবাদের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও ভালোবাসা নিশ্চিত হলে বৃদ্ধাশ্রমে তাঁদের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে।’

আবু রায়হান মিথ

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ: ২০২২-২৩

আর ক’টা দিন অপেক্ষা করো বাবা...

‘বাবা এমন একজন মানুষ, যার জীবনের অধিকাংশ সময়ই কেটে যায় পরিবারের জন্য নিরন্তর পরিশ্রমে। নিজের কষ্ট, অসুস্থতা কিংবা প্রয়োজনের কথা তিনি খুব কমই ভাবেন। বাবার পায়ের ব্যথা আর নীরব সহ্যশক্তি দেখে বারবার মনে হয়, যদি এখনই তাঁর জন্য কিছু করতে পারতাম! কিন্তু সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতায় আপাতত শুধু একটি প্রতিশ্রæতিই দিতে পারি আর ক’টা দিন অপেক্ষা করো বাবা, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলেই তোমার জন্য কিছু করার চেষ্টা করব। তোমার সব ত্যাগের প্রতিদান হয়তো কখনো দেওয়া সম্ভব নয়, তবু তোমার মুখের হাসিটুকুর জন্য আমার সবটুকু চেষ্টা থাকবে।’

ফারহা খানম

বাংলা বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ: ২০২১-২২

বাবা দিবস এখন স্মৃতি আর শূন্যতার দিন

‘বাবা দিবস এখন আর আমার জন্য উদযাপনের দিন নয়, বরং একরাশ শূন্যতা আর স্মৃতির দিন। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই বাবাকে হারানোর পর বুঝেছি, একজন বাবা শুধু পরিবারের একজন সদস্য নন, তিনি পুরো পরিবারের ছায়া ও ভরসা। তিনি বেঁচে থাকতে হয়তো তাঁর গুরুত্ব প্রতিদিন অনুভব করিনি, কিন্তু চলে যাওয়ার পর উপলব্ধি করেছি মাথার ওপরের সেই নিরাপদ আশ্রয় হারানোর কষ্ট কত গভীর।

বাবা দিবস এলে আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর কণ্ঠস্বর, উপদেশ, হাসি আর অসংখ্য স্মৃতি। মানুষটা নেই, কিন্তু তাঁর ভালোবাসা আর উপস্থিতি যেন এখনো হৃদয়ে বেঁচে আছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, পৃথিবীর সবকিছুর বিনিময়ে যদি এক মুহূর্তের জন্য বাবাকে ফিরে পেতাম, তাহলে শুধু বলতাম, ‘বাবা, তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।’

তানভীর আহসান

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫-২৬

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত