অপ্রতিম হত্যাকান্ড
শিক্ষক সমিতির শোক র্যালি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিম হত্যাকার সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামির প্রকৃত বয়স নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার। একই সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও পূর্বের বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ওই মানববন্ধন হয়। এদিন শিক্ষক সমিতি শোক র্যালি করে।
ড. কামরুন নাহার বলেন, 'আমি গতকাল (রোববার) রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের (অপ্রতিমের মা) সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল।'
কামরুন নাহারের ভাষ্য, অপ্রতিমের মা চান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক, ওই ঘটনার প্রতিশোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না। এ ছাড়া এসব ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানাই। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, 'আমরা অত্যন্ত বেদনাবিধুর হৃদয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সন্তান অপ্রতিম অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছে। প্রশাস-ে নর তৎপরতায় খুনিরা দ্রুত ধরা পড়েছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও শান্তি নিশ্চিত করা হোক।'
তিনি আরও বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যা-লয় এলাকা অপরাধ জোনে পরিণত হয়েছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দ্রুত দমন করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের পরিবারের আর কোনো অপ্রতিমকে যেন হারাতে না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হয়।'
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির আহবায়ক শামীমা নাসরিন।
মানববন্ধনে ইউট্যাব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'আমরা ডিসি মহোদয় ও এসপি মহোদয়ের সঙ্গে মিটিং করেছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই হত্যাকাণ্ডেরও অতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিন বলেন, 'আমাদের দেশ এক চরম অবক্ষয় ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অপ্রতিমের এই নৃশংসভাবে খুন হয়ে যাওয়াটা শুধুমাত্র কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়, এটা সারাদেশেরই একটা প্রতিচ্ছবি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, 'অপ্রতিমকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বর্বরতার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও এ এলাকার সংসদ সদস্য মহোদয় ঘটনাস্থলে যান। পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সব ধরনের সহযো গতা করেন।'
এর আগে রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং মো. সিয়াম (১৯)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন রোববার রাতে কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনের ক্ষুদে বার্তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিন এবং পরে অন্যদের আটক করা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিম হত্যাকার সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চার আসামির প্রকৃত বয়স নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার। একই সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার সঙ্গে কিশোর গ্যাং ও পূর্বের বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে অপ্রতিম হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ওই মানববন্ধন হয়। এদিন শিক্ষক সমিতি শোক র্যালি করে।
ড. কামরুন নাহার বলেন, 'আমি গতকাল (রোববার) রাত ১২টা পর্যন্ত ম্যাডামের (অপ্রতিমের মা) সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কিছু কথা জানিয়েছেন। চারজন অভিযুক্তকে এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ফাহাদ। সে প্রায় ১০ দিন আগে ম্যাডামের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি নিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'ম্যাডাম যখন সহকারী প্রক্টর ছিলেন, তখন তিনি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ওই সময় তিনি কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নাকি তুহিনের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল।'
কামরুন নাহারের ভাষ্য, অপ্রতিমের মা চান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক, ওই ঘটনার প্রতিশোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না। এ ছাড়া এসব ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দাবি করা হচ্ছে, তারা আদৌ অপ্রাপ্তবয়স্ক কি না, তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি জানাই। তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে হলেও অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, 'আমরা অত্যন্ত বেদনাবিধুর হৃদয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সন্তান অপ্রতিম অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন হয়েছে। প্রশাস-ে নর তৎপরতায় খুনিরা দ্রুত ধরা পড়েছে, এজন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও শান্তি নিশ্চিত করা হোক।'
তিনি আরও বলেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যা-লয় এলাকা অপরাধ জোনে পরিণত হয়েছে। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দ্রুত দমন করতে হবে। আমরা চাই, আমাদের পরিবারের আর কোনো অপ্রতিমকে যেন হারাতে না হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হয়।'
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির আহবায়ক শামীমা নাসরিন।
মানববন্ধনে ইউট্যাব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'আমরা ডিসি মহোদয় ও এসপি মহোদয়ের সঙ্গে মিটিং করেছি। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের পাশাপাশি এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এই হত্যাকাণ্ডেরও অতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক ড. শামীমা নাসরিন বলেন, 'আমাদের দেশ এক চরম অবক্ষয় ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। অপ্রতিমের এই নৃশংসভাবে খুন হয়ে যাওয়াটা শুধুমাত্র কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়, এটা সারাদেশেরই একটা প্রতিচ্ছবি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, 'অপ্রতিমকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা বর্বরতার সর্বোচ্চ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও এ এলাকার সংসদ সদস্য মহোদয় ঘটনাস্থলে যান। পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সব ধরনের সহযো গতা করেন।'
এর আগে রোববার দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছরের দুই কিশোর এবং মো. সিয়াম (১৯)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন রোববার রাতে কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনের ক্ষুদে বার্তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে তুহিন এবং পরে অন্যদের আটক করা হয়।