হোমনায় চালকদের ইচ্ছেমতো বাড়ে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া

হোমনা প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লার হোমনায় কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিয়েছে ভাড়া। এর ফলে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভাড়া বাড়ালে এর এক মাস পার হলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশার বাড়তি ভাড়া কমেনি। ঈদ ও নানা অজুহাতে শুরু হওয়া এই অনৈতিক প্রথাটি এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ফলে প্রতিটি রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০ টাকা করে বেশি আদায় করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে চালকরা নিজেদের মতো করে হোমনা ব্রিজের নিচ থেকে শ্রীমদ্দি কালি বাড়ি আড়াই কিলোমিটার ২০ টাকা, দড়িচর ৩ কিলোমিটার ২০ টাকা, আলীপুর ৪ কিলোমিটার ৩০ টাকা, দুলালপুর ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা, দৌলতপুর ৯ কিলোমিটার ৫০ টাকা, রামকৃষ্ণপুর ১১ কিলোমিটার ৬০ টাকা, ঘাড়মোড়া ৪ কিলোমিটার ২০ টাকা, শ্রীপুর ৫ কিলোমিটার ৩০ টাকা, কাশিপুর ৮ কিলোমিটার ৪০ টাকা, চান্দেরচর বাগের হাট ১০ কিলোমিটার ৬০ টাকা, চান্দেরচর ৯ কিলোমিটার ৫০ টাকা, ঘনিয়ারচর ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা, কলাগাছিয়া সাড়ে ৭ কিলোমিটার ৪০ টাকা এবং আসাদপুর ৬ কিলোমিটার ও মঙ্গলকান্দি সাড়ে ৪ কিলোমিটার ভাড়া ৩০ টাকা করে আদায় করছে। চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া না আদায়ের পেছনে প্রশাসনের নির্দেশনা আগে ছিল, এখন নেই। তারা নিজেরাই বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ নিয়ে প্রতিদিন যাত্রীদের সাথে চালকদের কাথাকাটি ও মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটছে। হোমনা-কাশিপুর রুটের নিয়মিত যাত্রী মো. দুলাল জানান, হোমনা থেকে কাশিপুর ৪০ টাকা ভাড়া নেওয়া স্পষ্ট ‘জুলুম’।

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হোমনা-চান্দেরচর ও রামকৃষ্ণপুর রুটের নিয়মিত যাত্রী তথা স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. হারুন অর রশিদ এবং মো. রাসেল। রাসেল জানান, জনঅসন্তোষের এই বিষয়টি তিনি ইতোপূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে প্রশাাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

হোমনা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, পৌরসভার অভ্যন্তরে কিংবা কোনো রুটে প্রশাসনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো আইনগত সুযোগ নেই। যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। জনভোগান্তির এই বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। দ্রুতই পৌর কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা যেহেতু স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দেয়, সেহেতু পৌরসভার প্রশাসককে বলেছি সংশ্লিষ্টদের থেকে কারণ জেনে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সমস্যা সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসন নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভা যেহেতু স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দেয় তাই এসি ল্যান্ডকে বলেছি, যথাযথ কারণ জেনে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। পরে প্রশাসনিকভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত