নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়া

সাতবাড়িয়ার দুই সেতুর কাজ ২ বছরেও শেষ হয়নি

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের সাতবাড়িয়ায় উপজেলা এলজিইডি ও ঠিকাদারদের অবহেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালের ওপর দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ গত ২ বছরেও শেষ হয়নি। সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সাতবাড়িয়াসহ আশেপাশের ৭-৮টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বদল হলেও নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সেতু দুটি হচ্ছে-উত্তর সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু এবং সাতবাড়িয়া নাইয়ারা ইউছুপের বাড়ির সামনের সেতু। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য বিধ্বস্ত সেতু দুটি ভেঙে ফেলে রাখা হলেও গত দুই বছরেও নির্মাণ কাজ শুরুই করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত দুই বছর থেকে উত্তর সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতু এবং সাতবাড়িয়া নাইয়ারা ইউছুপের বাড়ির সামনের সেতু দুটি ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। উত্তর সাতবাড়িয়া সংলগ্ন সেতুটির পাশে একটি বাঁশের সেতু দিয়ে গত দুই বছর থেকে এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। একই অবস্থা সাতবাড়িয়া নাইয়ারা ইউছুপের বাড়ি সংলগ্ন সেতুটিরও।

জানা যায়, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে গত দুই বছর পূর্বে এলজিইডি সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। ঠিকাদারেরা পুরনো সেতু দুটি ভেঙে নির্মাণ কাজ শুরু করে। এজন্য তাঁরা সেতু নির্মাণের জন্য মালামালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেতুর কাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যে তাঁরা কাজ বন্ধ করে চলে যান। যার ফলে গত দুবছরেও সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এতে করে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে।

সেতু দুটির কাজ শেষ না হওয়ায় উপজেলার সাতবাড়িয়া, নাইয়ারা, চৌকুড়ী, ঢালুয়া, আলিয়ারা, বক্সগঞ্জ এবং গুণবতীসহ আশেপাশের গ্রামবাসী কার্যত বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সেতু দুটি নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলায় এলাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, পিকআপভ্যানসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। যার ফলে এলাকাবাসীকে ফেনী, নাঙ্গলকোটসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপারে ভোগান্তির শেষ থাকে না।

সাতবাড়িয়া গ্রামের এনামুল হক ছোটন বলেন, দুটি সেতু এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠিকাদারের গাফলতির কারণে সেতু দুটির কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এতে করে ডেলিভারি মহিলাসহ অন্যান্য রোগী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। ঠিকাদারদের অবহেলার দায়ভার জনগণকে দিতে হচ্ছে। আমাদের অনুরোধ সেতুর নির্মাণ কাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়।

সাতবাড়িয়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ শাহআলম ও রফিক মজুমদার বলেন, সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় ৭-৮টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। আজ দুবছর সেতু দুটি ভেঙে রাখছে। নির্মাণ কাজও বন্ধ রয়েছে। এলাকাবাসী আসা-যাওয়া করতে পারছে না। নির্মাণ কাজের সমাধান চাই। না হয় ঠিকাদারের কন্ট্রাক্ট বাতিল চাই।

নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান সিকদার বলেন, নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেতু দুটির নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত