দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন ফজর পড়েই কাজ শুরুর ঘোষণা জামায়াত আমিরের

Thumbnail image

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করলে প্রথম দিন ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশাআল্লাহ।

আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার দলের পরিকল্পনা ও ভিশন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।

জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য, একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। আমাদের তরুণরা এখন একটা নতুন দেশ দেখতে চায়, যাকে তারা গর্ব করে বলতে পারবে ‘বাংলাদেশ ২.০’। এই দেশ আমাদের সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে, কারণ তারাই ভবিষ্যৎ রচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে জাতির ওপর এক শাসকগোষ্ঠী চেপে বসেছিল, যারা মানবাধিকার ও ভোটাধিকার ধ্বংস করেছে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘর বানিয়ে নিপীড়ন চালিয়েছে। সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আমরা ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। সংস্কার ও গণভোটের ঘোষণা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে আমীরে জামায়াত বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সংস্কার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এই গণভোটে আমরা ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানাই। নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয় তুলে ধরে

তিনি বলেন, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ৫টি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ৫টি বিষয়ে ‘না’ বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা ‘হ্যাঁ’ বলছি। আর দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে স্পষ্ট করে ‘না’ বলছি। শিক্ষা, বিচার বিভাগ ও অর্থনীতিতে ৩ বিশেষ গুরুত্ব ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে শিক্ষা, বিচার বিভাগ ও অর্থনীতি -এই তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান: নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন। করপোরেট জগত থেকে রাজনীতি- সবখানে মেধার মূল্যায়ন হবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ সবার, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ আরও সহজ করা হবে। এছাড়া সংসদে আনুপাতিক হারে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে তারা সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারেন। বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের তাদের নিজ নিজ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আকুল আবেদন জানান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো উপভোগের বিষয় নয়, এটি একটি আমানত। আমরা যেন হযরত ওমরের (রা.) মতো দায়িত্বশীল হতে পারি, সেই তৌফিক চাই।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত