আমার শহর ডেস্ক

আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যয়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ এবং বিধি ৪৫সি অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে শুধু তাদের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আজ মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত প্রশ্নে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার জানতে চান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভুক্তভোগী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ হতে গুম, খুন ও নির্যাতনের অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই সব মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অনেককে হয়রানির উদ্দেশ্যে জড়ানোর দাবি করা হয়েছে। এই সব মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
জবাবে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোরর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার অত্র সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ পাস করেছে। ওই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচারকার্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য হিসেবে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার যেকোনো পর্যায়ে অ্যাডিশনাল উইটনেসেস এবং ফার্দার এভিডেন্স উপস্থাপনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক হওয়ার মাধ্যমে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, আসামির দ্রæত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রাপ্তি এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে সরকারি খরচে আসামিপক্ষে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং ভুক্তভোগীদের বিচারকার্যে অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার জন্য পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
৫ বছরের বেশি পুরোনো মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও সংরক্ষণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট সংগ্রহসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার নিমিত্ত কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক তদন্ত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলাসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি-বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, মামলাজট কমাতে দেশের উচ্চ আদালত এবং অধস্তন আদালতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ করা হবে।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের উচ্চ আদালতে ও নিম্ন আদালতের মামলাজট কমাতে নতুন করে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা?
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আাপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য সরকার সংবিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদ রয়েছে এবং ওই পদগুলোর বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত আছে। অধস্তন আদালতগুলোর শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বরাবর চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত চাহিদাপত্র অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করছে।

আন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ন্যয়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০-এর বিধি ৪৩ এবং বিধি ৪৫সি অনুযায়ী ১৭টি মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবীকে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে শুধু তাদের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
আজ মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত প্রশ্নে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার জানতে চান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভুক্তভোগী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ হতে গুম, খুন ও নির্যাতনের অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই সব মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অনেককে হয়রানির উদ্দেশ্যে জড়ানোর দাবি করা হয়েছে। এই সব মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
জবাবে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোরর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার অত্র সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ পাস করেছে। ওই সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের বিচারকার্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য হিসেবে ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার যেকোনো পর্যায়ে অ্যাডিশনাল উইটনেসেস এবং ফার্দার এভিডেন্স উপস্থাপনের বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক হওয়ার মাধ্যমে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
একই সঙ্গে, আসামির দ্রæত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রাপ্তি এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে সরকারি খরচে আসামিপক্ষে দোভাষী নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং ভুক্তভোগীদের বিচারকার্যে অংশগ্রহণ ও সুরক্ষার জন্য পৃথক বিধান সংযোজন করা হয়েছে।
৫ বছরের বেশি পুরোনো মামলা চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত জব্দ ও সংরক্ষণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ, ফরেনসিক ও বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট সংগ্রহসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার নিমিত্ত কগনিজেন্স ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক তদন্ত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
পাঁচ বছরের অধিক পুরাতন মামলাসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিং এবং পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি-বিচারক নিয়োগ দেবে সরকার: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, মামলাজট কমাতে দেশের উচ্চ আদালত এবং অধস্তন আদালতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগ করা হবে।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশের উচ্চ আদালতে ও নিম্ন আদালতের মামলাজট কমাতে নতুন করে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা?
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আাপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত আছেন। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য সরকার সংবিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারক নিয়োগের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোয় বর্তমানে ২ হাজার ৬২০ জন বিচারকের পদ রয়েছে এবং ওই পদগুলোর বিপরীতে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত আছে। অধস্তন আদালতগুলোর শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কর্তৃক ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন বরাবর চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। উক্ত চাহিদাপত্র অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন কাজ করছে।