নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস, আজ ২২ শ্রাবণ। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বাঙালির কাছে দিনটি শুধু একজন কবির প্রয়াণের তারিখ নয়, তাঁকে নতুন করে ফিরে দেখার উপলক্ষ। রবীন্দ্রনাথ আমাদের হৃদয়ে আছেন। প্রতিটি মুহুর্তে তাঁর সৃষ্টিশীল কাজ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। কাজের গতি এনে দেয়। তাঁর সৃষ্টি আমাদের হৃদয়ে দোলা দেয়। প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। উতলা করে।
বিশ্বকবি জীবনকে শুধু জন্ম, সাহিত্যকর্ম, নোবেল পুরষ্কার ও মৃত্যুর কয়েকটি তারিখে আটকে রাখলে তাঁর ব্যাপ্তির বড় অংশই অদেখা থেকে যায়। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধের পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজ ও শিল্পচিন্তায়ও রেখে গেছেন গভীর ছাপ। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্থির হতে না পারলেও পারিবারিক শিক্ষার বিস্তৃত পরিবেশ তাঁকে গড়ে তোলে। কৈশোরেই শুরু হয় তাঁর সাহিত্যচর্চা; পরিণত বয়সে সেই সৃষ্টিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে নানা মাধ্যমে।
রবীন্দ্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বীক পূর্ববাংলা ঘিরে। পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার সূত্রে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসরসহ বিভিন্না এলাকায় তাঁর যাতায়াত ছিল। বিশেষ করে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে কাটানো সময় তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় অভিজ্ঞতা। বহু গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, দুঃখ-বঞ্চনা ও সম্পর্কের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। জমিদারির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রজাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয় জল, সড়ক ও ঋণমুত্তির মতো বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে প্রকৃতি ও মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার যে ধারণা তিনি লালন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তার বিস্তার ঘটে বিশ্বভারতীতে। শিক্ষা তাঁর কাছে কেবল পাঠাজান অর্জন নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষ, প্রকৃতি ও বিশ্বের সম্পর্ককে গভীরভাবে বোঝার পথ।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদসহ তাঁর কবিতার জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ইংরেজিতে প্রকাশিত কবিতার সংবেদনশীলতা ও সৌন্দর্যই তাঁকে এ স্বীকৃতি এনে দেয়। বিশ্বখ্যাতির পরও দেশের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।
১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করলেও ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা ত্যাগ করেন।
জীবনের শেষ প্রান্তেও তাঁর চিন্তার জগৎ থেমে যায়নি। ব্যক্তিগত বেদনা, মৃত্যু, মানুষের স্বাধীনতা, সভ্যতার সংকট ও মানবিক মর্যাদা তাঁর শেষ জীবনের ভাবনায় আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। ফলে বাইশে শ্রাবণ কেবল তাঁর শারীরিক প্রয়াণের স্মৃতি নয়, তাঁর জীবন ও চিন্তার দিকে ফিরে তাকানোরও দিন।
রবীন্দ্রনাথকে একেক প্রজন্ম একেকভাবে আবিষ্কার করেছে- প্রেমে, বিচ্ছেদে, প্রকৃতিতে, একাকিত্বে, আনন্দে কিংবা মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনেও তাঁর উপস্থিতি গভীর- 'আমার সোনার বাংলা' আমাদের জাতীয় সংগীত, আর শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবন ও সৃষ্টির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শুধু সৃজনশীল সাহিত্য নয়- সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, অর্থনীতি নিয়ে স্বকীয় ভাবনাও তাঁকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও গণশিক্ষার যে অগ্রযাত্রা আমরা এখন নিয়মিত প্রত্যক্ষ করি, রবীন্দ্রনাথ সেই সময় নওগাঁর পতিসর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে সে ধরনের উদ্যোগই নিয়েছিলেন। কৃষকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি সমবায় ব্যাংক। নোবেল পুরস্কারের টাকার একটি অংশও এই ব্যাংকে যোগ করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে দেশজ আদর্শ লালিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন।
আজ বাইশে শ্রাবণ। শ্রাবণের বৃষ্টিও হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ বর্ষা ঋতুকে অসম্ভব ভালো বাসতেন। বসন্তও তাঁর প্রিয় ঋতু। বর্ষা আর বসন্তকে ঘিরে তাঁর রয়েছে অমর সৃষ্টি। বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের অমর স্রষ্টা। তিনি প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ বাঙালির চেতনায় আছেন। সততা তাঁকে স্মরণে রাখে বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষী মানুষ।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস, আজ ২২ শ্রাবণ। ১৯৪১ সালের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। বাঙালির কাছে দিনটি শুধু একজন কবির প্রয়াণের তারিখ নয়, তাঁকে নতুন করে ফিরে দেখার উপলক্ষ। রবীন্দ্রনাথ আমাদের হৃদয়ে আছেন। প্রতিটি মুহুর্তে তাঁর সৃষ্টিশীল কাজ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। কাজের গতি এনে দেয়। তাঁর সৃষ্টি আমাদের হৃদয়ে দোলা দেয়। প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। উতলা করে।
বিশ্বকবি জীবনকে শুধু জন্ম, সাহিত্যকর্ম, নোবেল পুরষ্কার ও মৃত্যুর কয়েকটি তারিখে আটকে রাখলে তাঁর ব্যাপ্তির বড় অংশই অদেখা থেকে যায়। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি কবিতা, গান, ছোটোগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধের পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজ ও শিল্পচিন্তায়ও রেখে গেছেন গভীর ছাপ। শৈশবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্থির হতে না পারলেও পারিবারিক শিক্ষার বিস্তৃত পরিবেশ তাঁকে গড়ে তোলে। কৈশোরেই শুরু হয় তাঁর সাহিত্যচর্চা; পরিণত বয়সে সেই সৃষ্টিশীলতা ছড়িয়ে পড়ে নানা মাধ্যমে।
রবীন্দ্রজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বীক পূর্ববাংলা ঘিরে। পারিবারিক জমিদারি দেখাশোনার সূত্রে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসরসহ বিভিন্না এলাকায় তাঁর যাতায়াত ছিল। বিশেষ করে শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে কাটানো সময় তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে গ্রামবাংলার জীবন ও প্রকৃতির নিবিড় অভিজ্ঞতা। বহু গল্পে সাধারণ মানুষের জীবন, দুঃখ-বঞ্চনা ও সম্পর্কের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। জমিদারির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রজাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, পানীয় জল, সড়ক ও ঋণমুত্তির মতো বিষয়েও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
১৯০১ সালে শান্তিনিকেতনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রচলিত শিক্ষার বাইরে প্রকৃতি ও মুক্ত পরিবেশে শিক্ষার যে ধারণা তিনি লালন করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে তার বিস্তার ঘটে বিশ্বভারতীতে। শিক্ষা তাঁর কাছে কেবল পাঠাজান অর্জন নয়। মানুষের সঙ্গে মানুষ, প্রকৃতি ও বিশ্বের সম্পর্ককে গভীরভাবে বোঝার পথ।
১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদসহ তাঁর কবিতার জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ইংরেজিতে প্রকাশিত কবিতার সংবেদনশীলতা ও সৌন্দর্যই তাঁকে এ স্বীকৃতি এনে দেয়। বিশ্বখ্যাতির পরও দেশের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।
১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া নাইট উপাধি গ্রহণ করলেও ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তা ত্যাগ করেন।
জীবনের শেষ প্রান্তেও তাঁর চিন্তার জগৎ থেমে যায়নি। ব্যক্তিগত বেদনা, মৃত্যু, মানুষের স্বাধীনতা, সভ্যতার সংকট ও মানবিক মর্যাদা তাঁর শেষ জীবনের ভাবনায় আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। ফলে বাইশে শ্রাবণ কেবল তাঁর শারীরিক প্রয়াণের স্মৃতি নয়, তাঁর জীবন ও চিন্তার দিকে ফিরে তাকানোরও দিন।
রবীন্দ্রনাথকে একেক প্রজন্ম একেকভাবে আবিষ্কার করেছে- প্রেমে, বিচ্ছেদে, প্রকৃতিতে, একাকিত্বে, আনন্দে কিংবা মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জীবনেও তাঁর উপস্থিতি গভীর- 'আমার সোনার বাংলা' আমাদের জাতীয় সংগীত, আর শিলাইদহ, শাহজাদপুর ও পতিসরের স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে তাঁর জীবন ও সৃষ্টির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
শুধু সৃজনশীল সাহিত্য নয়- সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, অর্থনীতি নিয়ে স্বকীয় ভাবনাও তাঁকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও গণশিক্ষার যে অগ্রযাত্রা আমরা এখন নিয়মিত প্রত্যক্ষ করি, রবীন্দ্রনাথ সেই সময় নওগাঁর পতিসর ও কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনে সে ধরনের উদ্যোগই নিয়েছিলেন। কৃষকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষি সমবায় ব্যাংক। নোবেল পুরস্কারের টাকার একটি অংশও এই ব্যাংকে যোগ করেছিলেন। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে দেশজ আদর্শ লালিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন।
আজ বাইশে শ্রাবণ। শ্রাবণের বৃষ্টিও হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ বর্ষা ঋতুকে অসম্ভব ভালো বাসতেন। বসন্তও তাঁর প্রিয় ঋতু। বর্ষা আর বসন্তকে ঘিরে তাঁর রয়েছে অমর সৃষ্টি। বহুমাত্রিক রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের অমর স্রষ্টা। তিনি প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ বাঙালির চেতনায় আছেন। সততা তাঁকে স্মরণে রাখে বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষী মানুষ।