দেবীদ্বারের এমপি হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান যা বললেন

Thumbnail image

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল হাসনাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কোথা থেকে দেওয়া হবে- এই প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে হাসনাত ওই প্রশ্ন করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডধারী চার কোটি পরিবার এবং কৃষি কার্ডধারী পৌনে তিন কোটি কৃষককে অর্থ সহায়তা হিসাব-নিকাশ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা বাজেটে কিংবা মূল্যস্ফীতিতে কোনো চাপ ফেলবে না। এক্ষেত্রে আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত বলেন, চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে হলে বছরে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এর প্রক্রিয়াগত ব্যয়সহ খরচ হবে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। আবার ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। সেখানে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

হাসনাত প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি দেশের অর্থনীতিকে কতটুকু স্বনির্ভর করবে? এ অর্থ কি বর্তমানে চলা সামাজিক সুরক্ষা খাত থেকে কেটে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, নাকি নতুন করে এ খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে? সে ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ঘটার সম্ভাবনা আছে কি না, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে কি না?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা জনগণকে বলেছিলাম নির্বাচনের আগে, সেই ফ্যামিলি কার্ডটি মানুষ গ্রহণ করেছে এবং আপনি নিজেও সাক্ষী। আপনার নির্বাচনী এলাকায় আপনাকেও নারীরা ঘিরে ধরেছিল ফ্যামিলি কার্ড চাওয়ার জন্য। আপনি উত্তরে বলেছেন, যে মুহূর্তে ফ্যামিলি কার্ড সরকার দেবে, আপনি চেষ্টা করবেন তাঁদের ডিস্ট্রিবিউট করার।’

পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো সরকারের একবারে এটা করা সম্ভব নয়। সবার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করে কার্ড দেওয়া বাড়ানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই। বর্তমানে সরকারের যতসংখ্যক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু আছে, তার সব কটির অর্থ সহযোগিতা যোগ করা হলে ফ্যামিলি কার্ডের পরিমাণ হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে, তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তাদের ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশীয় কারখানায় তৈরি। ফ্যামিলি কার্ডের টাকা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ছড়াবে। এটা স্থানীয় শিল্পায়নে ভ‚মিকা রাখবে, কর্মসংস্থান বাড়াবে।

তারেক রহমান বলেন, ‘এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ, যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। তাই আমাদের হিসাব হচ্ছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।’

ফ্যামিলি কার্ড ছিল বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি। এর লক্ষ্য হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থ সহায়তা দিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন। ক্ষমতায় যাওয়ার পর এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলো মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাচ্ছে।

এ ছাড়া ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ১০ ধরনের সুবিধা দিতে বিএনপি চালু করেছে কৃষক কার্ড। কৃষকদের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও দুগ্ধখামারিরাও এ কার্ডের সুবিধা পাবেন।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত