• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> বাংলাদেশ

কুমিল্লার একাল সেকাল

আহসানুল কবীর
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২০: ২৭
logo

কুমিল্লার একাল সেকাল

আহসানুল কবীর

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২০: ২৭
Photo

বেশি দিন আগের কথা নয়, ১৯৮৪ সনে কুমিল্লাকে নিয়ে আপ্লুত আল মাহমুদ লিখেছিলেন, ‘এখানে সবুজ দিয়েছে বুক পেতে, গুল্মলতা আকাশে ওঠে মেতে, ছায়ার নিচে তোমার কথা ভাবি, তুমিই বুঝি এই বাগানের চাবি।’

সত্যি বলতে কি কুমিল্লা এমনই ছিলো। সমতটের রাজধানী তথা প্রাণকেন্দ্র কুমিল্লা হলেও শহর কুমিল্লা কিন্তু নবীনতম জনপদ, কিন্তু তাও অন্তত ৭০০ বছরের অধিক। নৃতাত্ত্বিকদের মতে লালমাই পাহাড় কে কেন্দ্র করে এই ভূমির উৎপত্তি প্লায়োস্টসিন যুগে, অর্থাৎ প্রায় লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে। হাজার বছর পূর্বে পট্টিকেরা পরগণা ছিলো সমতটের রাজধানী। পট্টিকেরা মূলত আজকের ময়নামতি কোটবাড়ি অঞ্চলটি। অষ্টম শতকের দেব বংশের নির্মিত আশ্রম এবং বিহার সমূহ এ অঞ্চলে স্বর্ণালি অতীতেরই গৌরবময় চিহ্ন।

ভেন্ডেন ব্রুকের ১৬৬০ সনে অংকিত মানচিত্রে এ অঞ্চলে মারা বন্দর নামে একটি নৌবন্দরের কথা বলে হয়েছে। যা সমৃদ্ধ অতীতেরই প্রতিচ্ছবি। নালন্দায় যখন বিশ্ববিদ্যালয় তখন কুমিল্লার দেবীদ্বারে দুটি শিক্ষা আশ্রম ছিলো। ভাবা যায়? তাছাড়া এই কুমিল্লার সন্তান পন্ডিত শীলভদ্র ছিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। গুরুর দেশ দেখার অভিপ্রায়ে কুমিল্লা এসেছিলেন শীলভদ্রের শিষ্য হিউয়েন সাং।

শহর কুমিল্লাটি কখন গড়ে উঠে এ বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোন তথ্য নেই। তবে ১৪৫৮ সনে ত্রিপুরার রাজা ধর্মমাণিক্য কর্তৃক খননকৃত ধর্মসাগর এবং নানুয়া দিঘী এখন পর্যন্ত এই শহরের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা । তাছাড়া কথিক আছে সাধক পুরুষ শাহজালাল সিলেট যাবার পূর্বে কুমিল্লা শহরের বিবিরবাজারে পা রেখেছিলেন। সে হিসেবে এই শহরে জনবসতির গোড়াপত্তন অন্তত সাতশত/ আটশত বছর আগেতো হবেই।

কুমিল্লা শহরের বিকাশ মূলত ১৭০০ শতকের থেকে শুরু। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাদঁপুর, বিক্রমপুর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিজাত লোকজন কুমিল্লায় এসে আবাস গড়তে শুরু করেন। শহর বিকশিত হবার পর তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যবসা বাণিজ্য ছিলো মূলত নৌপথ কেন্দ্রিক। কুমিল্লা শহরের চকবাজারের সাথে বাণিজ্য কেন্দ্র লাকসামের দৌলতগঞ্জ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমূহনী, ঢাকার সোনারগাঁর সাথে নিবিড়তম যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিলো। এবং এসবই সম্ভব হয়েছে গোমতী, মেঘনা, তিতাস এবং ডাকাতিয়া নদীর আন্তঃসংযোগের জন্য। ১৭৯০ সনে সরকারি আদেশে ত্রিপুরা জেলা গঠিত হলে এটি আরো বেগবান হয়। বলাই বাহুল্য এই জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর ছিলো কুমিল্লা শহরে। জন বুলার এই জেলার প্রথম ডি. এম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৮৬৪ সনের ৩০ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ পৌরসভা ঘোষণার মাধ্যমে এই চারটি শহর মূলত প্রথম শহর হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলো। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লা শহরের ভিত্তিটা আমরা অনুধাবন করতে পারি। পৌরসভার চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নবাব হোচ্চাম হায়দার, কুমার নবদ্বীপ বর্মণের মতো খ্যাতিমানরা। ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা মনোরম পরিবেশের বাইরেও কুমিল্লা শহর বিকশিত হবার পেছনে একটি বড় কারন হচ্ছে শিক্ষা।

১৮৩৭ সনে স্থাপিত কুমিল্লা জিলা স্কুল, ১৮৭৩ সনে নবাব ফয়জুন্নেছা স্কুল, ১৮৭৮ সনে বঙ্গবিদ্যালয় (কুমিল্লা হাইস্কুল), ১৮৭৯ সনে ইউসুফ হাইস্কুল এবং ১৮৯৯ সনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইল ফলক। এর কারণে প্রথমে অভিজাত শ্রেণি পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত সমাজের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় কুমিল্লা শহরে বসতি স্থাপন। ৭০-৮০র দশকেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা কর্মসূত্রে কুমিল্লা এসেছেন তারা কুমিল্লায় একখন্ড জমি ক্রয়ের চেষ্টা করতেন।

প্রত্যেকের বাড়ির সামনে ছিল পুকুর, প্রতিটি বাড়ির সামনে কাচারি ঘর, খেলার জন্য অবারিত মাঠ, শহরজুড়ে বড় বড় দিঘি। ১৮৮৫ সনে প্রতিষ্ঠিত বীরচন্দ্র গণপাঠাগারে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভার্ণাল থিয়েটারের পরিবেশনায় নাটক, প্রায় প্রতিটি গৃহে সুরের মূর্ছনা। সত্যিকারের অর্থে এক ছায়াময় মায়ার শহর। যে শহরের প্রতিটি মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ছিলো এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এটি সহজতর হয়েছিলো জনসংখ্যার স্বল্পতার জন্য। টিপারা গেজেটিয়ারের মতে ১৮৮১ সনে শহর কুমিল্লার জনসংখ্যা ১৩,৩৭২, ১৮৯১ সনে ১৪,৬৮০জন।

মি. জে জে কামিং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮৫৫ সনে শহরে মাত্র ২৪টি পাকা ভবন ছিলো। ত্রিশ বছর পর ১৮৯৫ সনে মাত্র ৫৫টি পাকা ভবন। যেই শহরে একদা মাটির ঘর, টিনের ঘর, ছনের ঘরের সমাহার ছিলো সেই শহরে এখন কমপক্ষে চল্লিশ হাজার পাকা ভবন মাথা তুলে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। জনসংখ্যা দশ লক্ষেরও অধিক।

যুগের চাহিদার সাথে সারা দেশের মতো কুমিল্লার আবাসন ব্যবস্থায় ও পরিবর্তন এসেছে। ৩৫ কিলোমিটারের পৌরসভা এখন ৫৩ কিলোমিটারের সিটি কর্পোরেশন। শহরের যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু সুউচ্চ ভবনের সারি। ঢাকার পরে কুমিল্লা এখন আবাসন শিল্পের জন্য সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থান। চট্টগ্রামের চাইতেও এখানে ফ্ল্যাটের দাম বেশি। সবই হতে পারতো ইতিবাচক।

যেসকল কারণে কুমিল্লা শহর বিকশিত, আজকে সেগুলো ক্ষয়িষ্ণুতো বটেই পাশাপাশি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এই শহর এখন যানজট, জলজটের পাশাপাশি জনজটের ও শিকার। জনসংখ্যার ভারে শহর ন্যুজ। পুকুর জলাশয় গুলি ভরাট করা হয়েছে নির্বিচারে, রাস্তা প্রসারিত কিংবা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে সংকুচিত হয়েছে, যা আছে তাও হকারদের নিয়ন্ত্রণে। ইজিবাইক এখন এই শহরের ভয়ংকর এক আতংকের নাম। প্রতিদিন ১০/১২ জন ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

শহরের সবুজ উধাও হয়েছে কবেই! ফলে ভবনের পর ভবন হচ্ছে কিন্তু এই ভবনের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা নেই, বিনোদনের সুব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা ব্যবস্থা জাতীয় মানের নয়, শিক্ষার মানে অধোগতি।

শচীনকর্তা, হিমাংশু দত্ত, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ আর মোহাম্মদ হোসেন খসরুর শহরে এখন আর আগের মতো সুরের মূর্ছনা নেই। ফলে ভবনগুলো যেন সরু দূর্বল দুপায়ের উপরে ভারি দেহ হয়ে টিকে থাকার লড়াই করছে। এ অবস্থায় উত্তরণ অবশ্যই সম্ভব। দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

তাই আসুন আমরা সবাই মিলে জাগিয়ে তুলবো কুমিল্লার এই আত্মাকে। বইয়ে দেব রাগ, রূপ, রস আর কর্মযোগের সেই অমৃতময়ী অলকানন্দধারা, যার সঞ্জীবণী রসে সমৃদ্ধ হয়ে আবার পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে নিঃশেষিত বিশুষ্ক প্রায় কুমিল্লার আপামর জনসাধারনের মানসলোক। আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলবো অলকানন্দার উৎসস্থল কুমিল্লাকে। এই স্বপ্নগুলো কি আদৌ বাস্তাবায়িত হবে?

আহসানুল কবীর

ইতিহাসবিদ, সংগঠক

Thumbnail image

বেশি দিন আগের কথা নয়, ১৯৮৪ সনে কুমিল্লাকে নিয়ে আপ্লুত আল মাহমুদ লিখেছিলেন, ‘এখানে সবুজ দিয়েছে বুক পেতে, গুল্মলতা আকাশে ওঠে মেতে, ছায়ার নিচে তোমার কথা ভাবি, তুমিই বুঝি এই বাগানের চাবি।’

সত্যি বলতে কি কুমিল্লা এমনই ছিলো। সমতটের রাজধানী তথা প্রাণকেন্দ্র কুমিল্লা হলেও শহর কুমিল্লা কিন্তু নবীনতম জনপদ, কিন্তু তাও অন্তত ৭০০ বছরের অধিক। নৃতাত্ত্বিকদের মতে লালমাই পাহাড় কে কেন্দ্র করে এই ভূমির উৎপত্তি প্লায়োস্টসিন যুগে, অর্থাৎ প্রায় লক্ষ লক্ষ বছর পূর্বে। হাজার বছর পূর্বে পট্টিকেরা পরগণা ছিলো সমতটের রাজধানী। পট্টিকেরা মূলত আজকের ময়নামতি কোটবাড়ি অঞ্চলটি। অষ্টম শতকের দেব বংশের নির্মিত আশ্রম এবং বিহার সমূহ এ অঞ্চলে স্বর্ণালি অতীতেরই গৌরবময় চিহ্ন।

ভেন্ডেন ব্রুকের ১৬৬০ সনে অংকিত মানচিত্রে এ অঞ্চলে মারা বন্দর নামে একটি নৌবন্দরের কথা বলে হয়েছে। যা সমৃদ্ধ অতীতেরই প্রতিচ্ছবি। নালন্দায় যখন বিশ্ববিদ্যালয় তখন কুমিল্লার দেবীদ্বারে দুটি শিক্ষা আশ্রম ছিলো। ভাবা যায়? তাছাড়া এই কুমিল্লার সন্তান পন্ডিত শীলভদ্র ছিলেন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। গুরুর দেশ দেখার অভিপ্রায়ে কুমিল্লা এসেছিলেন শীলভদ্রের শিষ্য হিউয়েন সাং।

শহর কুমিল্লাটি কখন গড়ে উঠে এ বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোন তথ্য নেই। তবে ১৪৫৮ সনে ত্রিপুরার রাজা ধর্মমাণিক্য কর্তৃক খননকৃত ধর্মসাগর এবং নানুয়া দিঘী এখন পর্যন্ত এই শহরের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা । তাছাড়া কথিক আছে সাধক পুরুষ শাহজালাল সিলেট যাবার পূর্বে কুমিল্লা শহরের বিবিরবাজারে পা রেখেছিলেন। সে হিসেবে এই শহরে জনবসতির গোড়াপত্তন অন্তত সাতশত/ আটশত বছর আগেতো হবেই।

কুমিল্লা শহরের বিকাশ মূলত ১৭০০ শতকের থেকে শুরু। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাদঁপুর, বিক্রমপুর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিজাত লোকজন কুমিল্লায় এসে আবাস গড়তে শুরু করেন। শহর বিকশিত হবার পর তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যবসা বাণিজ্য ছিলো মূলত নৌপথ কেন্দ্রিক। কুমিল্লা শহরের চকবাজারের সাথে বাণিজ্য কেন্দ্র লাকসামের দৌলতগঞ্জ, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমূহনী, ঢাকার সোনারগাঁর সাথে নিবিড়তম যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিলো। এবং এসবই সম্ভব হয়েছে গোমতী, মেঘনা, তিতাস এবং ডাকাতিয়া নদীর আন্তঃসংযোগের জন্য। ১৭৯০ সনে সরকারি আদেশে ত্রিপুরা জেলা গঠিত হলে এটি আরো বেগবান হয়। বলাই বাহুল্য এই জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর ছিলো কুমিল্লা শহরে। জন বুলার এই জেলার প্রথম ডি. এম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৮৬৪ সনের ৩০ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ পৌরসভা ঘোষণার মাধ্যমে এই চারটি শহর মূলত প্রথম শহর হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলো। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লা শহরের ভিত্তিটা আমরা অনুধাবন করতে পারি। পৌরসভার চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নবাব হোচ্চাম হায়দার, কুমার নবদ্বীপ বর্মণের মতো খ্যাতিমানরা। ব্যবসা বাণিজ্য কিংবা মনোরম পরিবেশের বাইরেও কুমিল্লা শহর বিকশিত হবার পেছনে একটি বড় কারন হচ্ছে শিক্ষা।

১৮৩৭ সনে স্থাপিত কুমিল্লা জিলা স্কুল, ১৮৭৩ সনে নবাব ফয়জুন্নেছা স্কুল, ১৮৭৮ সনে বঙ্গবিদ্যালয় (কুমিল্লা হাইস্কুল), ১৮৭৯ সনে ইউসুফ হাইস্কুল এবং ১৮৯৯ সনে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইতিহাসে এক মাইল ফলক। এর কারণে প্রথমে অভিজাত শ্রেণি পরবর্তীতে মধ্যবিত্ত সমাজের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় কুমিল্লা শহরে বসতি স্থাপন। ৭০-৮০র দশকেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা কর্মসূত্রে কুমিল্লা এসেছেন তারা কুমিল্লায় একখন্ড জমি ক্রয়ের চেষ্টা করতেন।

প্রত্যেকের বাড়ির সামনে ছিল পুকুর, প্রতিটি বাড়ির সামনে কাচারি ঘর, খেলার জন্য অবারিত মাঠ, শহরজুড়ে বড় বড় দিঘি। ১৮৮৫ সনে প্রতিষ্ঠিত বীরচন্দ্র গণপাঠাগারে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভার্ণাল থিয়েটারের পরিবেশনায় নাটক, প্রায় প্রতিটি গৃহে সুরের মূর্ছনা। সত্যিকারের অর্থে এক ছায়াময় মায়ার শহর। যে শহরের প্রতিটি মানুষের মধ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ছিলো এক অপূর্ব মেলবন্ধন। এটি সহজতর হয়েছিলো জনসংখ্যার স্বল্পতার জন্য। টিপারা গেজেটিয়ারের মতে ১৮৮১ সনে শহর কুমিল্লার জনসংখ্যা ১৩,৩৭২, ১৮৯১ সনে ১৪,৬৮০জন।

মি. জে জে কামিং এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৮৫৫ সনে শহরে মাত্র ২৪টি পাকা ভবন ছিলো। ত্রিশ বছর পর ১৮৯৫ সনে মাত্র ৫৫টি পাকা ভবন। যেই শহরে একদা মাটির ঘর, টিনের ঘর, ছনের ঘরের সমাহার ছিলো সেই শহরে এখন কমপক্ষে চল্লিশ হাজার পাকা ভবন মাথা তুলে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। জনসংখ্যা দশ লক্ষেরও অধিক।

যুগের চাহিদার সাথে সারা দেশের মতো কুমিল্লার আবাসন ব্যবস্থায় ও পরিবর্তন এসেছে। ৩৫ কিলোমিটারের পৌরসভা এখন ৫৩ কিলোমিটারের সিটি কর্পোরেশন। শহরের যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু সুউচ্চ ভবনের সারি। ঢাকার পরে কুমিল্লা এখন আবাসন শিল্পের জন্য সবচেয়ে আকর্ষনীয় স্থান। চট্টগ্রামের চাইতেও এখানে ফ্ল্যাটের দাম বেশি। সবই হতে পারতো ইতিবাচক।

যেসকল কারণে কুমিল্লা শহর বিকশিত, আজকে সেগুলো ক্ষয়িষ্ণুতো বটেই পাশাপাশি নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এই শহর এখন যানজট, জলজটের পাশাপাশি জনজটের ও শিকার। জনসংখ্যার ভারে শহর ন্যুজ। পুকুর জলাশয় গুলি ভরাট করা হয়েছে নির্বিচারে, রাস্তা প্রসারিত কিংবা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে সংকুচিত হয়েছে, যা আছে তাও হকারদের নিয়ন্ত্রণে। ইজিবাইক এখন এই শহরের ভয়ংকর এক আতংকের নাম। প্রতিদিন ১০/১২ জন ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

শহরের সবুজ উধাও হয়েছে কবেই! ফলে ভবনের পর ভবন হচ্ছে কিন্তু এই ভবনের বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তা নেই, বিনোদনের সুব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা ব্যবস্থা জাতীয় মানের নয়, শিক্ষার মানে অধোগতি।

শচীনকর্তা, হিমাংশু দত্ত, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ আর মোহাম্মদ হোসেন খসরুর শহরে এখন আর আগের মতো সুরের মূর্ছনা নেই। ফলে ভবনগুলো যেন সরু দূর্বল দুপায়ের উপরে ভারি দেহ হয়ে টিকে থাকার লড়াই করছে। এ অবস্থায় উত্তরণ অবশ্যই সম্ভব। দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

তাই আসুন আমরা সবাই মিলে জাগিয়ে তুলবো কুমিল্লার এই আত্মাকে। বইয়ে দেব রাগ, রূপ, রস আর কর্মযোগের সেই অমৃতময়ী অলকানন্দধারা, যার সঞ্জীবণী রসে সমৃদ্ধ হয়ে আবার পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে নিঃশেষিত বিশুষ্ক প্রায় কুমিল্লার আপামর জনসাধারনের মানসলোক। আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলবো অলকানন্দার উৎসস্থল কুমিল্লাকে। এই স্বপ্নগুলো কি আদৌ বাস্তাবায়িত হবে?

আহসানুল কবীর

ইতিহাসবিদ, সংগঠক

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

২

কুমিল্লার জামাই সানি ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি

৩

কুমিল্লার একাল সেকাল

৪

নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৫

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: ডাকমন্ত্রী

সম্পর্কিত

স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লার জামাই সানি ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি

কুমিল্লার জামাই সানি ঢাকা-১৭ আসনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি

৪ ঘণ্টা আগে
নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজ হাতে মাটি কেটে খাল খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

৬ ঘণ্টা আগে
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: ডাকমন্ত্রী

নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: ডাকমন্ত্রী

৬ ঘণ্টা আগে