• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> বাংলাদেশ

নির্বাসন শেষে দেশের পথে তারেক রহমান, ঢাকায় ‘লিডার আসছে’ ধ্বনিতে মুখর

আমার শহর ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ১৯
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ২৩
logo

নির্বাসন শেষে দেশের পথে তারেক রহমান, ঢাকায় ‘লিডার আসছে’ ধ্বনিতে মুখর

আমার শহর ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ১৯
Photo

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নির্বাসন শেষে দেশের পথে রয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর ৩০০ ফিট রাস্তায় দুপুরে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে নেমেই তিনি সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। এরপর তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। ২০০৭ সালের পর তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ৮৪টি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে আদালত তাঁকে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। একই সঙ্গে তাঁর সাজা বাতিল করে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেকের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে বিএনপি।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকের ঢল নামাতে বড় প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। জনসমাগমের দিক দিয়ে অতীতের সব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব আয়োজন ছাড়িয়ে যাবে। নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে এলেও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি।

বিএনপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দফায় দফায় দলটির শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তারা। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের শক্তি দেখানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই আয়োজনের পেছনে। গতকাল মঙ্গলবার গণসংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আশা করছি, অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে।

এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী ঢাকা এসেছেন। আগামীকাল সকালেও অনেকে সংবর্ধনাস্থলে আসবেন।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন তিনি। বিমান বাংলাদেশের নির্ধারিত ফ্লাইটটি আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর সফরসঙ্গী পাঁচজন। এর মধ্যে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানও রয়েছেন।

দেশে ফেরার পর প্রথম তিন দিন তিনি যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, সে তথ্য জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে তারেক রহমানের তিন দিনের কর্মসূচির কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরে নামার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলীর মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে বাসভবনে চলে আসবেন। সেদিন আর অন্য কোনো অনুষ্ঠান হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরদিন ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি, একাত্তরের রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর, শনিবারও দুটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই দিন জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করবেন তিনি। এ জন্য তারেক রহমান সশরীর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যাবেন কি না, সেটা পরে জানানো হবে। ওই দিনই ভোটার হতে সব কাজ করবেন। এরপর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন।

শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সেখান থেকে রাজধানীর শ্যামলীতে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যাবেন তারেক রহমান। এরপর আরেকটি অনুষ্ঠান হবে, সেটার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার স্বপ্রণোদিত হয়েই সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে।

গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামছুল ইসলাম বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র একটা অংশ হলো চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স। তারপর আমাদের দলীয় নেতা-কর্মী এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ হলো আমাদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।’

শামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের সহায়তার জন্য সরকার তার বিভিন্ন বাহিনী এবং সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সব গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন, আমাদের দলীয় যে শক্তি আছে, সেটাকে ইন্টিগ্রেট করে আমরা আশা করছি, আমাদের জানামতে যতটুকু নিরাপত্তা আছে, তার চেয়ে অনেক শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা আমরা সৃষ্টি করব।’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, তারেক রহমান এমন এক সময়ে বাংলাদেশে আসছেন, যখন দেশের অবস্থা ভাল না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা তারেক রহমানের কর্মী হিসেবে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আজকের এই সংবর্ধনা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তারেক রহমান রাজধানীর বিএএফ শাহীন স্কুল, সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে স্কুল জীবন কাটান। রেসিডেন্সিয়াল থেকে তিনি এসএসসি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথম ভর্তি হন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৪ সালে চিকিৎসক জোবাইদা রহমানকে বিয়ে করেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানের ডাক নাম পিনু।

Thumbnail image

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নির্বাসন শেষে দেশের পথে রয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেশের মাটিতে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে রাজধানীর ৩০০ ফিট রাস্তায় দুপুরে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে নেমেই তিনি সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। এরপর তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখবেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়। ২০০৭ সালের পর তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ৮৪টি মামলা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে আদালত তাঁকে দণ্ডপ্রাপ্ত সকল অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। একই সঙ্গে তাঁর সাজা বাতিল করে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেকের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে বিএনপি।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকের ঢল নামাতে বড় প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। জনসমাগমের দিক দিয়ে অতীতের সব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে যে উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তাতে উপস্থিতির দিক দিয়ে অতীতের সব আয়োজন ছাড়িয়ে যাবে। নেতাকর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। এরপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছিলেন। স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান কয়েকবার দেশে এলেও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি।

বিএনপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর কুড়িলের ৩০০ ফুট এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে দলটি। পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে দলটি। মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দফায় দফায় দলটির শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সংবর্ধনায় অন্তত ৫০ লাখ মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন তারা। বিশেষ করে সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের শক্তি দেখানোর লক্ষ্যও রয়েছে এই আয়োজনের পেছনে। গতকাল মঙ্গলবার গণসংবর্ধনা মঞ্চ পরিদর্শন শেষে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আশা করছি, অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি হবে।

এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে নেতাকর্মী ঢাকা এসেছেন। আগামীকাল সকালেও অনেকে সংবর্ধনাস্থলে আসবেন।

এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল (বেবিচক) কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমানবন্দরে নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। বেবিচক কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত যাত্রী ছাড়া সব ধরনের সহযাত্রী ও ভিজিটরের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছেন তিনি। বিমান বাংলাদেশের নির্ধারিত ফ্লাইটটি আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর সফরসঙ্গী পাঁচজন। এর মধ্যে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা জারনাজ রহমানও রয়েছেন।

দেশে ফেরার পর প্রথম তিন দিন তিনি যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, সে তথ্য জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে তারেক রহমানের তিন দিনের কর্মসূচির কথা জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরে নামার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলীর মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে বাসভবনে চলে আসবেন। সেদিন আর অন্য কোনো অনুষ্ঠান হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরদিন ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি, একাত্তরের রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর, শনিবারও দুটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই দিন জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করবেন তিনি। এ জন্য তারেক রহমান সশরীর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যাবেন কি না, সেটা পরে জানানো হবে। ওই দিনই ভোটার হতে সব কাজ করবেন। এরপর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন।

শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সেখান থেকে রাজধানীর শ্যামলীতে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যাবেন তারেক রহমান। এরপর আরেকটি অনুষ্ঠান হবে, সেটার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার স্বপ্রণোদিত হয়েই সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছে।

গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামছুল ইসলাম বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র একটা অংশ হলো চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স। তারপর আমাদের দলীয় নেতা-কর্মী এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ হলো আমাদের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।’

শামছুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সব ধরনের সহায়তার জন্য সরকার তার বিভিন্ন বাহিনী এবং সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের গভীর ও নিবিড় সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং সব গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন, আমাদের দলীয় যে শক্তি আছে, সেটাকে ইন্টিগ্রেট করে আমরা আশা করছি, আমাদের জানামতে যতটুকু নিরাপত্তা আছে, তার চেয়ে অনেক শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা আমরা সৃষ্টি করব।’

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, তারেক রহমান এমন এক সময়ে বাংলাদেশে আসছেন, যখন দেশের অবস্থা ভাল না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা তারেক রহমানের কর্মী হিসেবে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আজকের এই সংবর্ধনা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তারেক রহমান জন্মগ্রহণ করেন। তারেক রহমান রাজধানীর বিএএফ শাহীন স্কুল, সেন্ট জোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে স্কুল জীবন কাটান। রেসিডেন্সিয়াল থেকে তিনি এসএসসি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রথম ভর্তি হন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (আইআর) বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৪ সালে চিকিৎসক জোবাইদা রহমানকে বিয়ে করেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তাঁর একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানের ডাক নাম পিনু।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

রাজধানীর বনশ্রীতে গলাকাটা স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

২

ওমরাহ করে দেশে ফিরেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী

৩

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন বায়রা সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের সভাপতি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়াসহ অন্যান্য প্রার্থী ও সমর্থকেরা

৪

এলপিজি বিক্রির ধর্মঘট প্রত্যাহার

৫

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হলেও চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়: তথ্য উপদেষ্টা

সম্পর্কিত

রাজধানীর বনশ্রীতে গলাকাটা স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বনশ্রীতে গলাকাটা স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

১৮ ঘণ্টা আগে
ওমরাহ করে দেশে ফিরেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে  জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী

ওমরাহ করে দেশে ফিরেই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী

৩ দিন আগে
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন বায়রা সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের  সভাপতি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়াসহ অন্যান্য প্রার্থী ও সমর্থকেরা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন বায়রা সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের সভাপতি প্রার্থী গফুর ভূঁইয়াসহ অন্যান্য প্রার্থী ও সমর্থকেরা

৩ দিন আগে
এলপিজি বিক্রির ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি বিক্রির ধর্মঘট প্রত্যাহার

৩ দিন আগে