কুমিল্লার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

কুমিল্লার ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংকট। ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ অপ্রতুল। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক-মা-ি লকরা। এদিকে ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি না মিললেও অতিরিক্ত মূল্যে খোলাবাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে।

সরকারি তালিকা অনুসারে কুমিল্লায় সড়ক-মহাসড়কের পাশে এবং নগরীতে ৮১টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এসব ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তারা তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে বসে আছে।

ফিলিং স্টেশন মালিকরা জানান, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে চাহিদার ৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন একটি ফিলিং স্টেশনে কমপক্ষে ৩০-৪০ হাজার লিটার জ্বালানির চাহিদা রয়েছে। সেখানে ডিপোগুলো ১ হাজার লিটার করে বরাদ্দ দিচ্ছে। এ পরিমাণ জ্বালানি এনে গাড়ি ভাড়া দিয়ে পোষানো যাচ্ছে না। তাই অনেক ফিলিং স্টেশন মালিক তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

তাদের অভিযোগ, একটি তেলবাহী ট্যাংকার ভরে আনতে হলে ১৫-১৭হাজার লিটার জ্বালানি লাগে। সেখানে ১ হাজার লিটার জ্বালানির জন্য ট্যাংকার পাঠালে উলটো অনেক লোকসান গুনতে হবে। সরেজমিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী এলাকার মাস্টার ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, পাঁচ দিন সেখানে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। দায়িত্বরত ইকবাল হোসেন বলেন, ডিপো থেকে মাত্র ১ হাজার লিটার করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যেখানে আমাদের প্রতিদিন চাহিদা ৩০-৪০ হাজার লিটার, সেখানে এক হাজার লিটার এনে আমরা কী করব? তাই বিক্রি বন্ধ রেখেছি। মহাসড়কের সোনালী ফিলিং স্টেশন, ইস্টার্ন, বিপাশা, কুমিল্লা

ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ স্টেশনে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি নেই। নগরীর নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, গত দুইদিন ওই স্টেশনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নগরীর টমছমব্রিজ এলাকায় আব্দুল হাকিম ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র। জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার চলছে। জেলার বহু যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

কুমিল্লা শহরতলীর শাসনগাছা ইস্টার্ন ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আবুল কালাম বলেন, এক সপ্তাহ ধরে তেল পাচ্ছি না। আবার পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেল এবং যানবাহনচালকদের কন্ট্রোল করতে পারছি না। চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। মোটরসাইকেলচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমার মোটরসাইকেলটি রাস্তায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঠেলতে ঠেলতে ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত এনেছি। এখন ইস্টার্ন ফিলিং স্টেশনে এসে দেখলাম অকটেন নেই।

মোটরসাইকেল এখানেই ফেলে চলে যাব। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পান্নারপুল ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, তিন দিন পেট্রোল ও অকটেন নেই। বহু মোটরসাইকেলচালক জ্বালানির জন্য অপেক্ষা করছেন। মিলছে না। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের পাশেই সোহেল এন্টারপ্রাইজ নামে একটি খোলা ডেলের দোকানে অতিরিক্ত মূল্যে পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি লিটারে ৫০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে খোলাবাজারে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করা হচ্ছে। পানির বোতলে করে হকাররা পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কালোবাজারিদের অপকৌশল ঠেকাতে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, জ্বালানি নিয়ে কারচুপি কিংবা জালজালিয়াতি ঠোকাতে কঠোর নজরদারি করছি। বর্তমানে সরবরাহ থেকে চাহিদা বেশি হওয়ায় কিছুটা সংকট দেখা যাচ্ছে। তবে দ্রুতই এ সংকট নিরসন হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত