দেশের জ্বালানি খাতে মাইলফলক

কুমিল্লায় দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় পেট্রোলিয়াম ডিপোর যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

দেশে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি বিপণন ডিপোর কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মগবাড়ি চৌমুহনীতে স্থাপিত ডিপোটি গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

কুমিল্লায় দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় পেট্রোলিয়াম ডিপো স্থাপন দেশের জ্বালানি খাতে মাইলফলক বলছেন স্থানীয় ডিলাররা। বিশেষ করে এতে কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর ব্যবসায়ীরা এতে উপকৃত হবেন। সাশ্রয় হবে পরিবহন খরচ। এনিয়ে ব্যবসায়ীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে আগত ডিলার তাজুল ইসলাম ও কামাল হোসেন বলেন, এই ডিপো স্থাপন কুমিল্লা অঞ্চলের জন্য আশীর্বাদ বলতে হবে। বিশেষ করে এখন দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে চাঁদপুর বা চট্টগ্রাম থেকে আর তেল আনতে হবে না। সড়কে সমস্যা হলে জ্বালানি তেল সংগ্রহেও কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

প্রধান অতিথি হিসেবে ডিপোর উদ্বোধন করেন বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খাঁন, বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিচালন) ড. এ কে এম আজাদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ শ্যামল, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু.রেজা হাসান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, এটা কুমিল্লাবাসী ও বাংলাদেশের জন্য খুশির দিন। দেশে এ প্রথম অটোমেটেড তেলের ডিপো কুমিল্লাতে চালু হয়েছে আজ। আগে আমরা দেখতাম তেলের ডিপোগুলো তেল ভরে নেওয়া হতো টাঙ্কিতে, যাতে কম বেশি হতো। কিন্তু এ ডিপোতে পুরোটা হবে অটোমেটেড প্রক্রিয়ায়। এখানে তেল নিতে গাড়ি ঢুকবে তারপর কার্ড পাঞ্চ করবে, তেল চলে আসবে কারো কোন সহযোগিতা লাগবে না। ঢাকা-চট্টগ্রামের যে দূরত্ব সেখানের মাঝামাঝি ডিপোটা হওয়ায় যাতায়াতে সাশ্রয় হবে। এছাড়াও এখন এখানে প্রতিদিন ১০০-১৫০ ট্রাক এসে দাঁড়াবে। লোক সমাগম হবে। এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য এ অয়েল ডিপো ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, 'চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন' প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ডিপো। এর অপারেশন কার্যক্রমে কোনো হাতের স্পর্শ থাকবে না। জ্বালানি তেল গ্রহণ থেকে বিতরণ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই থাকবে প্রযুক্তির ব্যবহার। যা দেশের পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সেক্টরে নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এ ডিপোতে বিপিসির তিন বিপণন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের ডিলার ডিস্ট্রিবিউটরদের মধ্যে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করবে। পুরো ডিপোটি তত্ত্বাবধান করবে পদ্মা অয়েল পিএলসি।

চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল নেবে এ ডিপো। এ ডিপো থেকে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালীসহ চার জেলায় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এতে স্থানীয় জ্বালানি সরবরাহে সময়ের পাশাপাশি সাশ্রয় হবে অর্থের। এছাড়া তেল চুরির মতো দীর্ঘদিনের দুর্নাম থেকে কিছুটা হলেও বেরিয়ে আসবে জ্বালানি সেক্টর।

সূত্র জানায়, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বরুড়া উপজেলার মগবাড়িতে ডিপোটির অবস্থান। ১৬ দশমিক ১৬৪ একর জায়গা জুড়ে ডিপোটি অবস্থিত।

ডিপোটিতে ১৯ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল, ১৫০০ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ১৫০০ মেট্রিক টন অকটেন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল গ্রহণের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবহন ধর্মঘট, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ আপৎকালীন পরিস্থিতিতে তেল গ্রহণ, মজুত এবং বিতরণ সচল রাখা সম্ভব হবে। বৃহত্তর কুমিল্লার ফিলিং স্টেশনগুলোসহ এলাকার গ্রাহকরা চাঁদপুর, ফতুল্লা-গোদনাইল থেকে তেল সংগ্রহ করতো। কুমিল্লায় ডিপো স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সৃষ্ট যানজট কমানো, টোল খরচ, সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত