মো. শরীফ উদ্দিন, বরুড়া

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীনতা আর দখলে-দূষণে কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার খালগুলো স্থানীয়দের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কার কিংবা খনন কাজ না হওয়ায় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালগুলো। অন্যদিকে এসব খালের বিভিন্ন অংশে কতিপয় ভ‚মিদস্যুরা নানাভাবে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে একদিকে বাসা-বাড়ি, রাস্তাঘাট জলাবদ্ধতায় জনসাধারণের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসমে কৃষি নির্ভর এ পৌরসভার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বছরের পর বছর। এই পরিস্থিতিতে পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় গত প্রায় আড়াই দশক যাবত এসব খালসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
পৌর শহরের মৌলভী বাজার, পাঠানপাড়া, মণিপুরা, অর্জুনতলা, দেওড়া, বাগমারা শুশুন্ডা, কাসেড্ডা, পুরান কাদবা, তলাগ্রাম, অফিসপাড়া এলাকার খালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত খনন কাজ না হওয়ায় এসব খালে হোটেল রেস্তোরাঁর বর্জ্য, বাসাবাড়ির আবর্জনা, বাজারের ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন বর্জ্য, ক্লিনিকেল বর্জ্যসহ নানা আবর্জনা খালজুড়ে জমে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে জন্মেছে কচুরিপানা, বিভিন্ন প্রজাতির আগাছা।
যার ফলে এ সমস্ত আবর্জনায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ। আর পানির সঙ্গে ময়লা আবর্জনা মিশে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঘটছে পরিবেশের দূষণ। বংশবিস্তার করছে মশা-মাছিসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গ। এ থেকে সৃষ্ট নানা ধরনের রোগজীবাণু বিস্তার ঘটছে। এক শ্রেণির কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এসব খালের বিভিন্ন স্থানের পাড় ও খাল দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। ফলে কমে গেছে খালের প্রশস্ততা এবং গভীরতা।
পৌর শহরের বরুড়া গ্রামের হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, এক সময় এসব খালের পানির ব্যাপক প্রবাহ ছিল। ডাকাতিয়া-মেঘনার সঙ্গে সংযোগ থাকায় ছিল জোয়ার-ভাটা। শৈশবকালে এসব খালের ওপর লাফিয়ে পড়ে আনন্দে মেতেছি। হাজীগঞ্জ, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যে বরুড়ার অন্যতম জলপথ ছিল এসব খাল। পৌর শহরের পাট বাজারে ছিল নৌকার ঘাট। আর এ ঘাটসহ আশেপাশে খালসমূহে ধান, চাল, পাট, গুড়, মাছসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী বোঝাই শত শত নৌকা এখানে ভিড়ত। এছাড়া প্রতি বছর কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাসে পানি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালে এলাকার শত শত মানুষ জালসহ নানা উপকরণ দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতেন। এখন এসব শুধুই স্মৃতি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিনুর রহমান খান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, পৌরসভার খালগুলো খনন করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন, এত অর্থ পৌরসভার নেই।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি বলেন, সম্প্রতি পৌর প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তির পর পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ২শ মিটার খালের আবর্জনা পরিষ্কার করানো হয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে পৌর শহরের খালগুলোর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী বর্ষার পূর্বে মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বিলীন হয়ে যাওয়া এ খালগুলো উদ্ধার করে পুনরায় খননের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি পৌরসভার নাগরিক ও বাজার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিপূর্বে মাইকিং করে ও সাইনবোর্ড টানিয়ে জানানো হয়েছে যেন কেউ খালে ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীনতা আর দখলে-দূষণে কুমিল্লার বরুড়া পৌরসভার খালগুলো স্থানীয়দের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্কার কিংবা খনন কাজ না হওয়ায় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালগুলো। অন্যদিকে এসব খালের বিভিন্ন অংশে কতিপয় ভ‚মিদস্যুরা নানাভাবে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে একদিকে বাসা-বাড়ি, রাস্তাঘাট জলাবদ্ধতায় জনসাধারণের যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসমে কৃষি নির্ভর এ পৌরসভার ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে বছরের পর বছর। এই পরিস্থিতিতে পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতায় গত প্রায় আড়াই দশক যাবত এসব খালসমূহ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
পৌর শহরের মৌলভী বাজার, পাঠানপাড়া, মণিপুরা, অর্জুনতলা, দেওড়া, বাগমারা শুশুন্ডা, কাসেড্ডা, পুরান কাদবা, তলাগ্রাম, অফিসপাড়া এলাকার খালসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত খনন কাজ না হওয়ায় এসব খালে হোটেল রেস্তোরাঁর বর্জ্য, বাসাবাড়ির আবর্জনা, বাজারের ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন বর্জ্য, ক্লিনিকেল বর্জ্যসহ নানা আবর্জনা খালজুড়ে জমে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে জন্মেছে কচুরিপানা, বিভিন্ন প্রজাতির আগাছা।
যার ফলে এ সমস্ত আবর্জনায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ। আর পানির সঙ্গে ময়লা আবর্জনা মিশে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঘটছে পরিবেশের দূষণ। বংশবিস্তার করছে মশা-মাছিসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গ। এ থেকে সৃষ্ট নানা ধরনের রোগজীবাণু বিস্তার ঘটছে। এক শ্রেণির কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় এসব খালের বিভিন্ন স্থানের পাড় ও খাল দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা অবৈধ স্থাপনা তৈরি করছে। ফলে কমে গেছে খালের প্রশস্ততা এবং গভীরতা।
পৌর শহরের বরুড়া গ্রামের হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী বলেন, এক সময় এসব খালের পানির ব্যাপক প্রবাহ ছিল। ডাকাতিয়া-মেঘনার সঙ্গে সংযোগ থাকায় ছিল জোয়ার-ভাটা। শৈশবকালে এসব খালের ওপর লাফিয়ে পড়ে আনন্দে মেতেছি। হাজীগঞ্জ, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যে বরুড়ার অন্যতম জলপথ ছিল এসব খাল। পৌর শহরের পাট বাজারে ছিল নৌকার ঘাট। আর এ ঘাটসহ আশেপাশে খালসমূহে ধান, চাল, পাট, গুড়, মাছসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী বোঝাই শত শত নৌকা এখানে ভিড়ত। এছাড়া প্রতি বছর কার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাসে পানি হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এসব খালে এলাকার শত শত মানুষ জালসহ নানা উপকরণ দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে উঠতেন। এখন এসব শুধুই স্মৃতি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিনুর রহমান খান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, পৌরসভার খালগুলো খনন করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন, এত অর্থ পৌরসভার নেই।
বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি বলেন, সম্প্রতি পৌর প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তির পর পৌরসভার অর্থায়নে প্রায় ২শ মিটার খালের আবর্জনা পরিষ্কার করানো হয়েছে। অর্থ সংকটের কারণে পৌর শহরের খালগুলোর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। আমরা আগামী বর্ষার পূর্বে মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে বিলীন হয়ে যাওয়া এ খালগুলো উদ্ধার করে পুনরায় খননের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি পৌরসভার নাগরিক ও বাজার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিপূর্বে মাইকিং করে ও সাইনবোর্ড টানিয়ে জানানো হয়েছে যেন কেউ খালে ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয়।