চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কানাইল নদীর পাড় ও পাশের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। নদীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বারাইশ-নবগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন উত্তরাংশে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। মাত্র কয়েকমাস আগে খনন কাজ শেষ হওয়া নদীটির পাড় রক্ষা ও মাটি কাটায় অভিযুক্ত চক্রটি বারাইশ গ্রামের। তাঁরা দীর্ঘ বছর ধরে বারাইশ ও নবগ্রাম এলাকার পাশের মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস্সহ অন্তত ৫-৬টি ইটভাটায় দিচ্ছে ফসলি জমি, কানাইল নদী ও পাড়ের মাটি। গত বছর কানাইল নদীর মাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারাইশ গ্রামের অসাধু চক্রের সঙ্গে যুব সমাজের একাধিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
অনেকের অভিযোগ, মাটি কাটা চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অভিযান না করায় তারা কানাইল নদী, নদীর পাড় ও পাশের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎকোচ নিয়ে আসায় চক্রটি মাটি কাটায় আরও দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিসের সামনে মাটিকাটা চক্রের বেতনভুক্ত সোর্স নিয়োগ থাকায় প্রশাসন অভিযানে বের হলেই তাঁরা খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যায়। ফলে তথ্য পেয়ে প্রশাসন অভিযানে বের হলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন কিছুই পায় না। সম্প্রতি কানাইল নদী ও পাড়ের মাটি রাত ৯টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এবং পাশের ফসলি জমির মাটি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেটে নিয়ে ইটভাটা ও বাড়ি ভরাটে বিক্রি করছে। কানাইল নদী উপজেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী হলেও অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া মিজির ব্রিজ থেকে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাইল খালটি পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পায় দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকার ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্স’ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নদীর পাড় রক্ষণাবেক্ষণ, পাড়ে গাছ লাগাতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে জামানতের ১০শতাংশ টাকা কেটে রাখা হবে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, সারাদেশে একযোগে খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধনুসাড়া ব্রিজ থেকে সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত এ কানাইল খালটি খনন করা হয়। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঠিকাদার যথাসময়েই খনন কাজটি শেষ করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রকল্পের সার্বিক দেখভাল তারাই করবে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও তদারকি করছি সবসময়। এরমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ শেষে নিয়মানুযায়ী ঠিকাদার খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। বৃক্ষরোপণকালীন বর্ষা মৌসুম থাকায় এবং গরু-ছাগলের কারণে বেশকিছু চারাগাছ নষ্ট হওয়াসহ অনেকগুলো গাছ মরে যায়। বিভিন্ন প্রকল্পেই এমন ঘটনা ঘটে বিধায় এসব প্রকল্পে জামানত হিসেবে ১০ শতাংশ বিল আটকে রাখার বিধান রয়েছে। এরপর আমরা বিভিন্ন ধাপে প্রকল্প তদারকি শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে জামানতের টাকা তুলতে পারবে ঠিকাদার। কিছুদিন আগে সরেজমিন এসে দেখলাম কিছু গাছ নাই হয়ে গেছে। পরে আবার পরিপত্র জারি করে ঠিকাদারকে মৃত গাছের জায়গায় নতুন চারাগাছ প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। গত সপ্তাহে ঠিকাদার নতুন করে মরা ও নষ্ট হওয়া গাছের স্থানে প্রায় এক হাজার চারাগাছ প্রতিস্থাপন করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝিতে শেষ হবে। মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি তদারকি অব্যাহত থাকবে। এরপরও কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে জরুরি ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক সমাধান করা হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণের পর যাচাই শেষে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। প্রতিবেদনের আলোকে ঠিকাদার জামানত ফেরত পাবে। অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্তও হতে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্সের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর পাড়ের মাটি কাটছে কি না আমার জানা নেই। তবে আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করব।
এলজিইডির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কানাইল নদীর খনন কাজ শেষ করে ফাইল বুঝিয়ে দিয়েছে। নদীর পাড় এবং পাড়ে গাছ লাগানোর শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ জামানত অফিসে জমা আছে। নদীর পাড় কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, কানাইল নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কানাইল নদীর পাড় ও পাশের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। নদীর মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বারাইশ-নবগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন উত্তরাংশে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র। মাত্র কয়েকমাস আগে খনন কাজ শেষ হওয়া নদীটির পাড় রক্ষা ও মাটি কাটায় অভিযুক্ত চক্রটি বারাইশ গ্রামের। তাঁরা দীর্ঘ বছর ধরে বারাইশ ও নবগ্রাম এলাকার পাশের মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস্সহ অন্তত ৫-৬টি ইটভাটায় দিচ্ছে ফসলি জমি, কানাইল নদী ও পাড়ের মাটি। গত বছর কানাইল নদীর মাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বারাইশ গ্রামের অসাধু চক্রের সঙ্গে যুব সমাজের একাধিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
অনেকের অভিযোগ, মাটি কাটা চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অভিযান না করায় তারা কানাইল নদী, নদীর পাড় ও পাশের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎকোচ নিয়ে আসায় চক্রটি মাটি কাটায় আরও দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম ইউএনও ও এসিল্যান্ড অফিসের সামনে মাটিকাটা চক্রের বেতনভুক্ত সোর্স নিয়োগ থাকায় প্রশাসন অভিযানে বের হলেই তাঁরা খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যায়। ফলে তথ্য পেয়ে প্রশাসন অভিযানে বের হলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন কিছুই পায় না। সম্প্রতি কানাইল নদী ও পাড়ের মাটি রাত ৯টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এবং পাশের ফসলি জমির মাটি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেটে নিয়ে ইটভাটা ও বাড়ি ভরাটে বিক্রি করছে। কানাইল নদী উপজেলা প্রশাসনের নিকটবর্তী হলেও অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পুকুর-খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া মিজির ব্রিজ থেকে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কানাইল খালটি পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাজটি সম্পন্নের দায়িত্ব পায় দাউদকান্দির হাসানপুর এলাকার ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্স’ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত নদীর পাড় রক্ষণাবেক্ষণ, পাড়ে গাছ লাগাতে হবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে। এর কোনো ব্যত্যয় হলে জামানতের ১০শতাংশ টাকা কেটে রাখা হবে।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, সারাদেশে একযোগে খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ধনুসাড়া ব্রিজ থেকে সিংরাইশ ব্রিজ পর্যন্ত এ কানাইল খালটি খনন করা হয়। প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঠিকাদার যথাসময়েই খনন কাজটি শেষ করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে। প্রকল্পের সার্বিক দেখভাল তারাই করবে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও তদারকি করছি সবসময়। এরমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্পের কাজ শেষে নিয়মানুযায়ী ঠিকাদার খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। বৃক্ষরোপণকালীন বর্ষা মৌসুম থাকায় এবং গরু-ছাগলের কারণে বেশকিছু চারাগাছ নষ্ট হওয়াসহ অনেকগুলো গাছ মরে যায়। বিভিন্ন প্রকল্পেই এমন ঘটনা ঘটে বিধায় এসব প্রকল্পে জামানত হিসেবে ১০ শতাংশ বিল আটকে রাখার বিধান রয়েছে। এরপর আমরা বিভিন্ন ধাপে প্রকল্প তদারকি শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে জামানতের টাকা তুলতে পারবে ঠিকাদার। কিছুদিন আগে সরেজমিন এসে দেখলাম কিছু গাছ নাই হয়ে গেছে। পরে আবার পরিপত্র জারি করে ঠিকাদারকে মৃত গাছের জায়গায় নতুন চারাগাছ প্রতিস্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। গত সপ্তাহে ঠিকাদার নতুন করে মরা ও নষ্ট হওয়া গাছের স্থানে প্রায় এক হাজার চারাগাছ প্রতিস্থাপন করে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের মাঝামাঝিতে শেষ হবে। মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি তদারকি অব্যাহত থাকবে। এরপরও কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে জরুরি ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক সমাধান করা হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণের পর যাচাই শেষে প্রতিবেদন প্রদান করা হয়। প্রতিবেদনের আলোকে ঠিকাদার জামানত ফেরত পাবে। অন্যথায় জামানত বাজেয়াপ্তও হতে পারে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স লিবার্টি ট্রেডার্সের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, নদীর পাড়ের মাটি কাটছে কি না আমার জানা নেই। তবে আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি, এলাকায় এসে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করব।
এলজিইডির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কানাইল নদীর খনন কাজ শেষ করে ফাইল বুঝিয়ে দিয়েছে। নদীর পাড় এবং পাড়ে গাছ লাগানোর শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশ জামানত অফিসে জমা আছে। নদীর পাড় কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, কানাইল নদীর পাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।