কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)

সুযোগ হাত ছাড়া করেছেন কামরুল হুদা নিজেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা। নির্বাচনে তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের কাছে হেরেছেন ৬৪ হাজার ৮০২ ভোটে। এ নির্বাচনে ডা. তাহের পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪০ ভোট ও কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট। নির্বাচনে কামরুল হুদা নিজেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় পুরো চৌদ্দগ্রামে যখন বিএনপির রাজনীতি পিছিয়ে ছিল তখন কামরুল হুদা দলের হাল ধরেন। তিনি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গিয়ে হামলা মামলার শিকার হন। জুলাই আন্দোলনের ৫ আগস্টের পর চৌদ্দগ্রামে বিএনপির লোকজন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এতে করে তাঁরা বাড়িঘর ছাড়া হন। এতে করে ক্ষুদ্ধ হন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তাঁদের কেউ কেউ তলে তলে জামায়াতের জন্য কাজ করেন। পরিবারের নারী সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে পাঠান। ওই কারণেও কামরুল হুদার ভোট কমে।

এছাড়া কামরুল হুদা বিএনপির প্রবীণ নেতা কাজী নাসিমুল হককে নির্বাচনী প্রচারণার একেবারেই শেষের দিকে মাঠে নামান। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি তোফায়েল হোসেন জুয়েলকেও প্রচারণার শেষ মূহুর্তে নামান। বিএনপি নেতা তাহের পলাশীর সঙ্গেও তাঁর তলে তলে দুরত্ব ছিল। কিছু কিছু কেন্দ্রে তিনি এজেন্ট দিতে পারেননি। দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁর জন্য মনপ্রাণ দিয়ে মাঠে ছিলেন না। চৌদ্দগ্রামের আলকরা, গুণবতী ও জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নে কাজ করতে পারেননি। বিকল্প কোন ব্যবস্থাও নেননি।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, কামরুল হুদা কারও পরামর্শ গ্রহণ করতেন না। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর প্রচারণায় সমন্বয়ের অভাব ছিল। জেলার নেতাদের নিয়ে তাঁর এলাকায় গণসংযোগও কম ছিল। গণমাধ্যমকর্মীসহ যাঁরা তাঁর আশপাশে ছিলেন এদের বেশির ভাগই ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের লোক। দলীয় বহু গ্রহণযোগ্য নাগরিককে জামায়াতের প্রার্থী ডা. তাহেরের মঞ্চে দেখা গেছে।

চৌদ্দগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত একজন কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনে এবার কামরুল হুদা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারতো। তিনি কারও সঙ্গে সমন্বয় করেননি। অথচ নির্বাচনী মাঠটা জমিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের ১২৭ টি কেন্দ্রের বেশির ভাগ আসনে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ৪ লাখ ২১ হাজার ৫২৮ জন ভোটারের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে আসেনি।

এ প্রসঙ্গে কামরুল হুদার মুঠোফোনে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ফোন করা হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, একজন জাতীয় নেতার সঙ্গে স্থানীয় নেতার লড়াই জমেনি। এই এলাকার সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানেরা দলমত নির্বিশেষে ডা. তাহেরের জন্য কাজ করেছেন। জামায়াত এখানে বহু আগ থেকেই সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত