কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতার ঘুষিতে নাক ফাটল শিক্ষার্থীর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দুই আবাসিক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ঘুষিতে একজনের নাক ফেটে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রত্ব শেষ হওয়া ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার দুজন হলেন-শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবিড়। এর মধ্যে সৌরভের নাক ফেটে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের ছাদে ওই দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আতিকুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নিবিড়কে চড় মারেন আতিকুর রহমান। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তাকে ধাক্কা দেন। পড়ে গিয়ে তার হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে। পরে সৌরভ কাব্য বিষয়টির প্রতিবাদ করতে গেলে আতিকুর তার নাকে সজোরে ঘুষি মারেন। এসময় সৌরভের নাক দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। একপর্যায়ে হলের শিক্ষার্থীরা বের হয়ে ঝামেলা দেখে আতিকুরকে ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে আতিকুর পালিয়ে যান। জানা গেছে, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও বলপ্রয়োগ করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ কক্ষের একটি সিট দখল করে গত চার দিন ধরে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনুসারীদের নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ওঠানোর অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ৫০০২ নাম্বার রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উনি আমার রুমে আমার গেস্ট হিসেবে ছিলেন। এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাবেন, তা আমার জানা ছিল না। মারধরের শিকার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তৌফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন, আমরা কয়েকজন হলের নিচে বসে গল্প করছিলাম। এমন সময় আতিক সেখানে এসে হলে ওঠার কথা বলেন। তখন আমি তাকে জানাই যে, নিয়ম মেনে প্রভোস্টের মাধ্যমে আসতে হবে। আমার কথা শুনে আতিক হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার কলার ধরে চড় মারেন। পরে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। সৌরভ সেটার প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে নাকে-মুখে ঘুষি দিতে থাকেন। এ সময় আঘাতে সৌরভের নাক ফেটে যায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে আতিক ও তার সঙ্গে থাকা সাইফুল সেখান থেকে পালিয়ে যান। কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, এটা একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যা খুবই দুঃখজনক। এটা সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের কারণে হয়েছে কিনা সেটা দেখতে হবে। এতে যেই অপরাধী হবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হলে ছাত্রদলের কর্মীদের সিটে ওঠা নিয়ে তিনি বলেন, হলগুলো মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য। জুনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকবে, সিনিয়ররা যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকবে। হলের নির্দিষ্ট যে নিয়ম আছে, সেই নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু চলবে। ছাত্রদলের অনেক শিক্ষার্থী হলের বাইরে থাকেন। আবার অনেক দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী হলে থাকার চেষ্টা করেন। গত ১৮ মাসে শুধুই ছাত্রদল করার কারণে হলে অবস্থান করেছেন, এমন কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না এবং এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তবে আতিকুরের হলে থাকার বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। এ বিষয়ে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবে। ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমানকে মোবাইল ফোন একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনকল কেটে দেন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি এবং আমি ইতোমধ্যে হাউস টিউটরদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এখনো কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত অনেকেই হলে সিট পাওয়ার বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমরা তাদেরকেই হলে সিট দেব। যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের হলে সিট পাওয়ার সুযোগ নেই।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত