৫ টাকার জন্য হোমনার জুলহাস মিয়া খুন, আসামির মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

মাত্র পাঁচ টাকার জন্য খুন করা হয় জুলহাস মিয়াকে। সেই ঘটনায় মামলা হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায়। গ্রেপ্তার করা হয় মামলার একমাত্র আসামি মো. কাজলকে। অবশেষে মামলার আট বছর পর এই মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। একমাত্র আসামি কাজলকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ১১ নম্বর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নূরুল ইসলা-ে মর আদালত এই আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ থেকে জেল হাজতে রয়েছেন। রায়ের জন্য আসামিকে কারাগারে থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাজল নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার জারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। মামলায় অভিযোগে বলা হয়, কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দরিচর গ্রামের জুলহাস মিয়া শেরেবাংলা নগর থানার ২৫/বি ইন্দিরা রোড, ফার্মগেটের এক বাসায় ৩০ বছর যাবৎ কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় ওই বাসা সংলগ্ন রাজা অ্যান্ড কোং নামক সিমেন্টের দোকানের সামনে যান তিনি। তখন আসামি কাজল তার কাছে পাঁচ টাকা চায়। তিনি টাকা দিতে দেরি হওয়ায় কাজল নিজের হাতে থাকা ছুরি দিয়া কাজলের নাভির ওপরে আঘাত করে। এর ফলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে যাচাই-বাছাই শেষে কাজলকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার নিহতের ছেলে মো. সাইফুল রাজধানীর শেরেবাং-লা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক কাজলকে। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে আসামি কাজল আদালতের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

একই বছরের ৯ জুন মামলাটি তদন্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. সুজানুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক-ভাবে চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচারকালে ১৫ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেয় আদালত।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত