প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা কর্মবিরতিতে কুমিল্লায় বার্ষিক পরীক্ষা নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক, এমএলএসএস ও পিটিআইয়ের লোকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা কর্মবিরতিতে থাকায় কুমিল্লায় বার্ষিক (তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন) পরীক্ষা নিচ্ছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, এমএলএসএস, অভিভাবক, পিটিআইয়ের প্রশিক্ষক ও সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে করে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো স্কুলে প্রথমদিনের পরীক্ষাও হয়নি। আজ বাংলা পরীক্ষা হবে।

কোমলমতি শিশুদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর আগেই গত ২৭ নভেম্বর থেকে আন্দোলনে সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলো- সহকারী শিক্ষকদেও বর্তমান বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড থেকে ১০তম গ্রেডে উন্নীত করা, শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান ও সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। প্রথম দিন প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। ওই পরীক্ষা জেলার সব স্কুলে হয়নি। ২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান ও প্রাথমিক বিজ্ঞান ( সমন্বিত) এবং তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরীক্ষা ছিল। গতকাল শিল্পকলা বিষয়ের পরীক্ষা ছিল। প্রথম দিনের ইংরেজি পরীক্ষা সব স্কুলে হয়নি। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিনের পরীক্ষা প্রধান শিক্ষক, অভিভাবক, কর্মচারী ও পিটিআইয়ের লোকজন নিয়েছেন। আজ বাংলা পরীক্ষা হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে কুমিল্লা নগরের কয়েকটি স্কুল ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকেরা অফিস কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কেউ ফেসবুক দেখছেন। কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জুম বৈঠকে আছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি ও নগরের পুরাতন চৌধুরী পাড়া রেয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লায়লা নূর পিংকিং বলেন,‘ কুমিল্লা নগরে ৩৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সব সহকারী শিক্ষক কর্মবিরতিতে আছেন। আমাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা অধিদপ্তরের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।’

কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি ও গলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন,‘ আমাদের দাবি নিয়ে আমরা দৃশ্যমান ঘোষণা চাই। গত ১০ নভেম্বর আমরা আন্দোলন থেকে উঠি । কিন্তু এরই মধ্যে কোন দাবি পূরণ হয়নি। আমরা আগাম ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল বলেন, শিক্ষকেরা আন্দোলনে থাকায় অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক ও অন্যরা মিলে পরীক্ষা নিচ্ছে। কুমিল্লার কয়েকটি স্কুলে পরীক্ষা নিয়ে সহকারী শিক্ষকেরা ঝামেলা করেছে । আমরা শিক্ষকদের অনুরোধ করেছি পরীক্ষা নিতে। অভিভাবকদের নিয়ে পরীক্ষা নিচ্ছি। আমি কক্সবাজারে ট্রেনিংয়ে আছি। বৃহস্পতিবার অফিস করব।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত