কুমিল্লার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আজ বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি , স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জানলো কর্মবিরতিতে শিক্ষকেরা, মাউশির কড়া বার্তাও মানেননি শিক্ষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪: ০৬
Thumbnail image

চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে কুমিল্লার সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আজ বার্ষিক পরীক্ষা নেননি। শিক্ষার্থীরা রাতভর পড়াশোনা করে সকাল ও দুপুরে স্কুলে গিয়ে জানলো আজ পরীক্ষা হবে না। কালও পরীক্ষা হবে কিনা তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। তাঁরা আজ সোমবার থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছে।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ( মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, সকল পরীক্ষা কার্যক্রম বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষাসমূহ গ্রহণে শিক্ষক/কর্মকর্তাও কোন প্রকার শৈথিল্য/ অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মাউশির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ দেখছেন। শিক্ষার্থীদের এভাবে জিম্মি করে দাবি আদায় কোনভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ও নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেবেকা সুলতানা বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষকদের চারটি দাবি হলো— সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ এর গেজেট প্রকাশ। বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২ থেকে ৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ। সারাদেশের ৭২৮টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মবিরতির কারণে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি।

শিক্ষকেরা শ্লোগান তুলেছেন - নো ইনক্রিমেন্ট নো ওয়ার্ক, নো গেজেট অব সেকেন্ডারি নো ওয়ার্ক, নো টি এস এস জি ও অ্যাডভান্স ইনক্রিমেন্ট নো ওয়ার্ক, নো প্রমোশন নো ওয়ার্ক।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদা ও বেতন-ভাতা সংক্রান্ত চার দফা দাবির বিষয়ে গতকাল রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে শিক্ষকেরা দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু দাবিগুলো না মানায় আজ সোমবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।

কুমিল্লার একজন অভিভাবক বলেন, নভেম্বরের ২০ তারিখের পর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার মাঝপথে পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া অন্যায়। এ পর্যন্ত মাধ্যমিকের কোন শিক্ষার্থীদের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। এখন শিক্ষকেরা পরীক্ষা বন্ধ করছে। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি পূরণ হোক, অভিভাবক হিসেবে আমরাও তা চাই। কিন্তু আতকা কর্মসূচি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে দেওয়া অযৌক্তিক। বার্ষিক পরীক্ষার পর ছেলেমেয়েদের নানা ধরণের কর্মসূচি থাকে।

নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তার বলেন, শিক্ষকরা কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তাই পরীক্ষা হয়নি।

গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, শিক্ষকদের কর্মবিরতির ডাকে সোমবার বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি।

কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল হাফিজ বলেন, জিলা স্কুলে পরীক্ষা হয়নি।

নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী বলেন, এ পর্যন্ত ছয়টা পরীক্ষা হয়েছে। সোমবার পরীক্ষা হলে সাতটা বিষয়ের হতো। কিন্তু পরীক্ষা নেননি শিক্ষকেরা। আগাম নোটিশ দিলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

একজন অভিভাবক বলেন, সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল দেবে। এখন আন্দোলন করা কি দরকার। দাবি পূরণ করবে নির্বাচিত সরকার। আন্দোলনের নামে মহা ভোগান্তি আমাদের। স্কুলে মিশুক ভাড়া করে এসে জানলাম পরীক্ষা হবে না।

আন্দোলনরত এক শিক্ষক বলেন, রাতে মাউশি সভা করে। ভোরে চিঠি দেয়। তারা আগে কোথায় ছিলেন। এভাবে তো কর্মসূচি স্থগিত করা যায় না। আমরা প্রয়োজনে শুক্র ও শনিবার পরীক্ষা নেব। অভিভাবকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করছি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত