আমার শহর ডেস্ক

'উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি' এই শ্লোগান নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা হয়। প্রজাপতি উৎসবে সাজ সাজ রব। শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ-তরুণী- সবার হাতে ও গালে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের প্রজাপতির প্রতিচ্ছবি। কেউ পরেছে প্রজাপতির মুখোশ, কারও চোখে-মুখে মুগ্ধতা। গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭২ প্রজাতির মেলা বসে। ২০১০ সালে প্রায় ১১০ প্রজাতির দেখা মিলত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ আয়োজিত ১৫তম আসরের উৎসবের আড়ালে এমন উদ্বেগের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, রাতে অতিরিক্ত আলো প্রজাপতির নেভিগেশন সিস্টেম নষ্ট করে। তাদের আচরণ পরিবর্তন করে দেয়। দ্রুত নগরায়ণের চাপে শহরাঞ্চলে গুন্মনির্ভর প্রজাতিগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ সংকট কেবল জাবির নয়-বিশ্বজুড়েই প্রজাপতির অবস্থান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। তিন দশকে প্রজাপতির সংখ্যা কমেছে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রজাপতি গবেষক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, '২০১০ সালে প্রথম মেলা আয়োজনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো প্রজাপতির অভয়ারণ্য। ছোট গুল্ম, লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় ও ছায়াঘন বনাঞ্চলে ভরা ছিল পুরো ক্যাম্পাস। তখন প্রজাপতির প্রজাতি ছিল ১১০টির মতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭২টিতে।' তিনি বলেন, প্রতিবছরই এ সংখ্যা কমছে। যেমন, গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশ কিছু কমেছে। কারণ, ছোট গাছপালা আর ঝোপঝাড় কমে গেছে। হোষ্ট প্লান্টের সংকটে জীবনচক্র ভেঙে পড়ছে। ঝোপঝাড়-গাছ নিধন, নির্মাণকাজ ও অতিরিক্ত মশানাশকের ব্যবহার প্রজাপতির আবাসস্থলের গুরুতর ক্ষতি করেছে।
যেভাবে স্বরূপে ফিরতে পারে প্রজাপতি: প্রজাপতির হারানো বৈচিত্র্য ফেরাতে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রথমত হোউ প্লান্ট পুনঃরোপণ অর্থাৎ মিল্কউইড, ল্যান্টানা, কাসিয়া, ক্যালোট্রোপিস, সাইট্রাসসহ লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির খাদ্য উদ্ভিদ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বিচারে ঝোপঝাড় নিধন বন্ধ করে লার্ভাসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো সুরক্ষিত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, ক্যাম্পাস-সংলগ্ন যে কোনো নির্মাণকাজে পরিবেশগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সড়ক বা ভবন নির্মাণ না করা। চতুর্থত, মশানাশকে নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে প্রজাপতি হটস্পটগুলোতে 'নো কেমিক্যাল জোন' ঘোষণা করা জরুরি। পঞ্চমত, বিচ্ছিন্ন সবুজ এলাকা ও গুল্মজাতীয় গাছকে সংযুক্ত করে 'প্রজাপতি সংরক্ষণ করিডর' তৈরি করতে হবে, যাতে চলাচল ও প্রজনন বাধাহীন হয়।
গণসচেতনতায় প্রজাপতি মেলা শিশুদের সচেতন করতে এবারও আয়োজন করা হয় 'প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো'। ছিল আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি ও প্রকৃতিবিষয়ক কুইজ, ফটো প্রদর্শনী, ঘুড়ি উড্ডয়ন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। মেলায় প্রকৃতি সংরক্ষণে অবদানের জন্য বন্যপ্রাণী বিশারদ ও সংরক্ষণবিদ ড. আলী রেজা খানকে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। বাটারফ্লাই ইয়াং এনদুসিয়াষ্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় জাবির সাবেক শিক্ষার্থী নুরে আফসারী ও. শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময়কে।

'উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি' এই শ্লোগান নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রজাপতি মেলা হয়। প্রজাপতি উৎসবে সাজ সাজ রব। শিশু-কিশোর কিংবা তরুণ-তরুণী- সবার হাতে ও গালে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের প্রজাপতির প্রতিচ্ছবি। কেউ পরেছে প্রজাপতির মুখোশ, কারও চোখে-মুখে মুগ্ধতা। গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭২ প্রজাতির মেলা বসে। ২০১০ সালে প্রায় ১১০ প্রজাতির দেখা মিলত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ আয়োজিত ১৫তম আসরের উৎসবের আড়ালে এমন উদ্বেগের কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
পরিবেশবিদরা বলছেন, রাতে অতিরিক্ত আলো প্রজাপতির নেভিগেশন সিস্টেম নষ্ট করে। তাদের আচরণ পরিবর্তন করে দেয়। দ্রুত নগরায়ণের চাপে শহরাঞ্চলে গুন্মনির্ভর প্রজাতিগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ সংকট কেবল জাবির নয়-বিশ্বজুড়েই প্রজাপতির অবস্থান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। তিন দশকে প্রজাপতির সংখ্যা কমেছে ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও প্রজাপতি গবেষক ড. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, '২০১০ সালে প্রথম মেলা আয়োজনের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হতো প্রজাপতির অভয়ারণ্য। ছোট গুল্ম, লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় ও ছায়াঘন বনাঞ্চলে ভরা ছিল পুরো ক্যাম্পাস। তখন প্রজাপতির প্রজাতি ছিল ১১০টির মতো। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৭২টিতে।' তিনি বলেন, প্রতিবছরই এ সংখ্যা কমছে। যেমন, গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেশ কিছু কমেছে। কারণ, ছোট গাছপালা আর ঝোপঝাড় কমে গেছে। হোষ্ট প্লান্টের সংকটে জীবনচক্র ভেঙে পড়ছে। ঝোপঝাড়-গাছ নিধন, নির্মাণকাজ ও অতিরিক্ত মশানাশকের ব্যবহার প্রজাপতির আবাসস্থলের গুরুতর ক্ষতি করেছে।
যেভাবে স্বরূপে ফিরতে পারে প্রজাপতি: প্রজাপতির হারানো বৈচিত্র্য ফেরাতে বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রথমত হোউ প্লান্ট পুনঃরোপণ অর্থাৎ মিল্কউইড, ল্যান্টানা, কাসিয়া, ক্যালোট্রোপিস, সাইট্রাসসহ লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতির খাদ্য উদ্ভিদ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বিচারে ঝোপঝাড় নিধন বন্ধ করে লার্ভাসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো সুরক্ষিত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, ক্যাম্পাস-সংলগ্ন যে কোনো নির্মাণকাজে পরিবেশগত মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করা এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সড়ক বা ভবন নির্মাণ না করা। চতুর্থত, মশানাশকে নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ করে প্রজাপতি হটস্পটগুলোতে 'নো কেমিক্যাল জোন' ঘোষণা করা জরুরি। পঞ্চমত, বিচ্ছিন্ন সবুজ এলাকা ও গুল্মজাতীয় গাছকে সংযুক্ত করে 'প্রজাপতি সংরক্ষণ করিডর' তৈরি করতে হবে, যাতে চলাচল ও প্রজনন বাধাহীন হয়।
গণসচেতনতায় প্রজাপতি মেলা শিশুদের সচেতন করতে এবারও আয়োজন করা হয় 'প্রজাপতির গল্পে পাপেট শো'। ছিল আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি ও প্রকৃতিবিষয়ক কুইজ, ফটো প্রদর্শনী, ঘুড়ি উড্ডয়ন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। মেলায় প্রকৃতি সংরক্ষণে অবদানের জন্য বন্যপ্রাণী বিশারদ ও সংরক্ষণবিদ ড. আলী রেজা খানকে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। বাটারফ্লাই ইয়াং এনদুসিয়াষ্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় জাবির সাবেক শিক্ষার্থী নুরে আফসারী ও. শাহরিয়ার রাব্বি তন্ময়কে।