বিস্ময় বালক ইয়ামালেও মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব

আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি: মেসি

ও সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ফুটবলার: স্কালোনি

গাজীউল হক সোহাগ
Thumbnail image

তিন বছর বয়সে বাবা মায়ের বিচ্ছেদ। এরপর মায়ের সঙ্গে থাকেন লামিন ইয়ামাল। চার বছর বয়সে ইয়ামাল স্থানীয় ক্লাব 'লা তুরেতা'-তে ফুটবল খেলা শুরু করেন। ছয় বছর বয়সে ইয়ামাল বার্সেলোনার স্কাউটদের নজরে আসেন। পরে তাঁকে লা মাসিয়াতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ২০১৪ সালে তিনি ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর একাডেমিতে থাকা ও প্রশিক্ষণের জন্য বার্সেলোনায় চলে আসেন। বেড়ে ওঠার সময় ইয়ামালের ফুটবলের আদর্শ ছিলেন ব্রাজিলের রোনালদিনহো এবং নেইমার জুনিয়র। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের সঙ্গে স্পেনের হয়ে এ পর্যন্ত একটি গোল করেন ইয়ামাল।

আজ রোববার রাত একটায় যাঁরা স্পেনের সমর্থক থাকবেন, তাঁরা নিশ্চিত ইয়ামালের জাদুকরি বল কাটানো দেখবেন। গোলও দেখতে চান। ২০০৭ সালের ১৩ জুলাই জন্ম নেওয়া ইয়ামালকে এখনও ফুটবল বিশ্ব বিস্ময় বালক কিংবা স্কুল বালক হিসেবে চেনে। যদিও তাঁর বয়স ১৮ পেরিয়ে এখন ১৯ এ। স্পেনের ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার সঙ্গে খেলবেন এই ইয়ামাল।

দুর্দান্ত বল কাটানো, পাস দেওয়া এবং স্কোর করার ক্ষমতা সহ একজন বাঁ-পায়ের আক্রমনভাগের খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল। তাঁকে একজন কেন্দ্রীয় আক্রমণকারী, আক্রমণাত্মক মধ্য মাঠের খেলোয়াড় বা পার্শ্বীয় খেলোয়াড় হিসেবে দেখা হয়। তিনি বেশিরভাগ ডানদিকে খেলতে সক্ষম।

লামিন ইয়ামালকে লিওনেল মেসি ও বার্সা তারকা আনসু ফাতির সাথেও তুলনা করা হয়।

এদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে রোববার রাতে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এই মহারণের আগে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন লিওনেল মেসি। সেখানে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে জানিয়ে দিয়েছেন—ইতিহাস গড়তে হলে তাকে অন্তত আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে।

নিউইয়র্কে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। সেখানে ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসা, চাপ সামলানোর মানসিকতা এবং ইয়ামালকে নিয়ে কথা বলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে মেসি বলেন, ‘ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে (বার্সেলোনা) খেলে, যেটিকে আমি ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। সামনে তার পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন সেটা এবার না হয়।’

শৈশবে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে তোলা সেই বিখ্যাত ছবি নিয়েও কথা বলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক, ‘আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবনে এমন ঘটনাও ঘটে! এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।’

তবে প্রশংসার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে থামানোর প্রত্যয়ও জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি চাই ওর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক, কারণ ওর ভালো মানে, বার্সেলোনারও ভালো। কিন্তু ফাইনালে আমরা চেষ্টা করব যেন ও নিজের সেরাটা খেলতে না পারে। যদিও সেটা সহজ হবে না।

২০২২-২৪ মৌসুমের জন্য জুভেনিল এ দলে যুক্ত হন লামিন ইয়ামাল। এরপর জাভি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে অন্যান্য তরুণদের সঙ্গে প্রথম দলের সাথে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করেছিল। ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল তাঁর প্রথম দলে অভিষেক হয়। লা লিগায় রিয়াল বেতিসের বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ৮৩তম মিনিটে গাভির স্থলাভিষিক্ত হন এবং গোল করার লক্ষ্যে একটি শট নিবন্ধন করেন যা বার্সেলোনার সাবেক গোলরক্ষক ক্লাউদিও ব্রাভো রক্ষা করেছিলেন। মাত্র ১৫ বছর ৯ মাস ১৬ দিন বয়সে বার্সেলোনার প্রথম দলে উপস্থিত হওয়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল। ২০২৩ সালের ১৪ মে তিনি বার্সার সাথে তার প্রথম শিরোপা জিতেছিলেন।

লামিন ইয়ামালের সাফল্যও কম নয়। স্পেনের একজন যুব আন্তর্জাতিক তিনি। ২০২১ সালে তিনি স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে ৪টি ম্যাচ খেলেন এবং ১টি গোল করেন।

২০২২ সালে তিনি স্পেনীয় অনূর্ধ্ব-১৫ এর সাথেও খেলেছেন।

২০২৪ সালে তিনি উয়েফা ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৩-এ স্পেনীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন যা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল এবং এতে লামিন ইয়ামাল ৫টি ম্যাচ খেলেন ও ৪টি গোল করেন। ২০২৪ উয়েফা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ১ টি দুর্দান্ত গোল করে স্পেন কে ফাইনালে উঠতে সহায়তা করেন। এটা তার আন্তর্জাতিক প্রথম গোল। এবারের বিশ্বকাপেও একটি গোল করে।

১৯ বছর বয়সী এই বার্সা তারকা ইয়ামালকে আটকানোর কৌশল কী হবে—এমন প্রশ্নে প্রথমে রসিকতা ও পরে মন থেকেই স্প্যানিশ উইঙ্গারের স্তুতি গেয়েছেন আর্জেন্টনার লিওলেন স্কালোনি। হাসতে হাসতেই আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, ম্যাচের আগে লামিনকে ওর হোটেল রুমে তালা মেরে আটকে রাখতে পারলেই সবচেয়ে ভালো হতো! ও সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ফুটবলার, ফুটবলবিশ্বের জন্য একটা রত্ন। ও এখনও বড্ড তরুণ, ফুটবলের সুন্দর এই খেলাটাকে দেওয়ার মতো ওর ঝুলিতে এখনও অনেক কিছু জমা আছে।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত