স্বর্গ রায়

অবশেষে চলে এলো বহুকাঙ্ক্ষিত সেই দিন, যার জন্য কোটি ফুটবলপ্রেমী প্রহর গুনেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের লড়াই শেষে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৪৮ দেশের লড়াই শেষে আজ একটি দলের হাতে উঠবে ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’-এর শিরোপা। সেই মুহূর্তটির জন্য দীর্ঘ চার বছরের এই প্রতীক্ষা।
আজ রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওই ফাইনাল ম্যাচ। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা, নান্দনিক ফুটবল এবং হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে এই ফাইনাল শুধু আরেকটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে রেকর্ডে মোড়া এক ঐতিহাসিক রাত। মাঠে নামলেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে থাকবে একের পর এক অনন্য কীর্তি গড়ার সুযোগ।
লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট আটবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তিনি পেশাদার ফুটবলে সর্বমোট ৪৪টি ট্রফি জয় করেছেন,যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার পেশাদার ফুটবল জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়। যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ।
এছাড়াও একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল (৪৪০), লা লিগা ও ইউরোপের যেকোনো লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৫০), ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৭৩), এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল (৯১), এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল (২৬) এবং লা লিগা (৩৪) ও চ্যাম্পিয়নস লিগে (৮) সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব। পাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও পরিচিত। তিনি লা লিগা (১৮৩) এবং কোপা আমেরিকার (১২) ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর কৃতিত্বেরও মালিক।
২০২৫ সালে, আইএফএফএইচএস তাকে সর্বকালের সর্বসেরা পুরুষ ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। লিওনেল মেসি ক্লাব এবং জাতীয় দল মিলিয়ে অফিসিয়াল ম্যাচে মোট ৯১৯টি গোল করেছেন। এর মধ্যে বার্সেলোনা, পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাবের জার্সিতে তিনি করেছেন মোট ৭৯৪টি গোল এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫টি গোল। এছাড়াও ক্লাব এবং জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বমোট ৪১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। এর মধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১২টি, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসি ৮টি গোল করেছেন। তার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্টও রয়েছে।
আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ মনে করেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক ম্যাচে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স যেন ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশার সীমা। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে এখনও ১৯ বছর বয়সী তরুণের মতো লাগে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের। মেসির বর্তমান বয়স ৩৯।
দুই অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফাইনালিসিমা’ ম্যাচটি রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়ে না গেলে হয়তো আগেই ফয়সালা হয়ে যেত। তবে এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের সেরা স্পেন। নিউ জার্সিতে রবিবারের এই মেগা ফাইনালটি রূপ নিয়েছে আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা আর আর স্পেনের নিখুঁত ফুটবল কৌশলের।
এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি ম্যাচে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, সমান ৬টি ম্যাচে জিতেছে স্পেন। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দল মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১৩ জুলাই বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে এটিই আর্জেন্টিনার একমাত্র ম্যাচ এবং শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ধরে রেখেছে তারা।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনালে জিততে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে স্পেন।
স্পেনের বিপক্ষে এটি হবে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়বেন। এর আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুইবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলে এর আগে শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুই তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কত্ব করেছেন।
ফাইনালে জয় পেলে মেসির ঝুলিতে যোগ হবে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জন। তিনি হবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পাবেন। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ইতালির পর তৃতীয় দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনা টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে। এছাড়া টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হওয়ার রেকর্ডও গড়বেন মেসি।
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেসি। সেখানে ইয়ামালকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি অকপটে স্বীকার করেন, স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছেন।
মেসি বলেন, ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যেটিকে আমি খুব ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। তার সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন সেটা এবার না হয়।
শৈশবে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে তোলা বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। সেই স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব-এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবন কখনও কখনও এমন গল্পও লিখে। এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
পাশাপাশি, ফাইনালের দিন প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং তীব্র আর্দ্রতার পূর্বাভাস রয়েছে। এর সাথে কানাডার দাবানলের কারণে বাতাসে ধোঁয়াশার সতর্কতা থাকায় গ্যালারির ৮০,০০০ দর্শক এবং মাঠের খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বাড়তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সূত্র-বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে

অবশেষে চলে এলো বহুকাঙ্ক্ষিত সেই দিন, যার জন্য কোটি ফুটবলপ্রেমী প্রহর গুনেছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের লড়াই শেষে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ৪৮ দেশের লড়াই শেষে আজ একটি দলের হাতে উঠবে ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’-এর শিরোপা। সেই মুহূর্তটির জন্য দীর্ঘ চার বছরের এই প্রতীক্ষা।
আজ রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ওই ফাইনাল ম্যাচ। মাঠের লড়াইয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়া মানেই বাড়তি উত্তেজনা, নান্দনিক ফুটবল এবং হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে এই ফাইনাল শুধু আরেকটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, লিওনেল মেসির জন্য এটি হতে পারে রেকর্ডে মোড়া এক ঐতিহাসিক রাত। মাঠে নামলেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে থাকবে একের পর এক অনন্য কীর্তি গড়ার সুযোগ।
লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট আটবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় সোনালী জুতো জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তিনি পেশাদার ফুটবলে সর্বমোট ৪৪টি ট্রফি জয় করেছেন,যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার পেশাদার ফুটবল জীবনের প্রায় পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়। যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ।
এছাড়াও একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল (৪৪০), লা লিগা ও ইউরোপের যেকোনো লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৫০), ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল (৭৩), এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল (৯১), এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল (২৬) এবং লা লিগা (৩৪) ও চ্যাম্পিয়নস লিগে (৮) সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব। পাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও পরিচিত। তিনি লা লিগা (১৮৩) এবং কোপা আমেরিকার (১২) ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর কৃতিত্বেরও মালিক।
২০২৫ সালে, আইএফএফএইচএস তাকে সর্বকালের সর্বসেরা পুরুষ ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। লিওনেল মেসি ক্লাব এবং জাতীয় দল মিলিয়ে অফিসিয়াল ম্যাচে মোট ৯১৯টি গোল করেছেন। এর মধ্যে বার্সেলোনা, পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির হয়ে ক্লাবের জার্সিতে তিনি করেছেন মোট ৭৯৪টি গোল এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫টি গোল। এছাড়াও ক্লাব এবং জাতীয় দল মিলিয়ে সর্বমোট ৪১৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন লিওনেল মেসি। এর মধ্যে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১২টি, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসি ৮টি গোল করেছেন। তার পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্টও রয়েছে।
আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় এক উদাহরণ মনে করেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক ম্যাচে দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স যেন ছাড়িয়ে গেছে প্রত্যাশার সীমা। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে এখনও ১৯ বছর বয়সী তরুণের মতো লাগে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের। মেসির বর্তমান বয়স ৩৯।
দুই অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফাইনালিসিমা’ ম্যাচটি রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বাতিল হয়ে না গেলে হয়তো আগেই ফয়সালা হয়ে যেত। তবে এবার বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ল্যাটিন আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের সেরা স্পেন। নিউ জার্সিতে রবিবারের এই মেগা ফাইনালটি রূপ নিয়েছে আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা আর আর স্পেনের নিখুঁত ফুটবল কৌশলের।
এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও স্পেন মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি ম্যাচে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, সমান ৬টি ম্যাচে জিতেছে স্পেন। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুই দল মাত্র একবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ১৩ জুলাই বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে এটিই আর্জেন্টিনার একমাত্র ম্যাচ এবং শতভাগ জয়ের রেকর্ডও ধরে রেখেছে তারা।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। নাটকীয় এই ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ফাইনালে জিততে পারলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবার এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে স্পেন।
স্পেনের বিপক্ষে এটি হবে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মধ্য দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়বেন। এর আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুইবার ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করেছিলেন। বিশ্ব ফুটবলে এর আগে শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুই তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কত্ব করেছেন।
ফাইনালে জয় পেলে মেসির ঝুলিতে যোগ হবে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক অর্জন। তিনি হবেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পাবেন। একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ইতালির পর তৃতীয় দেশ হিসেবে আর্জেন্টিনা টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে। এছাড়া টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলার হওয়ার রেকর্ডও গড়বেন মেসি।
নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেসি। সেখানে ইয়ামালকে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি অকপটে স্বীকার করেন, স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছেন।
মেসি বলেন, ইয়ামাল অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমি তাকে অনেক দিন ধরেই অনুসরণ করছি, কারণ সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যেটিকে আমি খুব ভালোবাসি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের আইকনে পরিণত হয়েছে। তার সামনে পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে এবং ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগও রয়েছে। তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন সেটা এবার না হয়।
শৈশবে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে তোলা বহুল আলোচিত ছবির প্রসঙ্গও উঠে আসে সংবাদ সম্মেলনে। সেই স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, আমি যখন ওর সঙ্গে ছবি তুলেছিলাম, তখন সে ছিল ছোট্ট একটি শিশু। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে নামব-এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। জীবন কখনও কখনও এমন গল্পও লিখে। এখন সে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
পাশাপাশি, ফাইনালের দিন প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং তীব্র আর্দ্রতার পূর্বাভাস রয়েছে। এর সাথে কানাডার দাবানলের কারণে বাতাসে ধোঁয়াশার সতর্কতা থাকায় গ্যালারির ৮০,০০০ দর্শক এবং মাঠের খেলোয়াড়দের জন্য এটি একটি বাড়তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
সূত্র-বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে