তৃণমূল কংগ্রেসের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা

আমার শহর আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Thumbnail image

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। দলীয় সংকট ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে আত্মসমালোচনা, কর্মমূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সব কমিটি এবং সহযোগী ও শাখা সংগঠনের সব কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হলো, যখন দলের একাংশের বিধায়ক প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে পৃথক পরিষদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন করেছে। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। 

গত মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। একাধিক নেতা ও বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, প্রার্থী বাছাই এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বুধবারের সিদ্ধান্তকে অনেকেই দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী দিনে জেলা থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সব সংগঠন নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। কারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, কারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং কোথায় কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল নয়। বরং ক্ষমতা হারানোর পর দলকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে বিদ্রোহী শিবিরকে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টাও এর মধ্যে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতেও কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দলকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তবে এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। 

কারণ একদিকে নির্বাচনী পরাজয়, অন্যদিকে বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন দলকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য নতুন উদ্যমে সংগঠনকে প্রস্তুত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। 

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন সবার নজর থাকবে পুনর্গঠনের পর তৃণমূল কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে এবং বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে নেতৃত্বের সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত