রয়টার্স

পাঁচ হাজার মিটার উঁচুতে হিমবাহধসে নেপালে আতকা বন্যা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। গতকাল বুধবারের আকস্মিক বন্যার পেছনে একটি হিমবাহের ধস বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, হিমবাহের নিচের একটি বড় অংশ ভেঙে শত শত মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার ফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে।
মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’-এর পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানিয়েছেন।
ঠিক কী কারণে হিমবাহটি ধসে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নেপালের সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্যোগের ঠিক কয়েক মিনিট আগে ওই অঞ্চলে আঘাত হানা একটি ভূমিকম্প এর পেছনে দায়ী হতে পারে।
এখন হিমবাহ ধস, ভূমিকম্প না কিছুই বলা হোক না কেন- নেপালের এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্বকে শোকাতুর করেছে। এতো পর্যটক হিমালয় কন্যার দেশে নিখোঁজ - এটা নিয়ে চলছে মাতম।
সীমান্তের দুই পারের কর্তৃপক্ষেরই আশঙ্কা, প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমান অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ১৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখনো ৩০০ জনের বেশি পর্যটক নিখোঁজ। অন্যদিকে চীন সীমান্তে ৩ জনের মৃত্যু ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে।
প্ল্যানেট ল্যাবসের পাঠানো দুর্যোগের আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবিগুলো পর্যালোচনা করেছে রয়টার্স। ছবিতে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলের চিরসবুজ পাহাড়গুলো এখন বাদামি রঙের ধ্বংসস্তূপ ও পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ বিক্রম গুপ্ত বলেন, ‘এটি নিশ্চিত যে হিমবাহের অগ্রভাগের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার মাধ্যমেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর সঙ্গে সম্ভবত বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলিমাটিও নিচে নেমে এসেছে।’
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির সহযোগী অধ্যাপক ও ভূবিজ্ঞানী ড্যান শুগার জানান, স্যাটেলাইট ছবি দেখে মনে হচ্ছে, দুর্যোগের আগের ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় প্রচুর বরফ গলেছিল।
ড্যান শুগার বলেন, ‘এ উপত্যকার কিছু হিমবাহ মঙ্গলবার বরফে ঢাকা ছিল। অথচ আজ সেগুলোর ওপর শুধু উন্মুক্ত বরফস্তর দেখা যাচ্ছে। এর সহজ অর্থ হলো, যদিও আমি এখনো আবহাওয়াকেন্দ্রের কোনো তথ্য পাইনি, সেখানকার আবহাওয়া সম্ভবত উষ্ণ ছিল।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে নেপালের বরফাবৃত পর্বতগুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে বলে ২০২৩ সালে জানিয়েছিল জাতিসংঘ।
সংস্থাটি সে বছর আরও জানায়, বিশ্বের দুই বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ—ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপালের হিমবাহগুলো আগের দশকের তুলনায় গত এক দশকে ৬৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে গলেছে।
ড্যান শুগার আরও বলেন, বুধবার সকালে প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে আমি যা দেখেছি, তা হলো প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে তারও প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়েছে।’
এ বিপর্যয়ের পেছনে ওই অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণকাজও একটি বড় কারণ হতে পারে উল্লেখ করে এই ভূবিজ্ঞানী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখানে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবেই অদূর ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখব।’

পাঁচ হাজার মিটার উঁচুতে হিমবাহধসে নেপালে আতকা বন্যা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। গতকাল বুধবারের আকস্মিক বন্যার পেছনে একটি হিমবাহের ধস বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, হিমবাহের নিচের একটি বড় অংশ ভেঙে শত শত মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার ফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে।
মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’-এর পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এ কথা জানিয়েছেন।
ঠিক কী কারণে হিমবাহটি ধসে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নেপালের সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্যোগের ঠিক কয়েক মিনিট আগে ওই অঞ্চলে আঘাত হানা একটি ভূমিকম্প এর পেছনে দায়ী হতে পারে।
এখন হিমবাহ ধস, ভূমিকম্প না কিছুই বলা হোক না কেন- নেপালের এই মানবিক বিপর্যয় বিশ্বকে শোকাতুর করেছে। এতো পর্যটক হিমালয় কন্যার দেশে নিখোঁজ - এটা নিয়ে চলছে মাতম।
সীমান্তের দুই পারের কর্তৃপক্ষেরই আশঙ্কা, প্রাণহানির সংখ্যা বর্তমান অনুমানের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নেপালে ১৬৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপাল সরকার জানিয়েছে, এখনো ৩০০ জনের বেশি পর্যটক নিখোঁজ। অন্যদিকে চীন সীমান্তে ৩ জনের মৃত্যু ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে।
প্ল্যানেট ল্যাবসের পাঠানো দুর্যোগের আগের ও পরের স্যাটেলাইট ছবিগুলো পর্যালোচনা করেছে রয়টার্স। ছবিতে দেখা গেছে, ওই অঞ্চলের চিরসবুজ পাহাড়গুলো এখন বাদামি রঙের ধ্বংসস্তূপ ও পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ বিক্রম গুপ্ত বলেন, ‘এটি নিশ্চিত যে হিমবাহের অগ্রভাগের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার মাধ্যমেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর সঙ্গে সম্ভবত বিপুল পরিমাণ পাথর ও পলিমাটিও নিচে নেমে এসেছে।’
কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির সহযোগী অধ্যাপক ও ভূবিজ্ঞানী ড্যান শুগার জানান, স্যাটেলাইট ছবি দেখে মনে হচ্ছে, দুর্যোগের আগের ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় প্রচুর বরফ গলেছিল।
ড্যান শুগার বলেন, ‘এ উপত্যকার কিছু হিমবাহ মঙ্গলবার বরফে ঢাকা ছিল। অথচ আজ সেগুলোর ওপর শুধু উন্মুক্ত বরফস্তর দেখা যাচ্ছে। এর সহজ অর্থ হলো, যদিও আমি এখনো আবহাওয়াকেন্দ্রের কোনো তথ্য পাইনি, সেখানকার আবহাওয়া সম্ভবত উষ্ণ ছিল।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে নেপালের বরফাবৃত পর্বতগুলো প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে বলে ২০২৩ সালে জানিয়েছিল জাতিসংঘ।
সংস্থাটি সে বছর আরও জানায়, বিশ্বের দুই বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ—ভারত ও চীনের মধ্যে অবস্থিত নেপালের হিমবাহগুলো আগের দশকের তুলনায় গত এক দশকে ৬৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে গলেছে।
ড্যান শুগার আরও বলেন, বুধবার সকালে প্ল্যানেট ল্যাবসের স্যাটেলাইট চিত্রে আমি যা দেখেছি, তা হলো প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে তারও প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়েছে।’
এ বিপর্যয়ের পেছনে ওই অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণকাজও একটি বড় কারণ হতে পারে উল্লেখ করে এই ভূবিজ্ঞানী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন এখানে কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা আমরা নিশ্চিতভাবেই অদূর ভবিষ্যতে খতিয়ে দেখব।’