ডেনমার্কে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী

আমার শহর আন্তর্জাতিক ডেস্ক
Thumbnail image

ডেনমার্কে আজ মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। জনমত জরিপ বলছে, ফল হতে পারে খুব কাছাকাছি। তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায়, প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। কোপেনহেগেন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ফ্রেডেরিকসেন ২০১৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন।

গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করার ট্রাম্পের একের পর এক দাবি ঠেকিয়ে দেওয়ায়, তার নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। ট্রাম্পের বারবার দাবি করেছেন যে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই ড্যানিশ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। তবে বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি নিয়ে বিরোধ নির্বাচনী প্রচারে বড় ইস্যু হয়নি। প্রচারে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন ও পরিবেশের মতো বিষয়।

সাম্প্রতিক জরিপে বামপন্থী জোটকে ডানপন্থীদের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে ১৭৯ আসনের পার্লামেন্টে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ড্যানিশ দৈনিক ‘পলিটিকেন’-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজাবেথ স্বানে বলেন, জোট সরকার কেমন হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

তবে শেষ পর্যন্ত ফ্রেডেরিকসেনই সরকারপ্রধান থাকবেন— এমন সম্ভাবনা বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ হয়তো তাকে খুব পছন্দ করে না, কিন্তু তারা তাকে সঠিক নেতা হিসেবে দেখে।’ স্বান বলেন, ‘অনিশ্চয়তায় ভরা বিশ্বে ফ্রেডেরিকসেন একত্রীকরণকারী ব্যক্তিত্ব। ডেনিশরা গ্রিনল্যান্ড, ইউক্রেন ও গত বছর দেশটির আকাশে উড়ে বেড়ানো রহস্যময় ড্রোন এই তিন ইস্যুতে বেশ উদ্বিগ্ন।’

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ওলে ওয়েভার বলেন, ডানপন্থী সরকার কল্পনা করাও কঠিন। কারণ এতে চরম ডান থেকে মধ্যপন্থী দলগুলোকে এক করতে হবে, যাদের সঙ্গে কট্টর ডানপন্থীদের সম্পর্ক খুব ভালো নয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং ভোট গ্রহণ শেষ হবে রাত ৮ টায়। এরপরই এক্সিট পোল প্রকাশ করা হবে আর চূড়ান্ত ফল চার ঘণ্টার মধ্যে জানা যেতে পারে।

ডেনমার্কের দুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল— গ্রিনল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে চারটি আসন রয়েছে। ফল খুব কাছাকাছি হলে এই আসনগুলোই চূড়ান্ত নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেনের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ‘মডারেট’ পার্টিও ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি দুই বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত