আগাম সতর্কতায় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করেছে সরকার : ত্রাণমন্ত্রী

বাসস
Thumbnail image

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার, জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ত্রাণ নির্ভর ব্যবস্থাপনা থেকে সমন্বিত ঝুঁকি হ্রাসভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তরের মাধ্যমে সরকার দেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ এবং পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে ত্রাণনির্ভর পদ্ধতি থেকে সমন্বিত ঝুঁকি হ্রাস ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করেছে।’

মন্ত্রী জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আগাম সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সর্বদা প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) সচল রাখা হয়েছে এবং জিআর খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২ এবং স্ট্যান্ডিং অর্ডার অন ডিজাস্টার (এসওডি)-২০১৯ অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো সক্রিয় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে দুর্যোগে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা অনেক বেড়েছে।

জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প'-এর (কম্পোনেন্ট-২ ও ৩) আওতায় উপকূলীয় ১২ জেলার ৩৫টি উপজেলায় টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, মেগাফোন, সাইরেন, স্ট্রেচার, লাইফ জ্যাকেট, রেডিও সেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসা কিট সরবরাহ করা হয়েছে।’

এ ছাড়া ১২টি উপকূলীয় জেলার প্রতিটিতে একটি করে উদ্ধার স্পিডবোট দেওয়া হবে, অর্থাৎ মোট ১২টি উদ্ধার স্পিডবোট সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবণ পাঁচ জেলায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ৪৩টি অগভীর পানিতে চলাচল উপযোগী উদ্ধার নৌকা সরবরাহ করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত