মন্তব্য প্রতিবেদন
গাজীউল হক সোহাগ

আহা! কী সুন্দর সুখী পরিবার। প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল ছবির দিকে যতোবার তাকাই ততোবারই খারাপ লাগে। নিজেকে বুলেটের জায়গায় স্থান দিই, ভাবি আমার অবস্থা এমন হলে কি হতো। বুলেটের লাশ উদ্ধারের পর থেকে কুমিল্লা শহরের যেখানে আড্ডা দিচ্ছি, সেখানেই মিষ্টি পরিবারটিকে নিয়ে আফসোস করতে শোনা গেছে। এক বছর পার হওয়ার আগেই শিশুটি তার বাবাকে হারায়। বিয়ের চার বছরের মাথায় উর্মি হীরা স্বামীকে হারান। নীলিমা বৈরাগী তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন। বুলেটের কৃষক বাবা তাঁর ছেলেকে হারান । একমাত্র উপার্জনক্ষম ৩৫ বছরের সুদর্শন, তরুণকে হারিয়ে পুরো পরিবার এক গভীর অন্ধকারে, অনিশ্চয়তায়।
উর্মি হীরার মতো কম বয়সী একজন নারী চুড়ি, সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্রের মতো বিবাহের প্রতীক খুলে ফেলেন। চুড়ি ভেঙে ফেলেন। বিধবার পোশাক পরেন। এক বুক কষ্ট নিয়ে এমন হৃদয়বিদারক কাজটি করতে হয়।
কদিন আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠামাত্র কুমিল্লার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাবেক শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগী ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন বলে র্যাব জানায়। এরপর তাঁর ব্যাগ, মুঠোফোন, পায়ের জুতা ও সঙ্গে থাকা টাকা বলপূর্বক ছিনিয়ে নেয় পাঁচ ‘পেশাদার’ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাঁকে নিয়ে ছিনতাইকারীরা সদর দক্ষিণ উপজেলার নন্দনপুর স্ট্যান্ড পেরিয়ে আইরিশ হিল হোটেল এলাকায় অটোরিকশা থেকে মহাসড়কে ফেলে দেয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান।
বুলেট বৈরাগী কেন সামান্য কিছু জিনিস নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে গেলো? না করলে তো আর এমন হতো না। আমার কয়েকজন বন্ধু বলাবলি করছিলো, ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ প্রান্ত ও দক্ষিণ বাংলার ছেলেরা সাহসী। তাঁরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।
বুলেটের লাশ শনাক্তের পর এ নিয়ে কত মন্তব্য শুনেছি। কেউ কেউ বলেছেন, সামান্য জিনিসের জন্য ছিনতাইকারীরা তাঁকে কেন মারবে ? এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
কিন্তু আমার সাফ কথা হল এই ঘটনার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ৫ আগস্টের পর এখনও সড়কে পুলিশি টহল নেই বললেই চলে। কুমিল্লা শহরের মতো ব্যস্ততম আবাসিক শহরে রাত ১০ টার পর অনেকটা সুনসান নীরবতা। আগের মতো সড়কে টহলে পুলিশ দেখা যায় না।
ঝাগুরজুলি, নন্দনপুর, আলেখারচর, জাঙ্গালিয়া, টমছমব্রিজ, চকবাজার, চাঁপাপুর, পদুয়ার বাজার, সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট, ক্যান্টনমেন্ট মোড়, শাসনগাছায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশ থাকা দরকার। টহল পুলিশ থাকলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা এতোটা তৎপর থাকতো না।
কুমিল্লার প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই ব্যর্থ। এ কথা খোদ প্রশাসনের লোকেরাই বলছেন। পুলিশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না। তাঁদের সময়মতো মেলে না।
কেবল বুলেট বৈরাগী নয়, এর আগেও কুমিল্লা শহরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো নিয়ে জিডি হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি রাণীর দিঘির পাড়ে এক বাসা থেকে ৫৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে, আজও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সুপারের বাংলোর গেটে এবারের রোজায় ভোর সাড়ে পাঁটায় এক সরকারি কর্মকর্তার মোবাইল, নগদ টাকা, ব্যাগ নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই সরকারি কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। গত সপ্তাহে কুমিল্লা নগরের বজ্রপুর ইউসুফ হাইস্কুল এলাকায় এক ইতিহাসবিদের বাসার এসির তারসহ অন্তত ১৪ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ রকম বহু অভিযোগ কুমিল্লা নগরবাসীর আছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে গতকাল দুপুরে কথা হয়। তিনি বলেছেন, টহল পুলিশ মাঠে থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
আমাদের বিশ্বাস, শান্তির শহর কুমিল্লায় এভাবে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
গাজীউল হক: সম্পাদক, আমার শহর

আহা! কী সুন্দর সুখী পরিবার। প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল ছবির দিকে যতোবার তাকাই ততোবারই খারাপ লাগে। নিজেকে বুলেটের জায়গায় স্থান দিই, ভাবি আমার অবস্থা এমন হলে কি হতো। বুলেটের লাশ উদ্ধারের পর থেকে কুমিল্লা শহরের যেখানে আড্ডা দিচ্ছি, সেখানেই মিষ্টি পরিবারটিকে নিয়ে আফসোস করতে শোনা গেছে। এক বছর পার হওয়ার আগেই শিশুটি তার বাবাকে হারায়। বিয়ের চার বছরের মাথায় উর্মি হীরা স্বামীকে হারান। নীলিমা বৈরাগী তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছেন। বুলেটের কৃষক বাবা তাঁর ছেলেকে হারান । একমাত্র উপার্জনক্ষম ৩৫ বছরের সুদর্শন, তরুণকে হারিয়ে পুরো পরিবার এক গভীর অন্ধকারে, অনিশ্চয়তায়।
উর্মি হীরার মতো কম বয়সী একজন নারী চুড়ি, সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্রের মতো বিবাহের প্রতীক খুলে ফেলেন। চুড়ি ভেঙে ফেলেন। বিধবার পোশাক পরেন। এক বুক কষ্ট নিয়ে এমন হৃদয়বিদারক কাজটি করতে হয়।
কদিন আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাগুরজুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠামাত্র কুমিল্লার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাবেক শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগী ছদ্মবেশী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন বলে র্যাব জানায়। এরপর তাঁর ব্যাগ, মুঠোফোন, পায়ের জুতা ও সঙ্গে থাকা টাকা বলপূর্বক ছিনিয়ে নেয় পাঁচ ‘পেশাদার’ সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাঁকে নিয়ে ছিনতাইকারীরা সদর দক্ষিণ উপজেলার নন্দনপুর স্ট্যান্ড পেরিয়ে আইরিশ হিল হোটেল এলাকায় অটোরিকশা থেকে মহাসড়কে ফেলে দেয়। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান।
বুলেট বৈরাগী কেন সামান্য কিছু জিনিস নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে গেলো? না করলে তো আর এমন হতো না। আমার কয়েকজন বন্ধু বলাবলি করছিলো, ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ প্রান্ত ও দক্ষিণ বাংলার ছেলেরা সাহসী। তাঁরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।
বুলেটের লাশ শনাক্তের পর এ নিয়ে কত মন্তব্য শুনেছি। কেউ কেউ বলেছেন, সামান্য জিনিসের জন্য ছিনতাইকারীরা তাঁকে কেন মারবে ? এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ছিনতাইকারীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
কিন্তু আমার সাফ কথা হল এই ঘটনার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। ৫ আগস্টের পর এখনও সড়কে পুলিশি টহল নেই বললেই চলে। কুমিল্লা শহরের মতো ব্যস্ততম আবাসিক শহরে রাত ১০ টার পর অনেকটা সুনসান নীরবতা। আগের মতো সড়কে টহলে পুলিশ দেখা যায় না।
ঝাগুরজুলি, নন্দনপুর, আলেখারচর, জাঙ্গালিয়া, টমছমব্রিজ, চকবাজার, চাঁপাপুর, পদুয়ার বাজার, সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট, ক্যান্টনমেন্ট মোড়, শাসনগাছায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশ থাকা দরকার। টহল পুলিশ থাকলে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা এতোটা তৎপর থাকতো না।
কুমিল্লার প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অনেকটাই ব্যর্থ। এ কথা খোদ প্রশাসনের লোকেরাই বলছেন। পুলিশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না। তাঁদের সময়মতো মেলে না।
কেবল বুলেট বৈরাগী নয়, এর আগেও কুমিল্লা শহরে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এগুলো নিয়ে জিডি হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি রাণীর দিঘির পাড়ে এক বাসা থেকে ৫৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে, আজও উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সুপারের বাংলোর গেটে এবারের রোজায় ভোর সাড়ে পাঁটায় এক সরকারি কর্মকর্তার মোবাইল, নগদ টাকা, ব্যাগ নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ওই সরকারি কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানায় জিডি করেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। গত সপ্তাহে কুমিল্লা নগরের বজ্রপুর ইউসুফ হাইস্কুল এলাকায় এক ইতিহাসবিদের বাসার এসির তারসহ অন্তত ১৪ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ রকম বহু অভিযোগ কুমিল্লা নগরবাসীর আছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে গতকাল দুপুরে কথা হয়। তিনি বলেছেন, টহল পুলিশ মাঠে থাকতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
আমাদের বিশ্বাস, শান্তির শহর কুমিল্লায় এভাবে আর কোনো মায়ের বুক খালি হবে না। সরকার ও পুলিশ বাহিনীকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
গাজীউল হক: সম্পাদক, আমার শহর