আমার শহর ডেস্ক

দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকাসক্তদের জন্য চিকিৎসা সেবা উন্নত ও সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে। বিপুল সংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের দ্রæত চিকিৎসার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।
তবে দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হবে। সকালে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে মাদকবিরোধী র্যালি শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে। এরপর সেখানে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন। মাদক মামলার এই জট কমাতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রæত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিন্থেটিক ও সেমি-সিন্থেটিক মাদকের বিস্তারের কারণে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে মাদকাসক্তদের জন্য চিকিৎসা সেবা উন্নত ও সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পরে দিবসটি উপলক্ষে নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ মাদক ব্যবহার করছে। বিপুল সংখ্যক তরুণ মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের দ্রæত চিকিৎসার আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারিভাবে পরিচালিত ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরে স্থাপিত নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদকাসক্তদের সমাজের মূলধারায় পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।
তবে দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যার তুলনায় সরকারি চিকিৎসা সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টিকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসা সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও জাতীয় গাইডলাইন অনুসরণ করে পরিচালিত হওয়ার আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগামী ২৬ জুন ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হবে। সকালে মৎস্য ভবন এলাকা থেকে মাদকবিরোধী র্যালি শুরু হয়ে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হবে। এরপর সেখানে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, দেশে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন। মাদক মামলার এই জট কমাতে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আধুনিক অস্ত্র, ডগ স্কোয়াড, হাজতখানা ও পরিবহন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।
মন্ত্রী বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রæত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ঢাকায় প্রায় ১৮ হাজার এবং চট্টগ্রামে প্রায় ৩৯ হাজার মামলা রয়েছে। মামলার জটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আসামিরাই সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন বিদ্যমান আদালতগুলোও মামলা বিচার করবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।