নিজস্ব প্রতিবেদক

গত কয়েক বছর ধরেই তাঁর শরীর ভালো যাচ্ছিল না। দেশ বিদেশে নানা ধরনের চিকিৎসায় ছিলেন তিনি। তবে গত কদিন ধরে তিনি সংকটময় পরিস্থিতিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার কুয়াশা মোড়ানো সকাল ছয়টায় গোটা দেশবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দৃঢ়চেতা এক আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি একমাত্র ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কেকোর স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ বুধবার বেলা দুইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যানিভিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। খালেদা জিয়ার জানাযায় বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশ তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা করে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে শোক বার্তা দেন। আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাতদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁদের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হন। তিনি প্রথমে বিএনপির সদস্য, পরে ভাইস চেয়ারম্যান ও ৪১ বছর ধরে টানা চেয়ারপারসন তথা দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক দৃঢ়চেতা সংগ্রামী নেত্রী। ওই সময়ে তিনি স্বৈরাচার এরশাদের আমলে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আপসহীন নেত্রী হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিতি লাভ করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ২৩ টি আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে সবগুলোতে জয়ী হন। ১৯৯১,১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
খালেদা জিয়া শিষ্টাচার বজায় রেখে রাজনীতি করতেন। ভিন্ন মতের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী নেত্রী।
খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট। ১৯৬০ সালে দিনাজপুরে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া ফেনীর খালেদা জিয়ার বিয়ে হয় সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে মুক্তিযুদ্ধের সাবেক সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনা প্রধান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে বিপৎগামী সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন। এরপর খালেদা জিয়া দুই ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কেকোকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে মামলা দিয়ে, বাসার সামনে বালুর ট্রাক আটকে দিয়ে, বিদেশে প্রত্যাশিত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে, কারাগারে রেখে নানা ধরনের নির্যাতন করেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। ২০১৫ সালে তিনি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কেকোকে হারান খালেদা জিয়া। বড় ছেলে তারেক রহমান সপরিবারে লন্ডনে যান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরেন। ওই সময়ে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটময় অবস্থায় ছিলেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯৮১ সালে বাবা জিয়াউর রহমান, ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কেকো ও ২০২৫ সালে মা বেগম খালেদা জিয়াকে হারান। জিয়া পরিবারের একমাত্র উত্তরসুরী তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কুমিল্লা-৬( সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া উদার, গণতন্ত্রমনা ও সংগ্রামী নারী ছিলেন। তাঁর সিক্সসেন্স খুবই ভালো ছিল। তিনি বুঝতেন কাকে কোন জায়গায় বসালে দল প্রতিষ্ঠান ভালো চলবে। ধীরস্থির ভাবে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন। দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে তাঁকে বড় বেশি দরকার ছিল। বাংলাদেশ এক গণতান্ত্রিক নেত্রীকে হারাল।

গত কয়েক বছর ধরেই তাঁর শরীর ভালো যাচ্ছিল না। দেশ বিদেশে নানা ধরনের চিকিৎসায় ছিলেন তিনি। তবে গত কদিন ধরে তিনি সংকটময় পরিস্থিতিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার কুয়াশা মোড়ানো সকাল ছয়টায় গোটা দেশবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দৃঢ়চেতা এক আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ( ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি একমাত্র ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী ও একমাত্র কন্যা, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কেকোর স্ত্রী ও সন্তানদের রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ বিদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজ বুধবার বেলা দুইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যানিভিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে জিয়া উদ্যানে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। খালেদা জিয়ার জানাযায় বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশ তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা দিয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা করে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে শোক বার্তা দেন। আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাতদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাঁদের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় হন। তিনি প্রথমে বিএনপির সদস্য, পরে ভাইস চেয়ারম্যান ও ৪১ বছর ধরে টানা চেয়ারপারসন তথা দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক দৃঢ়চেতা সংগ্রামী নেত্রী। ওই সময়ে তিনি স্বৈরাচার এরশাদের আমলে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে আপসহীন নেত্রী হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিতি লাভ করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি ২৩ টি আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে সবগুলোতে জয়ী হন। ১৯৯১,১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
খালেদা জিয়া শিষ্টাচার বজায় রেখে রাজনীতি করতেন। ভিন্ন মতের প্রতি তিনি সহনশীল ছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী নেত্রী।
খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট। ১৯৬০ সালে দিনাজপুরে জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া ফেনীর খালেদা জিয়ার বিয়ে হয় সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে মুক্তিযুদ্ধের সাবেক সেক্টর কমান্ডার, সাবেক সেনা প্রধান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম চট্রগ্রাম সার্কিট হাউজে বিপৎগামী সেনা সদস্যদের হাতে নিহত হন। এরপর খালেদা জিয়া দুই ছেলে তারেক রহমান, আরাফাত রহমান কেকোকে নিয়ে সংগ্রামী জীবন শুরু করেন। আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে মামলা দিয়ে, বাসার সামনে বালুর ট্রাক আটকে দিয়ে, বিদেশে প্রত্যাশিত চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে, কারাগারে রেখে নানা ধরনের নির্যাতন করেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা দাবি করছেন। ২০১৫ সালে তিনি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কেকোকে হারান খালেদা জিয়া। বড় ছেলে তারেক রহমান সপরিবারে লন্ডনে যান ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরেন। ওই সময়ে তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটময় অবস্থায় ছিলেন।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৯৮১ সালে বাবা জিয়াউর রহমান, ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কেকো ও ২০২৫ সালে মা বেগম খালেদা জিয়াকে হারান। জিয়া পরিবারের একমাত্র উত্তরসুরী তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও কুমিল্লা-৬( সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া উদার, গণতন্ত্রমনা ও সংগ্রামী নারী ছিলেন। তাঁর সিক্সসেন্স খুবই ভালো ছিল। তিনি বুঝতেন কাকে কোন জায়গায় বসালে দল প্রতিষ্ঠান ভালো চলবে। ধীরস্থির ভাবে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন। দেশের এই সংকটময় মূহুর্তে তাঁকে বড় বেশি দরকার ছিল। বাংলাদেশ এক গণতান্ত্রিক নেত্রীকে হারাল।