নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর কাছে সরকার দলীয় দুইজন এমপি দেখা করেন। এরপর তাঁরা গণপূর্তের দুইজন প্রকৌশলীকে প্রত্যাশিত জায়গায় বদলি করার অনুরোধ করেন। মন্ত্রী তাঁদের বলেছিলেন, যাঁদের জন্য তদবির করছেন, তাঁরা আপনার ভাই কিংবা পরিবারের সদস্য কিনা। তখন দুইজনই বলেছিলেন, তাঁদের কোনো আত্মীয় নন। তখন জাকারিয়া তাহের তাঁদের বলেছিলেন, যদি এদের প্রত্যাশিত স্থানে বদলি করি তাহলে আমার ও আপনাদের বদনাম হবে। এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন লটারির মাধ্যমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাসে তিনি লটারি চালু করেন। গৃহায়ন মন্ত্রীর ওই ‘লটারি বদলি’ মডেল এখন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও অনুসরণ করছে। তিন দফায় ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, সচিবালয়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী, মন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ডিজি মিলে অর্থের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপর গৃহায়ন মন্ত্রীর ‘লটারি বদলি’ মডেলকে বেছে নিয়েছে কয়েকটি মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সাবরেজিস্ট্রার পদে লটারিতে বদলি কার্যক্রম শুরু করেছে। এজন্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে সাধারণ মানুষও সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকে জেনেছি-মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদবিরের একটি দুষ্টচক্র রয়েছে। যারা কথিত ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হাতিয়ে নিতে নানাভাবে প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে থাকেন। এ কারণে বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কাজের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
কিন্তু তিনি মন্ত্রী থাকাবস্থায় এসব আর চলবে না। এ ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ নির্ম‚ল করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।’
তিনি আশা করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি দপ্তরে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়নে অন্যান্য মন্ত্রণালয় লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করছে জেনে ভালো লাগছে।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের নিজস্ব উদ্ভাবন ও উদ্যোগে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রশাসনিক পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল নির্ধারণে ব্যক্তিগত প্রভাব ও তদবিরের সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলি কার্যক্রমে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম দফায় ৩০ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫৪ উপসহকারী প্রকৌশলীকে একই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৬ আগস্ট ৪০৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ৬৭ সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), ১৩৫ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) ছিলেন ৫৫ জন।
জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন লটারির মাধ্যমে হবে। বিশেষ করে যেসব পদে কাক্ষিত কর্মস্থল নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা কাজ করে, সেসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে লটারি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, লটারির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নতুন এক দৃষ্টান্ত। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন ধাপে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা আরও সহজ হবে। তদবিরের বিপরীতে নতুন এ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, জাকারিয়া তাহের সুমন স্মার্ট মন্ত্রী। তাঁর পদক্ষেপও সুন্দর। ‘লটারি বদলি’ মডেল সবার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে করা উচিত। সুমনের এ উদ্যোগ সব মন্ত্রণালয়ে করলে সুশাসন নিশ্চিত হবে। তবে লটারি নীতিমালা করে করলে আরও ভালো হবে।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম আবু তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর কাছে সরকার দলীয় দুইজন এমপি দেখা করেন। এরপর তাঁরা গণপূর্তের দুইজন প্রকৌশলীকে প্রত্যাশিত জায়গায় বদলি করার অনুরোধ করেন। মন্ত্রী তাঁদের বলেছিলেন, যাঁদের জন্য তদবির করছেন, তাঁরা আপনার ভাই কিংবা পরিবারের সদস্য কিনা। তখন দুইজনই বলেছিলেন, তাঁদের কোনো আত্মীয় নন। তখন জাকারিয়া তাহের তাঁদের বলেছিলেন, যদি এদের প্রত্যাশিত স্থানে বদলি করি তাহলে আমার ও আপনাদের বদনাম হবে। এরপর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন লটারির মাধ্যমে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলি হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাসে তিনি লটারি চালু করেন। গৃহায়ন মন্ত্রীর ওই ‘লটারি বদলি’ মডেল এখন অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও অনুসরণ করছে। তিন দফায় ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
জাকারিয়া তাহের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক।
জানা গেছে, সচিবালয়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো মন্ত্রী, মন্ত্রীর সহধর্মিণী ও ডিজি মিলে অর্থের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য করেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরপর গৃহায়ন মন্ত্রীর ‘লটারি বদলি’ মডেলকে বেছে নিয়েছে কয়েকটি মন্ত্রণালয়।
আইন মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সাবরেজিস্ট্রার পদে লটারিতে বদলি কার্যক্রম শুরু করেছে। এজন্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে সাধারণ মানুষও সাধুবাদ জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকে জেনেছি-মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তদবিরের একটি দুষ্টচক্র রয়েছে। যারা কথিত ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হাতিয়ে নিতে নানাভাবে প্রভাবশালী মহলকে ব্যবহার করে থাকেন। এ কারণে বিভিন্ন সেক্টরে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কাজের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
কিন্তু তিনি মন্ত্রী থাকাবস্থায় এসব আর চলবে না। এ ব্যাপারে তিনি জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করেছেন। ফলে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ নির্ম‚ল করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন।’
তিনি আশা করেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিটি দপ্তরে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়নে অন্যান্য মন্ত্রণালয় লটারি পদ্ধতি অনুসরণ করছে জেনে ভালো লাগছে।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের নিজস্ব উদ্ভাবন ও উদ্যোগে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রশাসনিক পদ্ধতির পাশাপাশি নতুন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার এমন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল নির্ধারণে ব্যক্তিগত প্রভাব ও তদবিরের সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের বদলি কার্যক্রমে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
জানা গেছে, প্রথম দফায় ৩০ জুলাই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এরপর ৩ আগস্ট আরও ২৫৪ উপসহকারী প্রকৌশলীকে একই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়। সর্বশেষ ১৬ আগস্ট ৪০৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি করা হয়। এর মধ্যে ১৫২ জন সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ৬৭ সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম), ১৩৫ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) ছিলেন ৫৫ জন।
জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন লটারির মাধ্যমে হবে। বিশেষ করে যেসব পদে কাক্ষিত কর্মস্থল নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশি আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা কাজ করে, সেসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে লটারি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, লটারির মাধ্যমে বদলি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির নতুন এক দৃষ্টান্ত। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন ধাপে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা আরও সহজ হবে। তদবিরের বিপরীতে নতুন এ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, জাকারিয়া তাহের সুমন স্মার্ট মন্ত্রী। তাঁর পদক্ষেপও সুন্দর। ‘লটারি বদলি’ মডেল সবার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে করা উচিত। সুমনের এ উদ্যোগ সব মন্ত্রণালয়ে করলে সুশাসন নিশ্চিত হবে। তবে লটারি নীতিমালা করে করলে আরও ভালো হবে।