• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> বাংলাদেশ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে আজ

বাসস
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ২১
logo

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে আজ

বাসস

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ২১
Photo

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণ করে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।

বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাওহিদ, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী মানবসমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কেও হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। এ কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করেন।

মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য তখন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।

মক্কার জীবনে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মদিনার সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে। তাঁল আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।

মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান তাঁদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মাহফিল ও সম্মেলন, সেমিনার, কবিতাপাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা ও প্রদর্শনী। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বইমেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম, শিক্ষা ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

পবিত্র এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিজীবন ও সমাজে শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

Thumbnail image

বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণ করে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।

বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাওহিদ, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী মানবসমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কেও হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। এ কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করেন।

মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য তখন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।

মক্কার জীবনে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মদিনার সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে। তাঁল আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।

মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান তাঁদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাণী দিয়েছেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব সাহানে গতকাল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মাহফিল ও সম্মেলন, সেমিনার, কবিতাপাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, প্রকাশনা ও প্রদর্শনী। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব ও দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বইমেলারও আয়োজন করা হয়েছে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের উদ্যোগেও নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এসব আয়োজনে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম, শিক্ষা ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

পবিত্র এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তিজীবন ও সমাজে শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

২

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে নেবে: হাসনাত

৩

জাকারিয়া তাহের সুমনের ‘লটারি বদলি মডেল’

৪

তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

৫

শিক্ষাজীবনের অর্জিত মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে দেশের কল্যাণে উৎসর্গ করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সম্পর্কিত

সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার প্রধান হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

১২ ঘণ্টা আগে
সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে নেবে: হাসনাত

সরকার বিধবা কার্ড চালু করলে সংসদ সদস্যদের স্ত্রীরাই সবার আগে নেবে: হাসনাত

১২ ঘণ্টা আগে
জাকারিয়া তাহের সুমনের ‘লটারি বদলি মডেল’

জাকারিয়া তাহের সুমনের ‘লটারি বদলি মডেল’

২১ ঘণ্টা আগে
তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে ৬৪ জেলায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

২ দিন আগে