নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ
মোহাম্মদ শরীফ

কুমিল্লায় বৃদ্ধি পেয়েছে ছিনতাই, চুরি, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। গতকাল রোববার জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় কুমিল্লার এ চিত্র উঠে আসে।
সভায় উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, নগরের ঠাকুরপাড়া, টমছমব্রিজ, মেডিকেল রোড, কোটবাড়ি রোড, পদুয়ার বাজার রোড, শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, ধর্মপুর, গোমতীর পাড়, চর্থা, চকবাজার, সংরাইশ, রেলওয়ে স্টেশন, ইপিজেড রোডসহ ১২ থেকে ১৫টি স্থান পরিণিত হয়েছে ছিনতাইয়ের হটস্পট হিসেবে। এছাড়া চুরি হয়ে পড়েছে নিত্যদিনের ঘটনা। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হতে শুরু করলে নগরে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন নারীরা।
এছাড়া সাম্প্রতি লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। তাছাড়া কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনগুলো থেকে নানা রকম যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে জেলা প্রশাসন বলছে নাগরিকের নিরাপত্তায় সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হবে। জেলা পুলিশ বলছে ছিনতাই, চুরি, মাদকের বিস্তার রোধে বিশেষ টিম কাজ করছে। গেল ৪৮ ঘণ্টায় ছিনতাই ও মাদকের ঘটনায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব কর্মকাÐে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলেও, সহজে জামিন পেয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় পুলিশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুমিল্লা জেলায় গেলা জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ডাকাতি, দস্যুতা, ধর্ষণ, নারীও শিশু নির্যাতন হ্রাস পেলেও বেড়েছে খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, মাদক, অপহরণ ও অপমৃত্যুর ঘটনা। থানাগুলোতে জুলাই মাসে এসব ঘটনায় ৫০৯টি মামলা হলেও, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৫টিতে। আগস্ট মাসে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ৬টি, খুন ১১টি, অপমৃত্যু ৬১ জন, আহত ১১৩ জন, চুরি ৩৫, অপহরণ ১টি, মাদকদ্রব্য ২৮১টি, ধর্ষণ ১৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ২১ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জেলায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন, আহত হয়েছেন ৬০ জন। তাছাড়া কুমিল্লায় অবৈধ ভারতীয় ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ দূষণ ও অবৈধভাবে কুমিল্লায় মাটি উত্তোলনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান বলেন, প্রতিদিন ছিনতাই, চুরির খবর প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদপত্রগুলোতে। ভোররাতে এসব ছিনতাই বেশি হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া গোমতীর বেড়িবাঁধে ঝোপঝাড়গুলোর কারণে মাদক ও ছিনতাই করতে পারছে সহজে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিকার চাই।
কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসবেক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, পরিসংখ্যানে ছিনতাই ও চুরির যে তথ্য উঠে এসেছে পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও খারাপ। আমরা নাগরিক হিসেবে বসবাস করি, আমরা আতঙ্কে থাকি। জেলা পুলিশের এই বিষয়ে আমরা উদ্যোগ চাই, প্রয়োজনে আমরা পুলিশকে সহায়তা করব।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ছিনতাই, চুরি, মাদক কুমিল্লায় আমাদেও বিশেষ নজর রয়েছে। নগরে চারটি করে আটটি টিম দুই ভাগ হয়ে প্রতি রাতে ছিনতাই ধরতে কাজ করছে। সারা রাত হটস্পটগুলোতে আমাদের পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পাবেন। সকাল আটটা পর্যন্ত আমাদের এই টিমগুলো কাজ করে। মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গেল ৪৮ ঘণ্টায় আমরা ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে এসব অপরাধীরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিস রোজী আক্তার বলেন, নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কমিউনিটি পুলিশিং বৃদ্ধিসহ জেলা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করা হবে। নাগরিকদের মাঝে খুব শিগ্গিরই স্বস্তি ফিরে আসবে।

কুমিল্লায় বৃদ্ধি পেয়েছে ছিনতাই, চুরি, অপহরণ, খুন, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। গতকাল রোববার জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় কুমিল্লার এ চিত্র উঠে আসে।
সভায় উপস্থিত নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, নগরের ঠাকুরপাড়া, টমছমব্রিজ, মেডিকেল রোড, কোটবাড়ি রোড, পদুয়ার বাজার রোড, শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, ধর্মপুর, গোমতীর পাড়, চর্থা, চকবাজার, সংরাইশ, রেলওয়ে স্টেশন, ইপিজেড রোডসহ ১২ থেকে ১৫টি স্থান পরিণিত হয়েছে ছিনতাইয়ের হটস্পট হিসেবে। এছাড়া চুরি হয়ে পড়েছে নিত্যদিনের ঘটনা। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত গভীর হতে শুরু করলে নগরে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাসা থেকে বের হতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন নারীরা।
এছাড়া সাম্প্রতি লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। তাছাড়া কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনগুলো থেকে নানা রকম যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। তবে জেলা প্রশাসন বলছে নাগরিকের নিরাপত্তায় সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হবে। জেলা পুলিশ বলছে ছিনতাই, চুরি, মাদকের বিস্তার রোধে বিশেষ টিম কাজ করছে। গেল ৪৮ ঘণ্টায় ছিনতাই ও মাদকের ঘটনায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব কর্মকাÐে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হলেও, সহজে জামিন পেয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে জানায় পুলিশ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুমিল্লা জেলায় গেলা জুলাই মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে ডাকাতি, দস্যুতা, ধর্ষণ, নারীও শিশু নির্যাতন হ্রাস পেলেও বেড়েছে খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, মাদক, অপহরণ ও অপমৃত্যুর ঘটনা। থানাগুলোতে জুলাই মাসে এসব ঘটনায় ৫০৯টি মামলা হলেও, আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৫টিতে। আগস্ট মাসে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ৬টি, খুন ১১টি, অপমৃত্যু ৬১ জন, আহত ১১৩ জন, চুরি ৩৫, অপহরণ ১টি, মাদকদ্রব্য ২৮১টি, ধর্ষণ ১৭টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ২১ ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জেলায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন, আহত হয়েছেন ৬০ জন। তাছাড়া কুমিল্লায় অবৈধ ভারতীয় ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ দূষণ ও অবৈধভাবে কুমিল্লায় মাটি উত্তোলনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান বলেন, প্রতিদিন ছিনতাই, চুরির খবর প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদপত্রগুলোতে। ভোররাতে এসব ছিনতাই বেশি হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানগুলো উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া গোমতীর বেড়িবাঁধে ঝোপঝাড়গুলোর কারণে মাদক ও ছিনতাই করতে পারছে সহজে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিকার চাই।
কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসবেক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, পরিসংখ্যানে ছিনতাই ও চুরির যে তথ্য উঠে এসেছে পরিস্থিতি তার চেয়ে আরও খারাপ। আমরা নাগরিক হিসেবে বসবাস করি, আমরা আতঙ্কে থাকি। জেলা পুলিশের এই বিষয়ে আমরা উদ্যোগ চাই, প্রয়োজনে আমরা পুলিশকে সহায়তা করব।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ছিনতাই, চুরি, মাদক কুমিল্লায় আমাদেও বিশেষ নজর রয়েছে। নগরে চারটি করে আটটি টিম দুই ভাগ হয়ে প্রতি রাতে ছিনতাই ধরতে কাজ করছে। সারা রাত হটস্পটগুলোতে আমাদের পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পাবেন। সকাল আটটা পর্যন্ত আমাদের এই টিমগুলো কাজ করে। মাদক ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় গেল ৪৮ ঘণ্টায় আমরা ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে এসব অপরাধীরা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিস রোজী আক্তার বলেন, নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। কমিউনিটি পুলিশিং বৃদ্ধিসহ জেলা পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করা হবে। নাগরিকদের মাঝে খুব শিগ্গিরই স্বস্তি ফিরে আসবে।