মোহাম্মদ শরীফ

চুরি, ছিনতাই, মাদক, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় অপরাধের কুমিল্লায় হটস্পট হয়ে উঠেছে নগরের অন্যতম প্রবেশ পথ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা। চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে দিনে দুুপুরে। নেশাগ্রস্থরা হন্য হয়ে দিনের বেলা ঘুরে বেড়ায়। তাদের টার্গেট দূর থেকে নগওে আসা নারীরা। সুযোগ পেলেই হাতের ব্যাগ টান মেরে দৌড় দিচ্ছে। অনেক মাদকসেবী পথ আটকে এক রকম জোড় করে সাহায্যের নামে টাকা দিতে বাধ্য করছে। এসব লোকদের টাকা না দিলে পড়তে হয় হয় নানা রকম হয়রানি ও বিরম্বনায়। সাম্প্রতি কুমিল্লায় আলোচিত বুলেট বৈরাগী ও তানজিম দু’টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পদুয়ার বাজার এলাকার অপরাধীদের হাতে। নোয়াখালি চাঁদপুরসহ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নগরে এই প্রবেশ পথটি নিজেই ভোগছে নিরাপত্তাহীনতায়।
রাত বাড়লেই পদুয়ার বাজার এলাকায় বাড়ে অপরাধীদের আনাগোনা। বিভিন্ন চায়ের দোকান, গাড়ীর চালক সেঁজে, ফুটওভার ব্রিজ ও অন্ধকার স্থান গুলোতে ওঁৎ পেতে থাকে তারা। টার্গেট দূর থেকে আসা গাড়ীর যাত্রীদের। এখানে সারা রাত ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে অসংখ্য যাত্রী উঠানামা করে। গভীর রাত হলেই নিরব হয় এই স্থানটি। প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ছদ্দবেশে যাত্রীদের সাহায্যের কথা বলে ফাঁদে ফেলে কিডনাপ করা হয় যাত্রীদের। এমন ঘটনায় গত বছর একটি চক্র র্যাবের হাতে আটক হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড় এলাকা থেকে আরিফা আক্তার ও তাঁর শিশু সন্তান নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে র্যাব-১৫ তাদের কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করে।
গত ৭ অক্টোবর রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড নামেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ তাসবির। সেখান থেকে ক্যান্টনমেন্ট আসতে একটি সিএনজি নেন। মাঝপথে সিএনজিতে থাকা দুইজন ব্যক্তিসহ চালক সিএনজি থামিয়ে ছুঁরি দেখিয়ে আটক করে। এসময় তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবী করার হয়। পরে ঘটনা কাউকে না জানানোর শর্তে মুক্তি পায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসবির। ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে করে কুমিল্লা ফিরেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।
জাগুড়ঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তিনি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে যেতে চাইলে ফাঁদে পড়েন সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের। পরে ড্রাইভার ও যাত্রীবেশে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় থাকা ছিনতাইকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে টাকা ফোন নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে গাড়ী থেকে ফেলে দেন। আঘাতে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টায় কক্সবাজার থেকে পদুয়ার বাজার এলাকার নূর জাহান হোটেলের সামনে নামে ফরিদা বিদ্যায়তের শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজনিম। সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে নগরের রইেসকোর্স এলাকার নিজ বাসায় ৩০০ টাকা ভাড়ায় চুক্তিতে আসতে চায় সে। ভিন্ন পথে সহজে বাসায় পৌছে দিবে বলে লালমাইয়ের জগৎপুরের নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে কৃষি জমিতে জান্নাতুলকে অজ্ঞান করে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে পা দিয়ে মাটিতে মাথা চেপে ধরে জান্নাতুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পদুয়ার বাজার এলাকায় একাধিক বাসিন্দা জানান, বিশ্বরোড কেন্দ্রীক হওয়ায় এখানে বিভিন্ন এলাকা হতে অপরাধীরা এসে জমাট হয় সহজে। এখানকার অপরাধীরা কেউ স্থানীয় নয়। এসবের অপরাধের কারনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগী।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পদুয়ার বাজার থেকে কান্দিরপাড় এলাকার একাধিক সিএনজিন চালিত অটো চালক ও পদুয়ার বাজার এলাকা হতে ক্যান্টমেন্ট পর্যন্ত মাইক্রো চালক জানান, দিনে দুপুরে এখানে ছিনতাই ও চুরি হয়। এদের কিছু বলা যায় না। তাদের সাথে ধারালো ছুরি থাকে। কিছু বললে আমাদেরও আঘাত করে ফেলবে। এদের অধিকাংশ মাদকাশক্ত। এছাড়া বিশ্বরোডের ফ্লাইওভার এলাকায় মাইক্রোবাস ও সিএনজি নিয়ে কিছু চক্র যাত্রীর অপেক্ষা করে। যাদের আগে কখনো এই এলাকায় দেখা যায় না। অল্প টাকায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দিবে বলে যাত্রীদেও গাড়ীতে তোলে ছিনতাই করে।
পদুয়ার বাজার ও কুমিল্লা মহাসড়ক এলাকায় অপরাধীদের এই অভ্যয়রণের সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা সহকারী পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ‘অপরাধ দমনে আমরা যথেষ্ট তৎপরতার সাথে কাজ করছি। এই বিষয়ে আমরা কঠোর। তবে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে। এই বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় অপরাধের কুমিল্লায় হটস্পট হয়ে উঠেছে নগরের অন্যতম প্রবেশ পথ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা। চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে দিনে দুুপুরে। নেশাগ্রস্থরা হন্য হয়ে দিনের বেলা ঘুরে বেড়ায়। তাদের টার্গেট দূর থেকে নগওে আসা নারীরা। সুযোগ পেলেই হাতের ব্যাগ টান মেরে দৌড় দিচ্ছে। অনেক মাদকসেবী পথ আটকে এক রকম জোড় করে সাহায্যের নামে টাকা দিতে বাধ্য করছে। এসব লোকদের টাকা না দিলে পড়তে হয় হয় নানা রকম হয়রানি ও বিরম্বনায়। সাম্প্রতি কুমিল্লায় আলোচিত বুলেট বৈরাগী ও তানজিম দু’টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে পদুয়ার বাজার এলাকার অপরাধীদের হাতে। নোয়াখালি চাঁদপুরসহ কুমিল্লার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নগরে এই প্রবেশ পথটি নিজেই ভোগছে নিরাপত্তাহীনতায়।
রাত বাড়লেই পদুয়ার বাজার এলাকায় বাড়ে অপরাধীদের আনাগোনা। বিভিন্ন চায়ের দোকান, গাড়ীর চালক সেঁজে, ফুটওভার ব্রিজ ও অন্ধকার স্থান গুলোতে ওঁৎ পেতে থাকে তারা। টার্গেট দূর থেকে আসা গাড়ীর যাত্রীদের। এখানে সারা রাত ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে অসংখ্য যাত্রী উঠানামা করে। গভীর রাত হলেই নিরব হয় এই স্থানটি। প্রাইভেটকার ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ছদ্দবেশে যাত্রীদের সাহায্যের কথা বলে ফাঁদে ফেলে কিডনাপ করা হয় যাত্রীদের। এমন ঘটনায় গত বছর একটি চক্র র্যাবের হাতে আটক হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড় এলাকা থেকে আরিফা আক্তার ও তাঁর শিশু সন্তান নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে র্যাব-১৫ তাদের কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করে।
গত ৭ অক্টোবর রাত ১১টায় চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড নামেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান মোহাম্মদ তাসবির। সেখান থেকে ক্যান্টনমেন্ট আসতে একটি সিএনজি নেন। মাঝপথে সিএনজিতে থাকা দুইজন ব্যক্তিসহ চালক সিএনজি থামিয়ে ছুঁরি দেখিয়ে আটক করে। এসময় তার সাথে থাকা টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবী করার হয়। পরে ঘটনা কাউকে না জানানোর শর্তে মুক্তি পায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তাসবির। ২৪ এপ্রিল গভীর রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে বাসে করে কুমিল্লা ফিরেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী।
জাগুড়ঝুলি বিশ্বরোড এলাকা থেকে তিনি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে যেতে চাইলে ফাঁদে পড়েন সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের। পরে ড্রাইভার ও যাত্রীবেশে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় থাকা ছিনতাইকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে টাকা ফোন নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে গাড়ী থেকে ফেলে দেন। আঘাতে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া গত ৭ অক্টোবর রাত ১২টায় কক্সবাজার থেকে পদুয়ার বাজার এলাকার নূর জাহান হোটেলের সামনে নামে ফরিদা বিদ্যায়তের শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজনিম। সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় করে নগরের রইেসকোর্স এলাকার নিজ বাসায় ৩০০ টাকা ভাড়ায় চুক্তিতে আসতে চায় সে। ভিন্ন পথে সহজে বাসায় পৌছে দিবে বলে লালমাইয়ের জগৎপুরের নির্জন এলাকায় নিয়ে যায় তাকে। সেখানে কৃষি জমিতে জান্নাতুলকে অজ্ঞান করে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে পা দিয়ে মাটিতে মাথা চেপে ধরে জান্নাতুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পদুয়ার বাজার এলাকায় একাধিক বাসিন্দা জানান, বিশ্বরোড কেন্দ্রীক হওয়ায় এখানে বিভিন্ন এলাকা হতে অপরাধীরা এসে জমাট হয় সহজে। এখানকার অপরাধীরা কেউ স্থানীয় নয়। এসবের অপরাধের কারনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগী।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পদুয়ার বাজার থেকে কান্দিরপাড় এলাকার একাধিক সিএনজিন চালিত অটো চালক ও পদুয়ার বাজার এলাকা হতে ক্যান্টমেন্ট পর্যন্ত মাইক্রো চালক জানান, দিনে দুপুরে এখানে ছিনতাই ও চুরি হয়। এদের কিছু বলা যায় না। তাদের সাথে ধারালো ছুরি থাকে। কিছু বললে আমাদেরও আঘাত করে ফেলবে। এদের অধিকাংশ মাদকাশক্ত। এছাড়া বিশ্বরোডের ফ্লাইওভার এলাকায় মাইক্রোবাস ও সিএনজি নিয়ে কিছু চক্র যাত্রীর অপেক্ষা করে। যাদের আগে কখনো এই এলাকায় দেখা যায় না। অল্প টাকায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দিবে বলে যাত্রীদেও গাড়ীতে তোলে ছিনতাই করে।
পদুয়ার বাজার ও কুমিল্লা মহাসড়ক এলাকায় অপরাধীদের এই অভ্যয়রণের সম্পর্কে জানতে চাইলে কুমিল্লা সহকারী পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ‘অপরাধ দমনে আমরা যথেষ্ট তৎপরতার সাথে কাজ করছি। এই বিষয়ে আমরা কঠোর। তবে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব রয়েছে। এই বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না।