কুমিল্লা শহরে পুকুরের সংখ্যা ৭৮০
গাজীউল হক সোহাগ

এক সময় কুমিল্লা ছিল ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর। এখন ব্যাংক বেড়েছে, কমেছে ট্যাংক (পুকুর ও দিঘি)। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ৭৮০টি পুকুর ও দিঘি রয়েছে। এর মধ্যে ২১ নং ওয়ার্ডে ৩২টি পুকুরের মধ্যে ২৫টি ভরাট করে বহুতল ভবন, টিনশেড ভবনসহ নানা ধরনের স্থাপনা করা হয়েছে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ, জেলা পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েকটি পুকুর ও জলাশয় ভরাট করেছে। ব্যক্তিগতভাবেও অসংখ্য পুকুর ভরাট হয়েছে। বছরের পর বছর পুকুরগুলো ভরাট হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন শহরের পুকুরের তালিকা তৈরি করে। এতে ওয়ার্ডভিত্তিক পুকুরের সংখ্যা তৈরি করা হয়।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অফিসের সচিবেরা আমাদের কাছে তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের পুকুরের তালিকা ও অবস্থা অবস্থা জানিয়ে তথ্য দিয়েছে। আমরা সেগুলো সন্নিবেশ করছি। এরপর প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করব।
১ নং ওয়ার্ডে ১০টি পুকুর আছে, ২ নং ওয়ার্ডে সাতটি (এর মধ্যে তিনটিতে ফেনা)। ২ নং ওয়ার্ডের জেলখানার ভেতরে চারটি পুকুরের মধ্যে তিনটি ভরাট করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ৩ নং ওয়ার্ডে ছয়টি পুকুরের মধ্যে তিনটি ভরাট (একটি পুকুর জেলখানার), ৪ নং ওয়ার্ডের ১২টি পুকুর , ৫ নং ওয়ার্ডে সাতটি ও ৬ নং ওয়ার্ডে ছয়টি, ৭ নং ওয়ার্ডে ১৫টি (এর মধ্যে পাঁচটি ভরাট), ৮ নং ওয়ার্ডে ১০টি, ৯ নং ওয়ার্ডে আটটি, ১০ নং ওয়ার্ডে ১৩টি (এর মধ্যে ঝাউতলা খ্রিস্টান পুকুর ভরাট হয়ে গেছে), ১১ নং ওয়ার্ডে নয়টি (এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ পুকুর ভরাট হয়ে গেছে)। ১২ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ১৩ নং ওয়ার্ডে ১০টি, ১৪ নং ওয়ার্ডে ছয়টি।, ১৫ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি (এর মধ্যে দুইটি ভরাট হয়ে গেছে), ১৬ নং ওয়ার্ডে ২৪টি (এর মধ্যে সাতটি ভরাট হয়ে গেছে), ১৭ নং ওয়ার্ডে ১৪টি (এর মধ্যে সাতটি ভরাট), ১৮ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ১৯ নং ওয়ার্ডে ৩৩টি , ২০ নং ওয়ার্ডে ৪০টি (এর মধ্যে দুইটি আংশিক ভরাট)। ২১ নং ওয়ার্ডে ৩২টি পুকুরের মধ্যে ২৫টি ভরাট (এর মধ্যে শাকতলা কালিবাড়ি পুকুর ভরাট চলমান, নোয়াব মিয়া মেম্বার বাড়ি পুকুরের এক অংশে ছয়তলা ভবন আরেক অংশে মাটি ভরাট, আফাজ উদ্দিনের পুকুরের অর্ধেকে পাঁচতলা ভবন, বাকি অর্ধেকে টিনশেড ঘর, মীর পুকুরের অর্ধেক ভরাট করে ঘর, মধ্যম আশ্রাফপুর সর্দার পুকুরে দুইটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন, একটি ১২ তলা ভবনে বসবাস, উনাইসার ভাবনা পুকুর ভরাট, দক্ষিণ আশ্রাফপুর মজুমদার বাড়ির সামনের পুকুরে বাড়ি নির্মাণ, মধ্যম আশ্রাফপুর মসজিদ পুকুরে বাড়ি নির্মাণ, উত্তর আশ্রাফপুর কবরস্থান পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি, শাকতলা মোহাম্মদ রাজার পুকুর ভরাট, কোটবাড়ির রেললাইন পুকুর ময়লা দিয়ে ভরাট, শাকতলা হুদা বাড়ির পুকুর ভরাট করে ঘর ভাড়া, মোল্লা বাড়ির সার্ভেয়ের পুকুর ভরাট অবস্থায় আছে, এই ওয়ার্ডের রামনগর বৈঘঘা পুকুরের চারপাশ ভরাট )। ২২ নং ওয়ার্ডে ৭১টি, ২৩ নং ওয়ার্ডে ৬৭টি, ২৪ নং ওয়ার্ডে ৫৭টি, ২৫ নং ওয়ার্ডে ৭৬টি, ২৬ নং ওয়ার্ডে ৫৩টি ও ২৭ নং ওয়ার্ডে ১৭৭টি, এর বাইরে ভরাট আছে আটটি, ২৭ নং ওয়ার্ডে দুইটি দিঘি আছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সদস্য, কুমিল্লা অঞ্চলের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিলম্বে হলেও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন একটি তালিকা করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। এখন সিটি করপোরেশনের উচিত তালিকা ধরে পুকুরগুলো উদ্ধার করা। কুমিরøা শহরকে বাঁচাতে হলে খাল, পুকুর, জলাশয়, দিঘি উদ্ধার ও রক্ষা করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পুকুর , জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা করেছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ওরা সরকারি নিয়ম না মেনে ভরাট করে।
তিনি বলেন, এক সময় কুমিল্লাকে ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর বলা হয়। এখন ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু দিন দিন পুকুর ও জলাশয় ভরাট হচ্ছে। যে কারণে একটু বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারছে না। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পুকুর ভরাটের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমরা বাধা দিই। কোনভাবেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা হলে আমি গালি খাই। আমার সরকার ও দল গালি খায়। আমরা তালিকা ধরে কাজ করব।

এক সময় কুমিল্লা ছিল ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর। এখন ব্যাংক বেড়েছে, কমেছে ট্যাংক (পুকুর ও দিঘি)। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ৭৮০টি পুকুর ও দিঘি রয়েছে। এর মধ্যে ২১ নং ওয়ার্ডে ৩২টি পুকুরের মধ্যে ২৫টি ভরাট করে বহুতল ভবন, টিনশেড ভবনসহ নানা ধরনের স্থাপনা করা হয়েছে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ, জেলা পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কয়েকটি পুকুর ও জলাশয় ভরাট করেছে। ব্যক্তিগতভাবেও অসংখ্য পুকুর ভরাট হয়েছে। বছরের পর বছর পুকুরগুলো ভরাট হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন শহরের পুকুরের তালিকা তৈরি করে। এতে ওয়ার্ডভিত্তিক পুকুরের সংখ্যা তৈরি করা হয়।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অফিসের সচিবেরা আমাদের কাছে তাদের নিজ নিজ ওয়ার্ডের পুকুরের তালিকা ও অবস্থা অবস্থা জানিয়ে তথ্য দিয়েছে। আমরা সেগুলো সন্নিবেশ করছি। এরপর প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করব।
১ নং ওয়ার্ডে ১০টি পুকুর আছে, ২ নং ওয়ার্ডে সাতটি (এর মধ্যে তিনটিতে ফেনা)। ২ নং ওয়ার্ডের জেলখানার ভেতরে চারটি পুকুরের মধ্যে তিনটি ভরাট করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ৩ নং ওয়ার্ডে ছয়টি পুকুরের মধ্যে তিনটি ভরাট (একটি পুকুর জেলখানার), ৪ নং ওয়ার্ডের ১২টি পুকুর , ৫ নং ওয়ার্ডে সাতটি ও ৬ নং ওয়ার্ডে ছয়টি, ৭ নং ওয়ার্ডে ১৫টি (এর মধ্যে পাঁচটি ভরাট), ৮ নং ওয়ার্ডে ১০টি, ৯ নং ওয়ার্ডে আটটি, ১০ নং ওয়ার্ডে ১৩টি (এর মধ্যে ঝাউতলা খ্রিস্টান পুকুর ভরাট হয়ে গেছে), ১১ নং ওয়ার্ডে নয়টি (এর মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ পুকুর ভরাট হয়ে গেছে)। ১২ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ১৩ নং ওয়ার্ডে ১০টি, ১৪ নং ওয়ার্ডে ছয়টি।, ১৫ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি (এর মধ্যে দুইটি ভরাট হয়ে গেছে), ১৬ নং ওয়ার্ডে ২৪টি (এর মধ্যে সাতটি ভরাট হয়ে গেছে), ১৭ নং ওয়ার্ডে ১৪টি (এর মধ্যে সাতটি ভরাট), ১৮ নং ওয়ার্ডে পাঁচটি, ১৯ নং ওয়ার্ডে ৩৩টি , ২০ নং ওয়ার্ডে ৪০টি (এর মধ্যে দুইটি আংশিক ভরাট)। ২১ নং ওয়ার্ডে ৩২টি পুকুরের মধ্যে ২৫টি ভরাট (এর মধ্যে শাকতলা কালিবাড়ি পুকুর ভরাট চলমান, নোয়াব মিয়া মেম্বার বাড়ি পুকুরের এক অংশে ছয়তলা ভবন আরেক অংশে মাটি ভরাট, আফাজ উদ্দিনের পুকুরের অর্ধেকে পাঁচতলা ভবন, বাকি অর্ধেকে টিনশেড ঘর, মীর পুকুরের অর্ধেক ভরাট করে ঘর, মধ্যম আশ্রাফপুর সর্দার পুকুরে দুইটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন, একটি ১২ তলা ভবনে বসবাস, উনাইসার ভাবনা পুকুর ভরাট, দক্ষিণ আশ্রাফপুর মজুমদার বাড়ির সামনের পুকুরে বাড়ি নির্মাণ, মধ্যম আশ্রাফপুর মসজিদ পুকুরে বাড়ি নির্মাণ, উত্তর আশ্রাফপুর কবরস্থান পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি, শাকতলা মোহাম্মদ রাজার পুকুর ভরাট, কোটবাড়ির রেললাইন পুকুর ময়লা দিয়ে ভরাট, শাকতলা হুদা বাড়ির পুকুর ভরাট করে ঘর ভাড়া, মোল্লা বাড়ির সার্ভেয়ের পুকুর ভরাট অবস্থায় আছে, এই ওয়ার্ডের রামনগর বৈঘঘা পুকুরের চারপাশ ভরাট )। ২২ নং ওয়ার্ডে ৭১টি, ২৩ নং ওয়ার্ডে ৬৭টি, ২৪ নং ওয়ার্ডে ৫৭টি, ২৫ নং ওয়ার্ডে ৭৬টি, ২৬ নং ওয়ার্ডে ৫৩টি ও ২৭ নং ওয়ার্ডে ১৭৭টি, এর বাইরে ভরাট আছে আটটি, ২৭ নং ওয়ার্ডে দুইটি দিঘি আছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচিত সদস্য, কুমিল্লা অঞ্চলের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিলম্বে হলেও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন একটি তালিকা করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। এখন সিটি করপোরেশনের উচিত তালিকা ধরে পুকুরগুলো উদ্ধার করা। কুমিরøা শহরকে বাঁচাতে হলে খাল, পুকুর, জলাশয়, দিঘি উদ্ধার ও রক্ষা করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পুকুর , জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা করেছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। ওরা সরকারি নিয়ম না মেনে ভরাট করে।
তিনি বলেন, এক সময় কুমিল্লাকে ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর বলা হয়। এখন ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু দিন দিন পুকুর ও জলাশয় ভরাট হচ্ছে। যে কারণে একটু বৃষ্টি হলে পানি নামতে পারছে না। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, পুকুর ভরাটের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমরা বাধা দিই। কোনভাবেই পুকুর ভরাট করা যাবে না। বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা হলে আমি গালি খাই। আমার সরকার ও দল গালি খায়। আমরা তালিকা ধরে কাজ করব।