গুজবকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি : ডা. মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, কোনো ধরনের গুজবকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি। সাধারণ মানুষ বুঝে গেছে কোনটা গুজব, কোনটা সত্য। তারা এটাও বুঝে গেছে গুজব কারা ছড়ায়, বট বাহিনী আসলে কারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লায় ‘আমাদের পরিকল্পনা তোমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, তারেক রহমান দেশে এসেই বলেছিল দেশ নিয়ে তাঁর আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার মূল অংশই ছিল তরুণদের নিয়ে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা, দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, একাত্তর থেকে চব্বিশ তরুণরাই এদেশে যুদ্ধ করেছে। স্বাধীনতার পর পর একটা রাজনৈতিক দল স্বাধীনতাটাকে পুরোপুরি নিজেদের করে ফেলল। তাদের সম্পত্তির বিকাশ হলো, তারা অনেক টাকা-পয়সার মালিক হলেন। সাধারণ মানুষের কি অবস্থা হলো? যদি আমরা ইতিহাসের দিকে তাকাই সে সময় মানুষকে না খেয়ে থাকতে হতো। তার ফলশ্রুতিতে ৭৪-এ দুর্ভিক্ষ হয়েছে। সে দুর্ভিক্ষে রাস্তাঘাটে মানুষের মৃতদেহ পরে থাকত। আমরা বাসন্তীকে দেখেছি জাল দিয়ে লজ্জা নিবারণ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোন প্রেক্ষাপটে স্বাধীন হয়েছে সে বিষয়টি জানতে চাই। স্বাধীনতা যুদ্ধ একটা পর্বে আসেনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরে গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচনের পর ৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। এ স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে অনেক রকমের প্রশ্ন উঠে। এটা নিয়ে কি আমরা সত্য কথা বলতে পারব না?

মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, এটা তো মানতে হবে যে ৭০-এর নির্বাচনে আমরা বাঙালিরা নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছি। কিন্তু স্বাধীনতা অনিবার্য হওয়ার পরও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আসেনি। এটা রাজনৈতিক একটা কলঙ্ক বলতে পারি আমরা।

তিনি বলেন, এই ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব নিলেন একজন মেজর যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি রেডিওতে ঘোষণা করলে ‘আই ডু হ্যাভ ডিক্লেয়ার দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অব বাংলাদেশ’। এর মধ্য দিয়ে তিনি জানালেন আমি জিয়া আমার পরিচয় দিলাম, মানে আমি বিদ্রোহ করলাম। তখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত পরিবার ছিল কোনটি? যে পরিবারে একজন মা এবং ছোট দুই ছেলে রয়েছে। তাদেরকে একটা বিপদের মুখে ঠেলে দিলেন তিনি (জিয়া)। এটা কি খুব সহজ বিষয় বলে মনে করি আমরা? এটাকে নিছক একটি ঘোষণার পাঠ বললে হবে? এরপর আমরা দেখি স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস তিনি কিন্তু তাঁর পরিবারকে ভারতে নিয়ে যাননি। তিনি কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে যুদ্ধ করেছেন। একটা সময় তিনি উপলব্ধি করেছেন গেরিলা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা যায় না। যুদ্ধ করতে গেলে সামনাসামনি যুদ্ধ করা লাগে। তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি ব্যয় করে জেড ফোর্স গঠন করেন এবং সে যুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করেছি, যোগ করেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল, তোমাদের মতো তরুণরাই সে যুদ্ধে অংশ নিয়েছ। তোমরা সৌভাগ্যবান সে যুদ্ধ তোমরা চব্বিশে এসে করেছো।

মুক্ত আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির রিসার্চ ও মনিটরিং সেলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মিডিয়া মনিটরিং কমিটি সদস্য সৈয়দা আদিবা হোসেন।

মুক্ত আলোচনায় ৩ শতাধিক বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় তারা দেশ গঠনের নানা বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান এম এম শরীফুল করীম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কনসালটেন্ট বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক মিনহাজুর রহমান তারেক প্রমুখ।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত