কুমিল্লা-৪ ও ১০ আসন
নিজস্ব প্রতিবেদক

শেষবারের মতো চেষ্টা করেও নির্বাচনে প্রার্থী থাকতে পারলেন না কুমিল্লা-৪( দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কুমিল্লা-১০ ( নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। ওই কারণে দেবীদ্বারে বিএনপির কোন প্রার্থী থাকল না। তবে কুমিল্লা -১০ আসনে বিএনপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। গতকাল মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
জানা গেছে, হাইকোর্টে বিফল হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেছিলেন কুমিল্লা- ৪ আসনের প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল রোববার লিভ টু আপিল খারিজ করে খারিজ করে আদেশ দেন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. আবুল হাসানাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ এখন জয়ের পথে।
এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়।
ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন। ৩০ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গতকাল রোববার আদেশের জন্য দিন রাখেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসানের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার গত আড়াই দশকের চর্চার কবর রচনা করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। সেই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও না।’
এদিকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই ) আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার এ আদেশ দেন। ফলে আবদুল গফুর ভূঁইয়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। হাইকোর্টের আদেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দসহ তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলে। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গতকাল আদেশ দিলেন আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ। অর্থাৎ তিনি (হাসান আহমেদ) আপিল করার অনুমতি পেলেন।
আদেশের পর হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আপিল বিভাগ লিভ (আপিল করার অনুমতি) দিয়েছেন। আদালত বলেন, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় হাসান আহমেদ আপিল করবেন। এই আপিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মোবাশ্বরের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত (প্রার্থিতা বৈধ-অবৈধ) হবে।’
লিভ মঞ্জুর, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন: এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর করা রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাঁকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এই লিভ টু আপিলের ওপর ৩০ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়। সেদিন আপিল বিভাগ আদেশের জন্য আজকের দিন রাখেন। লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
আদালতে হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন শুনানি করেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আখতার ইমাম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও এস এম শামীম হোসেন। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
আপিলেও বিফল মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া: কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে দেন।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিলের ওপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। সেদিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গতকাল রোববার আদেশের জন্য দিন রাখেন। লিভ টু আপিল খারিজ করে আজ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ।
আদালতে গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও বি এম ইলিয়াস কচি শুনানিতে ছিলেন। নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। কারণ, তিনি দ্বৈত নাগরিক এবং এই তথ্য গোপন করেছেন। পরে তিনি কিছু কাগজ দিয়েছেন। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত কাগজপত্র দিতে পারেননি। লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় গফুর ভূঁইয়া নির্বাচন করতে পারবেন না।’

শেষবারের মতো চেষ্টা করেও নির্বাচনে প্রার্থী থাকতে পারলেন না কুমিল্লা-৪( দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও কুমিল্লা-১০ ( নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া। ওই কারণে দেবীদ্বারে বিএনপির কোন প্রার্থী থাকল না। তবে কুমিল্লা -১০ আসনে বিএনপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়াকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। গতকাল মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
জানা গেছে, হাইকোর্টে বিফল হয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সর্বোচ্চ আদালতে লিভ টু আপিল করেছিলেন কুমিল্লা- ৪ আসনের প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ গতকাল রোববার লিভ টু আপিল খারিজ করে খারিজ করে আদেশ দেন। আসনটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. আবুল হাসানাত ওরফে হাসনাত আবদুল্লাহ এখন জয়ের পথে।
এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়।
ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন। ৩০ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গতকাল রোববার আদেশের জন্য দিন রাখেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন।
হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ‘মঞ্জুরুল আহসানের লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার গত আড়াই দশকের চর্চার কবর রচনা করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিতে পারবে না। সেই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকদেরও না।’
এদিকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই ) আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রোববার এ আদেশ দেন। ফলে আবদুল গফুর ভূঁইয়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারছেন না।
একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। হাইকোর্টের আদেশে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দসহ তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খোলে। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গতকাল আদেশ দিলেন আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ। অর্থাৎ তিনি (হাসান আহমেদ) আপিল করার অনুমতি পেলেন।
আদেশের পর হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আপিল বিভাগ লিভ (আপিল করার অনুমতি) দিয়েছেন। আদালত বলেন, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন। লিভ মঞ্জুর হওয়ায় হাসান আহমেদ আপিল করবেন। এই আপিলের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মোবাশ্বরের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত (প্রার্থিতা বৈধ-অবৈধ) হবে।’
লিভ মঞ্জুর, মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারবেন: এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর করা রিটের শুনানি নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে তাঁকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি ইতিমধ্যে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এই লিভ টু আপিলের ওপর ৩০ জানুয়ারি শুনানি শেষ হয়। সেদিন আপিল বিভাগ আদেশের জন্য আজকের দিন রাখেন। লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আজ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
আদালতে হাসান আহমেদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন শুনানি করেন। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আখতার ইমাম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব এবং আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও এস এম শামীম হোসেন। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম।
আপিলেও বিফল মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া: কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে দেন।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন। লিভ টু আপিলের ওপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার শুনানি হয়। সেদিন শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গতকাল রোববার আদেশের জন্য দিন রাখেন। লিভ টু আপিল খারিজ করে আজ আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ।
আদালতে গফুর ভূঁইয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও বি এম ইলিয়াস কচি শুনানিতে ছিলেন। নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘গফুর ভূঁইয়ার লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। কারণ, তিনি দ্বৈত নাগরিক এবং এই তথ্য গোপন করেছেন। পরে তিনি কিছু কাগজ দিয়েছেন। তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত কাগজপত্র দিতে পারেননি। লিভ টু আপিল খারিজ হওয়ায় গফুর ভূঁইয়া নির্বাচন করতে পারবেন না।’