নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার বাঙ্গরায় লুকিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে এসেছিলেন আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা। ওই রাতেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর পেন্নই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার প্রয়াত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় আনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তাঁর হাতের রগ কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের ভাই জালাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আনোয়ারকে এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তাঁরা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেউ হয়তো নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে এলাকায় আসতে বলেছেন। রাতে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে তিনি লুকিয়ে বাড়িতে আসেন।
নিহতের স্ত্রীও একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় হামলাকারীরা তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চব্বিশের ডামি নির্বাচনের পূর্বে এলাকায় তাঁর ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্যও ছিল আনোয়ারের।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের অনুসারী ছিলেন। ডামি নির্বাচনে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে হারিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার। নির্বাচনের পর আনোয়ারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এলাকায় ফেরার চেষ্টা করেন।
এদিকে, ২০২৩ সালে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলার করেন আনোয়ার ও তাঁর বাহিনী। তখন তিনি রাজনৈতিক অভিভাবকদের কারণে আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রæতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল।
আনোয়ারের মেয়ে জামাতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার শ্বশুরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষের বিরোধ ছিল। যার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ঘরছাড়া ছিলেন। হত্যাকারীরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কুমিল্লার বাঙ্গরায় লুকিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে এসেছিলেন আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে এক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা। ওই রাতেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর পেন্নই দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার প্রয়াত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় আনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা আনোয়ারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তাঁর হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে তাঁর হাতের রগ কেটে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের ভাই জালাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে আনোয়ারকে এলাকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন তাঁরা। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেউ হয়তো নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে তাঁকে এলাকায় আসতে বলেছেন। রাতে স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে তিনি লুকিয়ে বাড়িতে আসেন।
নিহতের স্ত্রীও একই অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামীকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল এবং ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় হামলাকারীরা তাঁর স্বামীকে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় হামলাকারীদের কয়েকজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলেও দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চব্বিশের ডামি নির্বাচনের পূর্বে এলাকায় তাঁর ব্যাপক রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। এলাকায় অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক আধিপত্যও ছিল আনোয়ারের।
তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের অনুসারী ছিলেন। ডামি নির্বাচনে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনকে হারিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকার। নির্বাচনের পর আনোয়ারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না। পরে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এলাকায় ফেরার চেষ্টা করেন।
এদিকে, ২০২৩ সালে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলার করেন আনোয়ার ও তাঁর বাহিনী। তখন তিনি রাজনৈতিক অভিভাবকদের কারণে আইনের হাত থেকে বেঁচে যান।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, এলাকায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রæতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আনোয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধ ছিল।
আনোয়ারের মেয়ে জামাতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার শ্বশুরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষের বিরোধ ছিল। যার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ঘরছাড়া ছিলেন। হত্যাকারীরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।