ইলিয়াছ হোসাইন

ডালে ডালে ঝুলছে টকটকে লাল সুন্দরী, রেড আপেল, কাশ্মীরি, টক, আপেল কুলসহ মিষ্টি স্বাদের বরই বা কুল । বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, জমিতে বরই আর বরই। বরইয়ের মিষ্ট স্বাদ পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলছে। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি মুখরিত করছে গ্রামের নিভৃত পরিবেশ; বুলবুল,শালিকসহ বিভিন্ন পাখি ডালে বসে খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। বরুড়ার বরই কদর বহু আগ থেকেই কুমিল্লায় আছে। কুমিল্লা শহরের বাজারের সব বরই বরুড়া থেকে আনা। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পর্যন্ত এই বরই মেলবে।
কিছু বাগানী পাখির উপদ্রব থেকে বরই রক্ষা করতে নীল রঙের জালে বাগান আবৃত করে রেখেছেন।
চাষী বরই তুলছেন: স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ নিজ হাতে বরই ছিঁড়ছেন এবং চাহিদানুযায়ী ক্রয় করছেন। গ্রামের শিশুরাও বরই খাওয়ার বিনিময়ে বাগান মালিকদের বরই সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন। এমন মনোমুগ্ধকর ও সাফল্যগাঁথা আপেল কুলের রাজ্য গড়ে উঠেছে বরুড়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনয়নের শ্রীকারপুর, জয়কামতাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ এলাকার কৃষকরা বরই চাষের প্রতি ক্রমাগত ঝৃুঁকছেন। প্রতি বছর বরই চাষীর সংখ্যা বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ অঞ্চলের কৃষকরা বরই চাষের প্রতি বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।প াচ্ছেন সফলতাও; বেকারত্বও গোছাচ্ছে বরই চাষ।অ নেক প্রবাসে না ফিরে বরই চাষেই তুলছেন সফলতা।
জয়কামতার কৃষক জুনাব আলী বলেন, আমি দুইটা বাগান করেছি। খুচরা-পাইকারি দুইভাবেই বিক্রি করছি। বরুড়া,লালমাই, লাকসাম, বিশ্বরোডে বরই বিক্রি করি। এ চাষে কোনো ক্ষতি নাই। জয়কামতা,শিকারপুরে বরইয়ের ভালো ফলনের লক্ষ্যে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের তথ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করেন।
শিকারপুরের কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, আমি সৌদি প্রবাসী ছিলাম। বড় ভাই সুরুজ আলী আমাকে কিছু গাছ দিয়ে বলেছেন, ছোট ভাই তুই দেশে বেকার পড়ে আছত, তুই গাছ লাগা। পরে বিদেশ না গিয়ে বড় ভাই সুরুজ আলীর পরামর্শে বরই চাষে মনোযোগী হলাম। প্রথম দুই গন্ডা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচে গাছ লাগালাম। পরে আরও ৬ গন্ডা বাড়ালাম। এ বছর দুই লাখ টাকা খরচ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভালো লাভবান হচ্ছি। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছি। ইনশাআল্লাহ আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বরই এ মৌসুমে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। সিজনে দুই লাখ টাকা লাভ থাকে।
চাষী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ এলাকায় প্রথম বরই চাষ করেন সুরুজ আলী। তাঁর প্রেরণায় অনেক কৃষক এখন বিঘায় বিঘায় বরই চাষ করছেন। বাগান দেখতে দূর থেকে বহু মানুষ এসে নিজের হাতে ছিড়ে বরই কিনে নেন। গ্রামের এ মনোরম পরিবেশ পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে।আশে-পাশে এলাকার মহিলারাও বরই কিনতে আসে। আমরা তিন ভাই মিলে সম্মিলিতভাবে ৬০ শতক জায়গায় বরই চাষ করছি। আমি তিন -চার বছর ধরে পরিশ্রম করছি। লাভবান হচ্ছি। বাজারে বরইর চাহিদাও আছে। প্রথমে ১৮০-২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। টক বরই ১৫০ টাকা কেজি।
বরুড়া উপজেলার ভবানীপুর অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, আজ থেকে চার বছর আগে এখানে সুরুজ মিয়া নামের এক বিদেশ ফেরত যুবক প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৩২ শতক জমিতে কুল চাষ করেন। পরে আমরা তা মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসলাম। তিনি এক বছরে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। পরে পার্শ্ববর্তী প্রায় ৭ থেকে ৮জন কৃষক আমার পরামর্শে আরও ৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেন। বর্তমানে ভবানীপুর ইউনিয়নে ২০বিঘা জমিতে কুল চাষ হচ্ছে। বাউ সুন্দরী, রেড আপেল,আপেল কুল, কাশ্মিরি, টক-মিষ্টিসহ বহু জাতের কুল চাষ হছে। এছাড়াও আন্তঃফসল হিসেবে একই জমিতে মাল্টা চাষ, লাল শাক, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া চাষ করাচ্ছি। এগুলো বিক্রি করে কৃষক কুল চাষের খরচ উঠিয়ে নিতে পারেন। এখন প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষকরা কুল চাষে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা প্রকৃত লাভ করতে পারেন।
ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন,আমাদের বরুড়া লতি, হোগলাপাতা, পানের জন্য বিখ্যাত। ভাবানীপুর জয়কামতা, শিকারপুর আশেপাশের এলাকায় এখন কুল চাষ হয়। কুল চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

ডালে ডালে ঝুলছে টকটকে লাল সুন্দরী, রেড আপেল, কাশ্মীরি, টক, আপেল কুলসহ মিষ্টি স্বাদের বরই বা কুল । বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, জমিতে বরই আর বরই। বরইয়ের মিষ্ট স্বাদ পুরো এলাকা মাতিয়ে তুলছে। গাছে গাছে পাখির কলকাকলি মুখরিত করছে গ্রামের নিভৃত পরিবেশ; বুলবুল,শালিকসহ বিভিন্ন পাখি ডালে বসে খাবারে ভাগ বসাচ্ছে। বরুড়ার বরই কদর বহু আগ থেকেই কুমিল্লায় আছে। কুমিল্লা শহরের বাজারের সব বরই বরুড়া থেকে আনা। পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস পর্যন্ত এই বরই মেলবে।
কিছু বাগানী পাখির উপদ্রব থেকে বরই রক্ষা করতে নীল রঙের জালে বাগান আবৃত করে রেখেছেন।
চাষী বরই তুলছেন: স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ নিজ হাতে বরই ছিঁড়ছেন এবং চাহিদানুযায়ী ক্রয় করছেন। গ্রামের শিশুরাও বরই খাওয়ার বিনিময়ে বাগান মালিকদের বরই সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন। এমন মনোমুগ্ধকর ও সাফল্যগাঁথা আপেল কুলের রাজ্য গড়ে উঠেছে বরুড়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনয়নের শ্রীকারপুর, জয়কামতাসহ আশেপাশের এলাকাগুলোতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ এলাকার কৃষকরা বরই চাষের প্রতি ক্রমাগত ঝৃুঁকছেন। প্রতি বছর বরই চাষীর সংখ্যা বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এ অঞ্চলের কৃষকরা বরই চাষের প্রতি বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন।প াচ্ছেন সফলতাও; বেকারত্বও গোছাচ্ছে বরই চাষ।অ নেক প্রবাসে না ফিরে বরই চাষেই তুলছেন সফলতা।
জয়কামতার কৃষক জুনাব আলী বলেন, আমি দুইটা বাগান করেছি। খুচরা-পাইকারি দুইভাবেই বিক্রি করছি। বরুড়া,লালমাই, লাকসাম, বিশ্বরোডে বরই বিক্রি করি। এ চাষে কোনো ক্ষতি নাই। জয়কামতা,শিকারপুরে বরইয়ের ভালো ফলনের লক্ষ্যে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের তথ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন রকম সহযোগিতা করেন।
শিকারপুরের কৃষক রমিজ উদ্দিন বলেন, আমি সৌদি প্রবাসী ছিলাম। বড় ভাই সুরুজ আলী আমাকে কিছু গাছ দিয়ে বলেছেন, ছোট ভাই তুই দেশে বেকার পড়ে আছত, তুই গাছ লাগা। পরে বিদেশ না গিয়ে বড় ভাই সুরুজ আলীর পরামর্শে বরই চাষে মনোযোগী হলাম। প্রথম দুই গন্ডা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচে গাছ লাগালাম। পরে আরও ৬ গন্ডা বাড়ালাম। এ বছর দুই লাখ টাকা খরচ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভালো লাভবান হচ্ছি। ইতোমধ্যে দুই লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছি। ইনশাআল্লাহ আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার বরই এ মৌসুমে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। সিজনে দুই লাখ টাকা লাভ থাকে।
চাষী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ এলাকায় প্রথম বরই চাষ করেন সুরুজ আলী। তাঁর প্রেরণায় অনেক কৃষক এখন বিঘায় বিঘায় বরই চাষ করছেন। বাগান দেখতে দূর থেকে বহু মানুষ এসে নিজের হাতে ছিড়ে বরই কিনে নেন। গ্রামের এ মনোরম পরিবেশ পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে।আশে-পাশে এলাকার মহিলারাও বরই কিনতে আসে। আমরা তিন ভাই মিলে সম্মিলিতভাবে ৬০ শতক জায়গায় বরই চাষ করছি। আমি তিন -চার বছর ধরে পরিশ্রম করছি। লাভবান হচ্ছি। বাজারে বরইর চাহিদাও আছে। প্রথমে ১৮০-২০০টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করছি। টক বরই ১৫০ টাকা কেজি।
বরুড়া উপজেলার ভবানীপুর অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, আজ থেকে চার বছর আগে এখানে সুরুজ মিয়া নামের এক বিদেশ ফেরত যুবক প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ৩২ শতক জমিতে কুল চাষ করেন। পরে আমরা তা মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসলাম। তিনি এক বছরে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করেন। পরে পার্শ্ববর্তী প্রায় ৭ থেকে ৮জন কৃষক আমার পরামর্শে আরও ৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেন। বর্তমানে ভবানীপুর ইউনিয়নে ২০বিঘা জমিতে কুল চাষ হচ্ছে। বাউ সুন্দরী, রেড আপেল,আপেল কুল, কাশ্মিরি, টক-মিষ্টিসহ বহু জাতের কুল চাষ হছে। এছাড়াও আন্তঃফসল হিসেবে একই জমিতে মাল্টা চাষ, লাল শাক, পুঁইশাক, মিষ্টি কুমড়া চাষ করাচ্ছি। এগুলো বিক্রি করে কৃষক কুল চাষের খরচ উঠিয়ে নিতে পারেন। এখন প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষকরা কুল চাষে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা প্রকৃত লাভ করতে পারেন।
ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন,আমাদের বরুড়া লতি, হোগলাপাতা, পানের জন্য বিখ্যাত। ভাবানীপুর জয়কামতা, শিকারপুর আশেপাশের এলাকায় এখন কুল চাষ হয়। কুল চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।