• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> কুমিল্লা জেলা
> ব্রাহ্মণপাড়া

ব্রাহ্মণপাড়ার বামন কামালের অন্তহীন জীবনযুদ্ধ

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২০: ২২
logo

ব্রাহ্মণপাড়ার বামন কামালের অন্তহীন জীবনযুদ্ধ

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২০: ২২
Photo

এক টুকরো মেঘলা আকাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের এক কোণে বসে আছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে কোনো অবুঝ শিশু। কিন্তু নিয়তির অমোঘ নিয়মে ২০ ইঞ্চির এক ছোট্ট শরীরে বন্দী হয়ে আছে এক লড়াকু যুবকের অদম্য প্রাণ। তার নাম কামাল হোসেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এঁকে দিয়েছে সীমাহীন বাধা, সেই কামালই আজ টানছেন এক পুরো পরিবারের চাকা। এটি কেবল বেঁচে থাকার লড়াই নয়, এটি এক বুক ভাঙা আত্মসম্মান আর টিকে থাকার গল্প।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের হাসেম মোলবীর বাড়ির কৃষক আনোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে কামাল অন্যতম। সমবয়সী আর দশটা ছেলের মতো কামালও চেয়েছিল পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যেতে, পড়াশোনা করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে। কিন্তু বিধাতা তাঁর পায়ে সেই শক্তি দেননি।

নিজে একা দাঁড়াতে পারেন না কামাল। অন্যের সাহায্য ছাড়া একচুল নড়ার উপায় নেই। ঘরের ভেতর খুব বেশি তাড়া থাকলে দুইহাতে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিতে হয় তাকে। যে বয়সে মাঠে ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠার কথা, সেই বয়সে কামালের পৃথিবীটা থমকে গেছে মাত্র ২০ ইঞ্চির এক ছোট্ট অবয়বে।

'চিকিৎসা করাবো কীভাবে, খেয়ে পরে চলাই তো কষ্ট'

কামালের বাবা আনোয়ার হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক। রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে মাঠে যা ফলান, তা দিয়ে সাত জনের সংসারের ভরণপোষণ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। ছেলের এই করুণ দশা দেখেও অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারার হাহাকার লুকিয়ে আছে তার চোখে-মুখে।

অশ্রুভেজা চোখে কামালের বাবা বলেন আমাদের তো কোনো রকমে খেয়ে-দেয়ে বেঁচে থাকতেই কষ্ট হয়, ছেলের চিকিৎসা করাব কোথা থেকে? যদি কিছু টাকা জোগাড় করতে পারতাম, তবে ওকে শহরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারতাম। কিন্তু সেই সামর্থ্য বা সুযোগ কোনোদিন আমাদের হয়ে ওঠেনি। শারীরিক অক্ষমতা কামালকে পঙ্গু করতে পারলেও তার ভেতরের লড়াকু মনটাকে দমাতে পারেনি। পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চান না তিনি। তাই প্রতিদিন এক বুক কষ্ট আর লজ্জা চেপে ঘর থেকে বের হন কামাল।

নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, প্রতিদিন একটা রিকশা ভাড়া করে বাড়ি থেকে ব্রাহ্মণপাড়া সদরে আসি। মানুষের কাছে হাত পেতে যা কিছু সাহায্য পাই, তা নিয়ে দুপুর বা বিকেলে বাড়ি ফিরি। এই টাকাটা দিয়েই আমার পরিবার আর আমি কোনো রকমে চলি। কিন্তু দিনগুলো সবসময় একরকম যায় না। মেঘ-বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়া থাকলে ঘর থেকে বের হতে পারি না। সেদিন ঘরে চুলা জ্বলবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।

কামালের এই কষ্টের জীবনে এক চিলতে আলোর মতো এসেছিল একটি সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড। তবে তা কামালের এই বিশাল লড়াইয়ের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

এ বিষয়ে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ভ‚ঁইয়া রিপন বলেন, কামাল আমার ইউনিয়নেরই ছেলে, তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। গত বছর আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছি। তবে কার্ডের সামান্য ভাতায় কামালের চিকিৎসা বা সংসারের ব্যয়ভার বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

Thumbnail image

এক টুকরো মেঘলা আকাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের এক কোণে বসে আছেন ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে কোনো অবুঝ শিশু। কিন্তু নিয়তির অমোঘ নিয়মে ২০ ইঞ্চির এক ছোট্ট শরীরে বন্দী হয়ে আছে এক লড়াকু যুবকের অদম্য প্রাণ। তার নাম কামাল হোসেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এঁকে দিয়েছে সীমাহীন বাধা, সেই কামালই আজ টানছেন এক পুরো পরিবারের চাকা। এটি কেবল বেঁচে থাকার লড়াই নয়, এটি এক বুক ভাঙা আত্মসম্মান আর টিকে থাকার গল্প।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের হাসেম মোলবীর বাড়ির কৃষক আনোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল। ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে কামাল অন্যতম। সমবয়সী আর দশটা ছেলের মতো কামালও চেয়েছিল পিঠে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যেতে, পড়াশোনা করে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে। কিন্তু বিধাতা তাঁর পায়ে সেই শক্তি দেননি।

নিজে একা দাঁড়াতে পারেন না কামাল। অন্যের সাহায্য ছাড়া একচুল নড়ার উপায় নেই। ঘরের ভেতর খুব বেশি তাড়া থাকলে দুইহাতে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিতে হয় তাকে। যে বয়সে মাঠে ফুটবল নিয়ে মেতে ওঠার কথা, সেই বয়সে কামালের পৃথিবীটা থমকে গেছে মাত্র ২০ ইঞ্চির এক ছোট্ট অবয়বে।

'চিকিৎসা করাবো কীভাবে, খেয়ে পরে চলাই তো কষ্ট'

কামালের বাবা আনোয়ার হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক। রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে মাঠে যা ফলান, তা দিয়ে সাত জনের সংসারের ভরণপোষণ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। ছেলের এই করুণ দশা দেখেও অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারার হাহাকার লুকিয়ে আছে তার চোখে-মুখে।

অশ্রুভেজা চোখে কামালের বাবা বলেন আমাদের তো কোনো রকমে খেয়ে-দেয়ে বেঁচে থাকতেই কষ্ট হয়, ছেলের চিকিৎসা করাব কোথা থেকে? যদি কিছু টাকা জোগাড় করতে পারতাম, তবে ওকে শহরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারতাম। কিন্তু সেই সামর্থ্য বা সুযোগ কোনোদিন আমাদের হয়ে ওঠেনি। শারীরিক অক্ষমতা কামালকে পঙ্গু করতে পারলেও তার ভেতরের লড়াকু মনটাকে দমাতে পারেনি। পরিবারের ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চান না তিনি। তাই প্রতিদিন এক বুক কষ্ট আর লজ্জা চেপে ঘর থেকে বের হন কামাল।

নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, প্রতিদিন একটা রিকশা ভাড়া করে বাড়ি থেকে ব্রাহ্মণপাড়া সদরে আসি। মানুষের কাছে হাত পেতে যা কিছু সাহায্য পাই, তা নিয়ে দুপুর বা বিকেলে বাড়ি ফিরি। এই টাকাটা দিয়েই আমার পরিবার আর আমি কোনো রকমে চলি। কিন্তু দিনগুলো সবসময় একরকম যায় না। মেঘ-বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়া থাকলে ঘর থেকে বের হতে পারি না। সেদিন ঘরে চুলা জ্বলবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।

কামালের এই কষ্টের জীবনে এক চিলতে আলোর মতো এসেছিল একটি সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড। তবে তা কামালের এই বিশাল লড়াইয়ের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

এ বিষয়ে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান ভ‚ঁইয়া রিপন বলেন, কামাল আমার ইউনিয়নেরই ছেলে, তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। গত বছর আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাকে একটি প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছি। তবে কার্ডের সামান্য ভাতায় কামালের চিকিৎসা বা সংসারের ব্যয়ভার বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

ব্রাহ্মণপাড়ার বামন কামালের অন্তহীন জীবনযুদ্ধ

২

দেবীদ্বারে ক্যানসারে আক্রান্ত ৩৮ জনকে সহায়তা

৩

চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা

৪

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী

৫

মেহফিল ই গজলে মুগ্ধ শ্রোতারা

সম্পর্কিত

দেবীদ্বারে ক্যানসারে আক্রান্ত ৩৮ জনকে সহায়তা

দেবীদ্বারে ক্যানসারে আক্রান্ত ৩৮ জনকে সহায়তা

৩ ঘণ্টা আগে
চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা

চৌদ্দগ্রামে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা

৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী

কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন বিএনপি নেতা উদবাতুল বারী

৫ ঘণ্টা আগে
মেহফিল ই গজলে মুগ্ধ শ্রোতারা

মেহফিল ই গজলে মুগ্ধ শ্রোতারা

১ দিন আগে