ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ১২৫ জন নারীর বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ের ইতিহাসে নারীদের জন্য একদিনে এত বড় পরিসরে ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম এই প্রথম। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সাউথ ডিভিশনের উদ্যোগে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ১২৫ জন নারী বিনামূল্যে ক্যান্সার স্ক্রিনিং, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দেশের নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতার অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, যখন চিকিৎসা আর ফলপ্রসূ হয় না। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনে সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে তাদের পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হবে।
সেবা নিতে আসা আরেক নারী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পর্কে তিনি অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন। নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্রামের নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হবেন।
ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে এর চিকিৎসা অনেক সহজ, কার্যকর এবং সফল হয়। তাই শুধু স্ক্রিনিংয়ের মধ্যেই এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়, বরং শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তাই নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডা. হাসিবুর রেজা আরও জানান, এই ক্যাম্পেইন সফল করতে উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরা প্রান্তিক নারীদের কাছে কার্যক্রমের বার্তা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এ সফল আয়োজনের সিংহভাগ কৃতিত্বই তাঁদের।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একদিনে ১২৫ জন নারীর ক্যান্সার স্ক্রিনিং শুধু একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নয়; এটি ব্রাহ্মণপাড়ায় নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তের হার বাড়বে, কমে আসবে মৃত্যুঝুঁকি এবং গ্রামীণ নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একদিনে সর্বোচ্চ ১২৫ জন নারীর বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ের ইতিহাসে নারীদের জন্য একদিনে এত বড় পরিসরে ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম এই প্রথম। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সাউথ ডিভিশনের উদ্যোগে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা ১২৫ জন নারী বিনামূল্যে ক্যান্সার স্ক্রিনিং, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, দেশের নারীদের মধ্যে স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতার অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই সময়মতো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে পারেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে, যখন চিকিৎসা আর ফলপ্রসূ হয় না। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ক্যাম্পেইনে সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হলে তাদের পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও ব্র্যাক ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হবে।
সেবা নিতে আসা আরেক নারী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পর্কে তিনি অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছেন। নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে গ্রামের নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হবেন।
ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ক্যান্সার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা যায়, তবে এর চিকিৎসা অনেক সহজ, কার্যকর এবং সফল হয়। তাই শুধু স্ক্রিনিংয়ের মধ্যেই এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়, বরং শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, স্তন ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। তাই নির্দিষ্ট বয়সের নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্যোগ নারীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডা. হাসিবুর রেজা আরও জানান, এই ক্যাম্পেইন সফল করতে উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকেরা প্রান্তিক নারীদের কাছে কার্যক্রমের বার্তা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এ সফল আয়োজনের সিংহভাগ কৃতিত্বই তাঁদের।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একদিনে ১২৫ জন নারীর ক্যান্সার স্ক্রিনিং শুধু একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নয়; এটি ব্রাহ্মণপাড়ায় নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নিয়মিত এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তের হার বাড়বে, কমে আসবে মৃত্যুঝুঁকি এবং গ্রামীণ নারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।