কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলা বিভাগে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হাসান আজিজুল হক এবং সাহিত্যিক ও সম্পাদক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান স্মরণে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রথম দিনের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম দিনের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজীজ। এছাড়াও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার, বাংলা একাডেমির অফিসার শাহ্ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

সেমিনারে বক্তারা হাসান আজিজুল হকের সাহিত্যকর্ম, দর্শন, মানবতাবোধ ও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে হাসান আজিজুল হক একটি অনন্য নাম; যার সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

প্রথম দিনের সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বিভাগের অধ্যাপক ড. তসলিমা খাতুন। তিনি ‘হাসান আজিজুল হকের ভাষাশৈলী: প্রসঙ্গ রাঢ়বঙ্গের গল্প’ শীর্ষক আলোচনা করেন। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ‘হাসান আজিজুল হকের রাষ্ট্রভাবনার মীমাংসা -অমীমাংস’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, হাসান আজিজুল হক বাংলা সাহিত্যের এমন একজন শক্তিমান লেখক, যিনি মানুষের জীবনসংগ্রাম ও সামাজিক বৈষম্য তাঁর গল্প-উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি কখনো সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য লেখেননি, বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লিখেছেন।

তিনি আরও বলেন, সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্ম থেকে সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও সমাজসচেতনতার শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকিত ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমির উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, এম.এ শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে আমার থিসিসের বিষয় ছিল হাসান আজিজুল হকের গল্প। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ‘পাতালে হাসপাতালে’ গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণের একটি কপি এখনও আমার ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে। একজন পাঠক ও গবেষক হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ।

তিনি আরো বলেন, হাসান আজিজুল হক তাঁর অসাধারণ গল্পশৈলী, মানবজীবনের গভীর উপলব্ধি এবং সমাজবাস্তবতার অনন্য উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে স্থায়ী আসন লাভ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মই তাঁকে আজ সর্বজন পরিচিত ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

সেমিনারের আলোচক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মহীবুল আজিজ বলেন, আমি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলাম। পরবর্তীতে ভালো লাগা ও আগ্রহ থেকেই বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি। আমার বিশ্বাস, কোনো বিষয়ে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অধ্যয়ন করলে এবং সেই বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয় গেলে সফল হওয়া সম্ভব। আজকের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

প্রথম দিনের সেমিনারের সভাপতি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু হাসান আজিজুল হককে স্মরণ করা নয়; বরং তাঁর জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। তিনি জীবনসংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটকে সাহিত্যে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত