সেবা থেকে বঞ্চিত কৃষক
সাইফুল ইসলাম, দাউদকান্দি

কুমিল্লার দাউদকান্দি দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর উপজেলা। প্রায় ২৭ হাজার ৮০২ হেক্টর ফসলি জমিতে বছরজুড়ে কৃষিকাজ করেন ৩৯ হাজার ৬৪৯টি কৃষক পরিবার। ধান, ভুট্টা, গম, পাট, বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল উৎপাদনের মাধ্যমে এ অঞ্চল শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করছে না, জাতীয় খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অথচ এত বড় কৃষি অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ দাউদকান্দির ৪৬টি কৃষি ব্লকের জন্য বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, রোগবালাই দমন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রদর্শনী স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি কৃষি সহায়তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে চলমান কৃষক কার্ড কার্যক্রম। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দাউদকান্দির সীমিত জনবল থেকে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে তিতাস উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে দাউদকান্দিতে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে এত বড় কৃষি এলাকায় সব কৃষকের কাছে সময়মতো পৌঁছে সেবা নিশ্চিত করা বাস্তবিকই কঠিন। প্রায় সারাদেশেই একই ধরনের জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল চালিকাশক্তি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় এসব কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায়, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে চারবার জাতীয় পদক প্রাপ্ত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (এআইপি) অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাই কৃষক ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করেন। তাই কৃষকদের দোরগোড়ায় মানসম্মত কৃষি সেবা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। কৃষক শক্তিশালী হলে কৃষি শক্তিশালী হবে, আর কৃষি শক্তিশালী হলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
একই ধরনের জনবল সংকট বিরাজ করছে পাশের তিতাস উপজেলা কৃষি অফিসেও। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ৪০টি পদের মধ্যে বর্তমানে ২০টি পদ শূন্য। এর মধ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২৭টি পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ১৮টি পদ খালি রয়েছে। ফলে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, দাউদকান্দি ও তিতাসের মতো কৃষিপ্রধান উপজেলায় দীর্ঘদিনের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং পর্যাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ এখন সময়ের দাবি। মাঠপর্যায়ে সময়োপযোগী কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। তাই কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।

কুমিল্লার দাউদকান্দি দেশের অন্যতম কৃষিনির্ভর উপজেলা। প্রায় ২৭ হাজার ৮০২ হেক্টর ফসলি জমিতে বছরজুড়ে কৃষিকাজ করেন ৩৯ হাজার ৬৪৯টি কৃষক পরিবার। ধান, ভুট্টা, গম, পাট, বিভিন্ন শাকসবজি ও ফল উৎপাদনের মাধ্যমে এ অঞ্চল শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করছে না, জাতীয় খাদ্য উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। অথচ এত বড় কৃষি অঞ্চলে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সময়মতো কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভাসহ দাউদকান্দির ৪৬টি কৃষি ব্লকের জন্য বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় একজন কর্মকর্তাকে একাধিক ব্লকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, রোগবালাই দমন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, প্রদর্শনী স্থাপন, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি কৃষি সহায়তা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে চলমান কৃষক কার্ড কার্যক্রম। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য দাউদকান্দির সীমিত জনবল থেকে কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে তিতাস উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে দাউদকান্দিতে মাঠপর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সেবা পৌঁছে দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমিত জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে এত বড় কৃষি এলাকায় সব কৃষকের কাছে সময়মতো পৌঁছে সেবা নিশ্চিত করা বাস্তবিকই কঠিন। প্রায় সারাদেশেই একই ধরনের জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মূল চালিকাশক্তি। উন্নত জাতের বীজ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় এসব কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে কৃষকদের উৎপাদন ব্যবস্থাপনায়, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কৃষি ও পরিবেশ উন্নয়নে চারবার জাতীয় পদক প্রাপ্ত এগ্রিকালচারাল ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (এআইপি) অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাই কৃষক ও আধুনিক প্রযুক্তির মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করেন। তাই কৃষকদের দোরগোড়ায় মানসম্মত কৃষি সেবা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, দক্ষ জনবল বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। কৃষক শক্তিশালী হলে কৃষি শক্তিশালী হবে, আর কৃষি শক্তিশালী হলেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি আরও সুদৃঢ় হবে।
একই ধরনের জনবল সংকট বিরাজ করছে পাশের তিতাস উপজেলা কৃষি অফিসেও। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ৪০টি পদের মধ্যে বর্তমানে ২০টি পদ শূন্য। এর মধ্যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ২৭টি পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ১৮টি পদ খালি রয়েছে। ফলে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান, মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় কৃষকদের মতে, দাউদকান্দি ও তিতাসের মতো কৃষিপ্রধান উপজেলায় দীর্ঘদিনের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং পর্যাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ এখন সময়ের দাবি। মাঠপর্যায়ে সময়োপযোগী কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে। তাই কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই।