ব্যাংক থেকে টাকা তুলে গুনছিলেন গ্রাহক

৪ লাখ টাকা নিয়ে পালাল পাশে থাকা চোর

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
Thumbnail image

ব্যাংক থেকে ৭ লাখ টাকা তুলে সোফায় বসে স্ত্রী, পুত্রবধূকে নিয়ে টাকা গুনে গুনে পেছনে জমা করছিলেন গ্রাহক। হঠাৎ পাশে বসা চোর কৌশলে ৪ লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে। এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল বিকেল ৪ টা ২৫ মিনিটের সময় কুমিল্লার দেবীদ্বারে পূবালী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে। টাকার হিসেব মিলাতে না পেরে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকেন গ্রাহক মো. জাকির হোসেন ও তার পরিবার। টাকা চুরির পর ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেই তিনি নিশ্চিত হন কীভাবে তার টাকা চুরি হয়েছে।

গ্রাহক মো. জাকির হোসেন জানান, তাঁর বাড়ি দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের চানমিয়া সরকার বাড়ি। পিতার নাম প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম। পেশায় তিনি একজন ইলেক্ট্রেশিয়ান। তিনি আরো জানান, পারিবারিক প্রয়োজনে পূবালী ব্যাংক দেবীদ্বার শাখা থেকে ৭ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক তাকে সবগুলো এক লাখ টাকার বান্ডেল না দিয়ে এক হাজার টাকা নোটের ৫টি, ৫ ০০ টাকার ২টি এবং ১০০ টাকার ১০টি বান্ডেল দেন। তখন গ্রাহক আপত্তি জানালেও ব্যাংক ব্যবস্থাপক বলেন, টাকাগুলো গুনে নিন। ছেড়া টাকা আছে কিনা দেখে নিন। তখন ব্যাংকের ভেতরে সোফায় বসে গ্রাহক মো. জাকির হোসেন, তার পুত্রবধূ পলি আক্তার এবং তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মনোযোগসহকারে টাকা গুনছিলেন। প্রথমে এক হাজার টাকার ৪টি বান্ডেল ৪ লাখ টাকা গুনে পেছনে লুকিয়ে রাখেন পরে সবাই বাকি টাকা মনোযোগসহকারে গুনছিলেন। টাকা গুনা শেষে ৭ লাখ টাকার হিসেব না মেলাতে পেরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন।

ওই ঘটনায় রাতেই মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে পূবালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক মো. ওয়ায়েছ মাসুম চৌধূরী জানান, একজন গ্রাহক টাকা উত্তোলন করে গণনায় ব্যাস্ত ছিলেন। টাকা গুনে গুনে পেছনে রাখছেন অথচ ডান-বামে লক্ষ্য করছেন না। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্য কৌশলে ৪ লাখ টাকার ৪ টা বান্ডেল নিয়ে চলে যায়।

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি, সাথে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুযত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত