মিথ্যাচারের অভিযোগ

আসিফের বিরুদ্ধে মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
Thumbnail image

পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে জড়িয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্যের প্রতিবাদে মুরাদনগরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুরাদনগরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে উপজেলা পরিষদ মার্কেট থেকে গতকাল বুধবার বিকেলে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলা চত্বর ও থানা হয়ে পুনরায় উপজেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন করেছিলাম নতুন এক বাংলাদেশ পাব বলে। অথচ আমাদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় গিয়ে আসিফ মাহমুদ দুর্নীতি করে আমাদেরকে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে মুরাদনগরে ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এখন আবার নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে মুরাদনগরের জনপ্রিয় নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে ।

সাবেক মেম্বার ছিনু আক্তার বলেন, আসিফ দুর্নীতিবাজ, এ জন্য নির্বাচনে প্রার্থী হয়নি। সৎ সাহস থাকলে ভোটের মাধ্যমে লড়াই করত। ঢাকায় বসে ষড়যন্ত্র করত না। আমরা মুরাদনগরের মানুষ তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আমরা শুনতে পাচ্ছি খুনিরা আবারো সোচ্চার। ওরা আমাদের মুরাদনগরের অভিভাবক কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তৌহিদুর রহমান বলেন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আসিফ মাহমুদের দেওয়া বক্তব্য কোনো রেফারেন্স ছাড়া, কোনো ব্যাংকের ঋণখেলাপী তাও উল্লেখ করেননি। এমন একজন ব্যক্তি উপদেষ্টা ছিল ভাবতেও রুচিতে বাধে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মুরাদনগরের জননন্দিত নেতা সাধারণ মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ টানা ১৩ বছর বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হন। কারণ মুরাদনগরে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল প্রশ্নাতীত। তিনি এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র শুরু হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে ব্রিকস ফিল্ডে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনাও করা হয়। সেই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন শেখ হাসিনার সহায়তায় তাঁকে ২১ আগস্টের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরে আসার পরও তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি। বর্তমানে এক নব্য ফ্যাসিস্ট ও দুর্নীতিবাজ আসিফ মাহমুদ নিজের অপকর্ম ঢাকতে কায়কোবাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। সে যদি সত্যিই বিপ্লবী হতো, তাহলে কখনো দুর্নীতিতে জড়াত না। গতকাল আসিফ মাহমুদ এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে একটি মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে কায়কোবাদকে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অপবাদে জড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের সঙ্গে যোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ইউসুফ সোহেল কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। গত ১৭ বছরে ইউসুফ সোহেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি, যা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। সে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে ছিল। এখনো গোপনে তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাচ্ছে।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জামিল বলেন, আমি একটি ব্যক্তিগত কাজে কুমিল্লায় ছিলাম। শুনেছি কয়েকজন লোক জড়ো হয়ে মানববন্ধনের মতো করে কর্মসূচি পালন করেছে। তবে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত