• কুমিল্লা সিটি করপোরেশন
  • কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আদর্শ সদর
  • বরুড়া
  • লাকসাম
  • দাউদকান্দি
  • আরও
    • চৌদ্দগ্রাম
    • সদর দক্ষিণ
    • নাঙ্গলকোট
    • বুড়িচং
    • ব্রাহ্মণপাড়া
    • মনোহরগঞ্জ
    • লালমাই
    • চান্দিনা
    • মুরাদনগর
    • দেবীদ্বার
    • হোমনা
    • মেঘনা
    • তিতাস
  • সর্বশেষ
  • রাজনীতি
  • বাংলাদেশ
  • অপরাধ
  • বিশ্ব
  • বাণিজ্য
  • মতামত
  • খেলা
  • বিনোদন
  • চাকরি
  • জীবনযাপন
  • ইপেপার
  • ইপেপার
facebooktwittertiktokpinterestyoutubelinkedininstagramgoogle
স্বত্ব: ©️ আমার শহর

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. গাজীউল হক ভূঁইয়া ( সোহাগ)।

নাহার প্লাজা, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০

ই-মেইল: [email protected]

ফোন: 01716197760

> কুমিল্লা জেলা
> নাঙ্গলকোট

কুমিল্লা-১০( নাঙ্গলকোট ও লালমাই)

‘অদম্য সাহসী’ গফুর ভূঁইয়া যেভাবে বিএনপির প্রার্থী

পাভেল রহমান, নাঙ্গলকোট
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৪৭
logo

‘অদম্য সাহসী’ গফুর ভূঁইয়া যেভাবে বিএনপির প্রার্থী

পাভেল রহমান, নাঙ্গলকোট

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৪৭
Photo

‘নিজের খাই গফুর ভাই’- কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এই শ্লোগান মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। দলে তাঁর কোন পদ পদবি ছিল না। তাঁর অনুসারীদেরও কোন পদ নেই। কিন্তু তিনি বছরের পর বছর নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। পাড়া- মহল্লা, এবাড়ি ওবাড়ি সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতেন। দলবেঁধে তাঁর পেছনে ছুটতেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রবাসীরা তাঁকে ফোনে সাহস দিতেন। দেশে এসে দেখা করতেন। তাঁদের সন্তানেরা গফুর ভাইয়ের নামে শ্লোগান দিতেন। বাপ ছেলে সবার কাছে তিনি ‘গফুর ভাই’ হিসেবে সমাদৃত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন সংস্থার মাঠ পর্যায়ের জরিপে ঘুরেফিরে মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় আসে। কিন্তু এরপরেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী দুই সমালোচিত মনোনয়ন প্রত্যাশী সিন্ডিকেট করে আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে আটকানোর নানা ধরনের চেষ্টা করে। কিন্তু পরিশ্রমী আবদুল গফুর ভূঁইয়াই দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এদিকে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি রদবদল হয়। নতুন কমিটির নেতা, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা সম্মেলন করতে নাঙ্গলকোটে যান। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, নাঙ্গলকোট উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের ১৪৪ টি ওয়ার্ড ও একটি পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নাম উচ্চারণ করেন। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলনে সবাই গফুর ভূঁইয়াকে চান। উপজেলা সম্মেলন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতা ও জেলা নেতারা বিশাল প্যান্ডেল দেখতে পান। একটি সুশৃঙ্খল সম্মেলন তাঁরা করতে পেরে বলেছেন, জেলা সম্মেলনও এতো সুন্দর হয় না।

নাঙ্গলকোটের বিশিষ্ট আইনজীবী মো. হামিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘নেতৃত্বহীন নাঙ্গলকোটের’ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় গফুর ভূঁইয়া। নাঙ্গলকোটের মানুষ গফুর ভুঁইয়ার দলীয় মনোনয়নের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করেছেন। রোজা রেখেছেন।

পৌরসভার বিএনপি কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন আমরা নির্বাচনী খরচ যোগাতে নিজ উদ্যোগে তহবিলও করছি গফুর ভূঁইয়ার জন্য। ২০০৮ সালের পর নাঙ্গলকোটে কোন নেতৃত্ব ছিল না। কোন উন্নয়ন হয়নি। এমপি -মন্ত্রী ছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। কোন রাস্তা ঠিক ছিল না নাঙ্গলকোটের। টাকা দিয়ে লোটাস কামাল নেতা পালতেন। কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। রাস্তাঘাট সংস্কার করেননি। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রতন সিংহ ছিলেন অঘোষিত এমপি। তিনি, কালু , মালেক ও ইউসুফ মিলে নাঙ্গলকোটের উন্নয়ন থমকে দিয়েছেন। এই কারণে পাবলিক একজন সাহসী নেতা খুঁজেছেন। সেই নেতা হলেন গফুর ভূঁইয়া। তিনি সৎ, সাহসী হওয়ায় নাঙ্গলকোটে সবাই এখন একজোট।

নাঙ্গলকোট হাসানপুর রেলস্টেশন এলাকার অন্তত তিনি জন খুদে ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র গফুর ভূঁইয়া। সাবেক এই শিক্ষার্থী চিন্তা চেতনায়, মেধায় মননে প্রগতিশীল। প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। যে কারণে তাঁকে নাঙ্গলকোটের বাঘ বলা হয়। বাঘ না হলে তিনি কিভাবে নাঙ্গলকোট সদরে লোটাস কামাল ক্ষমতায় থাকাবস্থায় লোটাস চত্বর গুড়িয়ে দেন। নাঙ্গলকোটের জন্য তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা।

দলীয় , মাঠ জরিপ ও তৃণমূলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ দৃঢ় অবস্থানের কারণে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে কুমিল্লা-১০( নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগেও তিনি নাঙ্গলকোটে বিএনপির এমপি ছিলেন। জেল খেটেছেন। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার নাঙ্গলকোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুমিল্লা জেলার ১৭তম উপজেলা লালমাই। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর লালমাই উপজেলা বিএনপি তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছে। তিনি লালমাই উপজেলা বিএনপির একেকজন নেতার বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন দলীয় বড় নেতাদের নিয়ে। সভা করতেন। ২০০-৩০০ লোক নিয়ে ভাত খেতেন। সাংগঠনিক সভা করতেন। সকালে বের হতেন বাড়ি বাড়ি। কর্মীরাই তাঁকে নাস্তা করাতেন।

লালমাই উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আবদুল গফুর ভুঁইয়া স্মার্ট ও চৌকস নেতা। দোর্দণ্ড সাহস তাঁর। দল সত্যিকারের একজন কারা নির্যাতিত , মজলুম, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। আমরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর তৎকালীন কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপি থেকে এমপি হন আব্দুল গফুর ভূঁইয়া। এরপর তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেন। বিএনপি ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই ২০০৬ সালের ১ নভেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খুন হন। তখন গফুর ভুঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। ২০০৭ সালের ৪ মার্চ তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২২ মে আবার আটক হন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে (১৬ ডিসেম্বর ডিবি হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে) গ্রেপ্তার হন। তখন তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আরেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন। দুইজনকে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল কারাগারে পাঠান বলে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার আছে। তাঁদের কারাগারে রেখেই লোটাস কামাল এমপি হন। এ পর্যন্ত কয়েকবার আবদুল গফুর ভূঁইয়া কারাভোগ করেন।

এবার সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা মিলিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। তাঁর মনোনয়নের খবরে পুরো নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সবাই উজ্জীবিত হয়েছেন।

নাঙ্গলকোটের নেতাকর্মীরা বলেছেন, মাদকাসক্ত ও গাঁজা টানা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন সোচ্চার। যে কারণে সৎ, সাহসী মানুষ হিসেবে তাঁরা গফুর ভূঁইয়াকে বেছে নিয়েছেন। নাঙ্গলকোট ও লালমাইয়ের উন্নয়নের জন্য গফুর ভূঁইয়ার দরকার।

জানতে চাইলে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, মাঠের কর্মীরা আমাকে মনোনয়নে সহযোগিতা করেছে। আমি লোটাস চত্বরের অস্তিত্ব রাখিনি। আমাকে কারাগারে নেওয়া হয় কয়েকবার। র‌্যাব দিয়ে হয়রানি করা হয়। আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার করা হয়। কিন্তু কর্মীরা আমাকে ছেড়ে যাননি। আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিবের কাছে কৃতজ্ঞ, আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায়। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা আমাকে দলীয় মনোনয়ন পেতে অসামান্য অবদান রেখেছে। দলীয় পদ ছাড়া আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি শুকর আলহামদুলিল্লাহ। এখন তারেক রহমানকে আসনটি উপহার দিতে চাই। কয়েক লাখ ভোটের ব্যবধানে এখানে ধানের শীষ জিতবে।

Thumbnail image

‘নিজের খাই গফুর ভাই’- কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের এই শ্লোগান মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। দলে তাঁর কোন পদ পদবি ছিল না। তাঁর অনুসারীদেরও কোন পদ নেই। কিন্তু তিনি বছরের পর বছর নির্বাচনী মাঠে ছিলেন। পাড়া- মহল্লা, এবাড়ি ওবাড়ি সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতেন। দলবেঁধে তাঁর পেছনে ছুটতেন দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রবাসীরা তাঁকে ফোনে সাহস দিতেন। দেশে এসে দেখা করতেন। তাঁদের সন্তানেরা গফুর ভাইয়ের নামে শ্লোগান দিতেন। বাপ ছেলে সবার কাছে তিনি ‘গফুর ভাই’ হিসেবে সমাদৃত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন সংস্থার মাঠ পর্যায়ের জরিপে ঘুরেফিরে মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় আসে। কিন্তু এরপরেও বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী দুই সমালোচিত মনোনয়ন প্রত্যাশী সিন্ডিকেট করে আবদুল গফুর ভূঁইয়াকে আটকানোর নানা ধরনের চেষ্টা করে। কিন্তু পরিশ্রমী আবদুল গফুর ভূঁইয়াই দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এদিকে গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি রদবদল হয়। নতুন কমিটির নেতা, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা সম্মেলন করতে নাঙ্গলকোটে যান। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, নাঙ্গলকোট উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নের ১৪৪ টি ওয়ার্ড ও একটি পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নাম উচ্চারণ করেন। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন সম্মেলনে সবাই গফুর ভূঁইয়াকে চান। উপজেলা সম্মেলন করতে গিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতা ও জেলা নেতারা বিশাল প্যান্ডেল দেখতে পান। একটি সুশৃঙ্খল সম্মেলন তাঁরা করতে পেরে বলেছেন, জেলা সম্মেলনও এতো সুন্দর হয় না।

নাঙ্গলকোটের বিশিষ্ট আইনজীবী মো. হামিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘নেতৃত্বহীন নাঙ্গলকোটের’ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় গফুর ভূঁইয়া। নাঙ্গলকোটের মানুষ গফুর ভুঁইয়ার দলীয় মনোনয়নের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করেছেন। রোজা রেখেছেন।

পৌরসভার বিএনপি কর্মী আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন আমরা নির্বাচনী খরচ যোগাতে নিজ উদ্যোগে তহবিলও করছি গফুর ভূঁইয়ার জন্য। ২০০৮ সালের পর নাঙ্গলকোটে কোন নেতৃত্ব ছিল না। কোন উন্নয়ন হয়নি। এমপি -মন্ত্রী ছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। কোন রাস্তা ঠিক ছিল না নাঙ্গলকোটের। টাকা দিয়ে লোটাস কামাল নেতা পালতেন। কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। রাস্তাঘাট সংস্কার করেননি। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা রতন সিংহ ছিলেন অঘোষিত এমপি। তিনি, কালু , মালেক ও ইউসুফ মিলে নাঙ্গলকোটের উন্নয়ন থমকে দিয়েছেন। এই কারণে পাবলিক একজন সাহসী নেতা খুঁজেছেন। সেই নেতা হলেন গফুর ভূঁইয়া। তিনি সৎ, সাহসী হওয়ায় নাঙ্গলকোটে সবাই এখন একজোট।

নাঙ্গলকোট হাসানপুর রেলস্টেশন এলাকার অন্তত তিনি জন খুদে ব্যবসায়ী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র গফুর ভূঁইয়া। সাবেক এই শিক্ষার্থী চিন্তা চেতনায়, মেধায় মননে প্রগতিশীল। প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। যে কারণে তাঁকে নাঙ্গলকোটের বাঘ বলা হয়। বাঘ না হলে তিনি কিভাবে নাঙ্গলকোট সদরে লোটাস কামাল ক্ষমতায় থাকাবস্থায় লোটাস চত্বর গুড়িয়ে দেন। নাঙ্গলকোটের জন্য তিনি এক লড়াকু যোদ্ধা।

দলীয় , মাঠ জরিপ ও তৃণমূলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ দৃঢ় অবস্থানের কারণে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে কুমিল্লা-১০( নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। আগেও তিনি নাঙ্গলকোটে বিএনপির এমপি ছিলেন। জেল খেটেছেন। ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার নাঙ্গলকোটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুমিল্লা জেলার ১৭তম উপজেলা লালমাই। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর লালমাই উপজেলা বিএনপি তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছে। তিনি লালমাই উপজেলা বিএনপির একেকজন নেতার বাড়িতে রাত্রিযাপন করেন দলীয় বড় নেতাদের নিয়ে। সভা করতেন। ২০০-৩০০ লোক নিয়ে ভাত খেতেন। সাংগঠনিক সভা করতেন। সকালে বের হতেন বাড়ি বাড়ি। কর্মীরাই তাঁকে নাস্তা করাতেন।

লালমাই উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আবদুল গফুর ভুঁইয়া স্মার্ট ও চৌকস নেতা। দোর্দণ্ড সাহস তাঁর। দল সত্যিকারের একজন কারা নির্যাতিত , মজলুম, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন নেতাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। আমরা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর তৎকালীন কুমিল্লা-১১ (নাঙ্গলকোট) আসনে বিএনপি থেকে এমপি হন আব্দুল গফুর ভূঁইয়া। এরপর তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেন। বিএনপি ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই ২০০৬ সালের ১ নভেম্বর নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খুন হন। তখন গফুর ভুঁইয়াসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। ২০০৭ সালের ৪ মার্চ তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২২ মে আবার আটক হন। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে (১৬ ডিসেম্বর ডিবি হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে) গ্রেপ্তার হন। তখন তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আরেক বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন। দুইজনকে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল কারাগারে পাঠান বলে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার আছে। তাঁদের কারাগারে রেখেই লোটাস কামাল এমপি হন। এ পর্যন্ত কয়েকবার আবদুল গফুর ভূঁইয়া কারাভোগ করেন।

এবার সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা মিলিয়ে কুমিল্লা-১০ আসন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। তাঁর মনোনয়নের খবরে পুরো নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সবাই উজ্জীবিত হয়েছেন।

নাঙ্গলকোটের নেতাকর্মীরা বলেছেন, মাদকাসক্ত ও গাঁজা টানা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন সোচ্চার। যে কারণে সৎ, সাহসী মানুষ হিসেবে তাঁরা গফুর ভূঁইয়াকে বেছে নিয়েছেন। নাঙ্গলকোট ও লালমাইয়ের উন্নয়নের জন্য গফুর ভূঁইয়ার দরকার।

জানতে চাইলে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া বলেন, মাঠের কর্মীরা আমাকে মনোনয়নে সহযোগিতা করেছে। আমি লোটাস চত্বরের অস্তিত্ব রাখিনি। আমাকে কারাগারে নেওয়া হয় কয়েকবার। র‌্যাব দিয়ে হয়রানি করা হয়। আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার করা হয়। কিন্তু কর্মীরা আমাকে ছেড়ে যাননি। আমি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিবের কাছে কৃতজ্ঞ, আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায়। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা আমাকে দলীয় মনোনয়ন পেতে অসামান্য অবদান রেখেছে। দলীয় পদ ছাড়া আমি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছি শুকর আলহামদুলিল্লাহ। এখন তারেক রহমানকে আসনটি উপহার দিতে চাই। কয়েক লাখ ভোটের ব্যবধানে এখানে ধানের শীষ জিতবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১

ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

২

দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে বাস মালিক গ্রেপ্তার

৩

হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়েই কুমিল্লা-২ আসন, সীমানা নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল

৪

এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে : ড. সায়মা

৫

কুমিল্লাস্থ বরুড়া উপজেলা উন্নয়ন সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল সম্পাদক জাহিদ

সম্পর্কিত

ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

৭ ঘণ্টা আগে
দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে বাস মালিক গ্রেপ্তার

দাউদকান্দিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে বাস মালিক গ্রেপ্তার

১২ ঘণ্টা আগে
হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়েই কুমিল্লা-২ আসন,  সীমানা নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল

হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়েই কুমিল্লা-২ আসন, সীমানা নিয়ে ইসির সিদ্ধান্ত বহাল

১২ ঘণ্টা আগে
এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে : ড. সায়মা

এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত দিয়েছে : ড. সায়মা

১৫ ঘণ্টা আগে