রুমি নাজমুল, তিতাস

কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদী সংলগ্ল আসমানিয়া বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের পাইপ বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ করায় এলাকা দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছেন জয়নাল আবেদিন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর বাঁ তীরের বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ‘১৯৯৬ সালে তিতাসের আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন জোয়ার গোবিন্দপুর এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৯ শতক জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে মাত্র ৯ শতক জমির ওপর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং অবশিষ্ট ১০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে পতিত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে এসব জায়গায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশাপাশি বাকি জাগয়ায় দোকানঘর করে দখল করা হয়। খলিলাবাদ গ্রামের পাশের খাল থেকে বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে একটি পাইপ ছিল। যা দিয়ে ওই এলাকার পানি গোমতীতে পড়তো। বর্তমানে এটি বন্ধ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক গ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ ও ২০২০ সালে দুই দফা নোটিশ প্রদান এবং উচ্ছেদের জন্য দরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তৎকালীন সরকারের সময় দখলকারীদের বাধার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোমতী নদীর চলামান আসমানিয়া বাজার সেতুর পূর্বপাশ থেকে বেড়িবাঁধের অংশের পাউবোর জায়গা দখল করে বিশাল এলাকায় দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানপাটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী অফিসও আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান খোকা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সালাহউদ্দিন ও তাদের আত্মীয়স্বজন এগুলো দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। প্রায় এইসব দোকানপাট পজিশন হস্তান্তরের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের আবেদনকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী বেড়িবাঁধের জন্য পাউবো আমাদের থেকে জায়গা অধিগ্রহণ করেছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর অবশিষ্ট ১০ শতক জমি আমার ছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেছে এবং ভাড়া দিয়ে আসছে। এতে বেড়িবাঁধের অপরপ্রান্তে থাকা ফসলি জমিগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। ২০১৬ ও ২০২০ সালে দুইদফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তৎকালীন স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপে পরে তা আর হয়নি। পাউবোর জায়গায় আমার কোনো দোকান নেই। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে চাই জায়গাগুলো দখলমুক্ত হোক। আমার ভাইয়ের নামে দুটি দোকান আছে; তবে এতে আমার কোন হাত নেই। সকলের যে গতি হবে তারও সেই গতি হবে।
বর্তমান নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান খোকা বলেন, পাউবো যাদের কাছ থেকে জায়গা অধিগ্রহণ করেছে আমি খালি জায়গাগুলো তাদের কাছ থেকে পজিশন হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দরকার হয়, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আমার দখল ছেড়ে দেব।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে গিয়ে আমাদের জায়গা দখল করে যারা দোকানপাট নির্মাণ করেছে সেগুলো সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সহযোগিতায় সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেব। গত দুই বছর আগে বাজারের পূর্বপাশের খালটি আমরা খনন করেছিলাম। জায়গাগুলো ভরাটের কারণে তা কাজে আসছে না।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে রাজস্ব কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে দিয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন জানান, আবেদনের অনুলিপি পেয়েছি। উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে। সেক্ষেত্রে স্যার আমাদের দায়িত্ব দিলে অবশ্যই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সহযোগিতা করব।

কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদী সংলগ্ল আসমানিয়া বাজার এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পানি নিষ্কাশনের পাইপ বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ করায় এলাকা দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেছেন জয়নাল আবেদিন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর বাঁ তীরের বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ‘১৯৯৬ সালে তিতাসের আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন জোয়ার গোবিন্দপুর এলাকার ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৯ শতক জমি পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহণ করে। তবে অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে মাত্র ৯ শতক জমির ওপর বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয় এবং অবশিষ্ট ১০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে পতিত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে এসব জায়গায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিস ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের পাশাপাশি বাকি জাগয়ায় দোকানঘর করে দখল করা হয়। খলিলাবাদ গ্রামের পাশের খাল থেকে বেড়িবাঁধের ভেতর দিয়ে একটি পাইপ ছিল। যা দিয়ে ওই এলাকার পানি গোমতীতে পড়তো। বর্তমানে এটি বন্ধ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক গ্রামের জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়েছে। জনস্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬ ও ২০২০ সালে দুই দফা নোটিশ প্রদান এবং উচ্ছেদের জন্য দরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও তৎকালীন সরকারের সময় দখলকারীদের বাধার কারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোমতী নদীর চলামান আসমানিয়া বাজার সেতুর পূর্বপাশ থেকে বেড়িবাঁধের অংশের পাউবোর জায়গা দখল করে বিশাল এলাকায় দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানপাটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী অফিসও আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আরিফুজ্জামান খোকা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সালাহউদ্দিন ও তাদের আত্মীয়স্বজন এগুলো দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছে। প্রায় এইসব দোকানপাট পজিশন হস্তান্তরের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের আবেদনকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী বেড়িবাঁধের জন্য পাউবো আমাদের থেকে জায়গা অধিগ্রহণ করেছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর অবশিষ্ট ১০ শতক জমি আমার ছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ওই জমি দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করেছে এবং ভাড়া দিয়ে আসছে। এতে বেড়িবাঁধের অপরপ্রান্তে থাকা ফসলি জমিগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। ২০১৬ ও ২০২০ সালে দুইদফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।’
নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর কথা ছিল। তৎকালীন স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপে পরে তা আর হয়নি। পাউবোর জায়গায় আমার কোনো দোকান নেই। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে চাই জায়গাগুলো দখলমুক্ত হোক। আমার ভাইয়ের নামে দুটি দোকান আছে; তবে এতে আমার কোন হাত নেই। সকলের যে গতি হবে তারও সেই গতি হবে।
বর্তমান নারান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি মো. আরিফুজ্জামান খোকা বলেন, পাউবো যাদের কাছ থেকে জায়গা অধিগ্রহণ করেছে আমি খালি জায়গাগুলো তাদের কাছ থেকে পজিশন হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেছি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা দরকার হয়, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় আমার দখল ছেড়ে দেব।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে গিয়ে আমাদের জায়গা দখল করে যারা দোকানপাট নির্মাণ করেছে সেগুলো সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সহযোগিতায় সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেব। গত দুই বছর আগে বাজারের পূর্বপাশের খালটি আমরা খনন করেছিলাম। জায়গাগুলো ভরাটের কারণে তা কাজে আসছে না।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে রাজস্ব কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনকে দিয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া মমিন জানান, আবেদনের অনুলিপি পেয়েছি। উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবে। সেক্ষেত্রে স্যার আমাদের দায়িত্ব দিলে অবশ্যই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সহযোগিতা করব।