দক্ষিণ আকালিয়া খালের ওপর সেতু

তিতাসে সিসি ব্লক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

তিতাস প্রতিনিধি
Thumbnail image

তিতাসের বাতাকান্দি-রায়পুর সড়কের দক্ষিণ আকালিয়া খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য সিসি ব্লক নির্মাণে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেতুর পুরনো ভাঙা গার্ডার থেকে সংগৃহীত সিমেন্ট মিশ্রিত পাথর ব্যবহার করে নিম্নমানের সিসি ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যে ওই সিসি ব্লক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। সেতুতে নকশা বহির্ভূত কাজ করায় গত বছরের অক্টোবর মাসে জেলা নিবাহী প্রকৌশলী ত্রুটিপূর্ণ সেতুর গার্ডারের স্থানটি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের বাতাকান্দি-রায়পুর সড়কের দক্ষিণ আকালিয়া খালের ওপর ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দে ২৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থ একটি নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। খালের ওপর অধর্শত বছরের পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২২ মার্চ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মেসার্স আর আর কনস্ট্রাকশন। পরবর্তীতে গত ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও এখনও অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ হয়নি। তবে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিমপাশের দক্ষিণ ও উত্তর পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ভাঙা গার্ডারের পুরনো কংক্রিট। সেই কংক্রিট ভেঙে পাওয়া পাথর না ধুয়ে সিসি ব্লক তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ব্লকের ভেতরে সিমেন্টের পুরনো আস্তরণ থাকায় নতুন কংক্রিটের সঙ্গে ঠিকমতো বন্ধন সৃষ্টি হচ্ছে না। রাস্তার অপরপ্রান্তে ভাঙা গার্ডারের পুরনো কংক্রিট রাখা হয়েছে। তবে কাজ চলাকালীন উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের তদারকির দায়িত্বে থাকা কাউকে দেখা যায়নি।

বাতাকান্দি গ্রামের মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা দিচ্ছে মানুষের সুবিধার জন্য, আর ঠিকাদার পুরনো ভাঙা পাথর দিয়ে কাজ করছে। এটা কি উন্নয়ন, না লুটপাট?

নির্মাণ শ্রমিক মনির হোসেন জানান, এই ব্লকগুলো নির্মাণের জন্য সিঙ্গেল চিপস পাথর ধরা রয়েছে কিন্তু এই মুহূর্তে এই পাথর সিলেটে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন গাডার ভাঙার পাথর দিয়ে ব্লক বানানো হচ্ছে, তবে এগুলো শক্তিশালী, ভালো পাথর। যদিও সিমেন্ট ব্যবহার হয়েছে তাতে সমস্যা নেই।

মেসার্স আর আর কনস্ট্রকশনের স্বত্বাধিকারী মুকুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী ঠিকাদার জিএম আনিছুর রহমান জুয়েল জানান, আমি ইঞ্জিনিয়ার স্যারের অনুমোদন নিয়ে গার্ডার ভাঙা পাথর দিয়ে ব্লক বানাচ্ছি, পাথর ব্যবহৃত হলেও শক্তিশালী। যেগুলো ধরা ছিল তারচেয়ে শক্তিশালী এগুলো। এই পাথরগুলোই ব্রিজে গার্ডারে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে যেগুলো ধরা ছিল সেগুলো এর চেয়ে ছোট পাথর।

তিতাস উপজেলার প্রকৌশলী মো. খোয়াজুর রহমান বলেন, এই পাথরগুলো ভালো তাই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অফিসিয়ালি আমি অনুমতি দিইনি। ভালো হবে তাই ব্যবহার করতে বলেছি ঠিকাদারকে।

এ ধরনের ব্যবহৃত পাথর ব্যবহার করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ব্যবহার করা যায় না। পাথরগুলো ভালো হওয়ার কারণে আমি ব্যবহার করতে বলেছি, তবে এখানে নতুন পাথর ধরা ছিল।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত