তিতাসে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ

থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের

তিতাস প্রতিনিধি
Thumbnail image

কুমিল্লার তিতাসের মানিককান্দি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারির জেরে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুকবুল হোসেন বাদী হয়ে ৩১ জনের নামে এবং একই ঘটনায় ফাহিম মোল্লা বাদী হয়ে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দাখিল করে।

জানা যায়, মানিককান্দি গ্রামের ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপ এবং একই গ্রামের সাবেক মেম্বার আওয়ামী লীগের অনুসারী সাইফুল ইসলাম গ্রুপের বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন। গত ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সাইফুল মেম্বার গ্রুপের এবং আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপের লোকজনের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আবুল হোসেন মোল্লা গ্রুপের ২ জন আহত হয়। এই কারণে আবুল হোসেন মোল্লার লোকজন মানিককান্দি গ্রামের সাইফুল মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে অস্থায়ী বিএনপির অফিস ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অপরপক্ষ তা অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

এক অভিযোগকারী মো. মুকবুল হোসেন বলেন, কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়ার নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটি গঠন করার জন্য ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জগতপুর যাই, সেখানে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টায় বাড়ি ফেরার পথে জগতপুর মাদ্রাসার কাছে আসলে আবু মোল্লা গ্রুপের শাকিল নামের এক যুবক আমার বড় ভাই মোকাররমকে হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ওখান থেকে দৌড়ে গিয়ে আবু মোল্লার ছেলে এসহাক মোল্লা ও আশিকের নেতৃত্বে আমাদের মানিককান্দি গ্রামের বিএনপির অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার আমি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছি।

আরেক অভিযোগকারী মো. এসহাক মোল্লা জুয়েল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আমাদের কিছু লোকজন চটপটি খেতে চকের বাড়ির সামনের দোকানে গেলে মোকাররম ও তার লোকজন আমার ভাই রিয়াজুল মোল্লা ও ফাহিম মোল্লাকে জহির হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেয় এবং না তুললে আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং তারা আমাদের দুইজনকে আহত করে। ওই ঘটনায় ফাহিম মোল্লা বাদী হয়ে ৭জনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে আমাদের বিরুদ্ধে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ তুলেছে। আমি এ ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উক্ত এলাকায় দুটি গ্রুপের মতবিরোধ রয়েছে। সেহেতু বিষয়টি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সম্পর্কিত